শনিবার
২৩ মে ২০২৬, ৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শনিবার
২৩ মে ২০২৬, ৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মসজিদে নববীর ইমামের হৃদয়ছোঁয়া আহ্বান

এনপিবি ডেস্ক
প্রকাশ : ২৩ মে ২০২৬, ০৭:৫১ পিএম
ছবি সংগৃহীত
expand
ছবি সংগৃহীত

হজ শুধু ভ্রমণ নয়, এটি আত্মশুদ্ধি, ত্যাগ এবং মহান আল্লাহর প্রতি পূর্ণ আত্মসমর্পণের এক মহিমান্বিত ইবাদত। প্রতি বছর বিশ্বের লাখো মুসলমান এই পবিত্র ইবাদত পালনের জন্য মক্কায় সমবেত হন। এ সময় মুসল্লিদের মধ্যে তৈরি হয় গভীর আধ্যাত্মিক অনুভূতি ও ধর্মীয় আবেগ।

এমন পবিত্র পরিবেশে হজযাত্রীদের ঝগড়া-বিবাদ, অনর্থক বিতর্ক ও বিশৃঙ্খলা থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন মসজিদে নববীর ইমাম ও খতিব শায়খ আবদুল্লাহ আল-বুয়াইজান।

শুক্রবার (২২ মে) জুমার খুতবায় তিনি হজের গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা তুলে ধরেন। খুতবায় তিনি বলেন, হজের সময় একজন মুসলমানের উচিত নিজেকে পুরোপুরি আল্লাহর কাছে সমর্পণ করা এবং নবী করিম (সা.)-এর সুন্নাহ অনুসরণ করে একনিষ্ঠভাবে ইবাদতে মনোযোগী থাকা।

তিনি হজের আরকান, আহকাম এবং এ সময় নিষিদ্ধ কাজগুলো সম্পর্কেও আলোচনা করেন। একই সঙ্গে সতর্ক করে বলেন, দুনিয়াবি ঝগড়া, তর্ক-বিতর্ক ও অনর্থক কথাবার্তা যেন হজের পবিত্রতা ও ইবাদতের একাগ্রতা নষ্ট না করে।

খুতবার শেষে তিনি হজযাত্রীদের ধৈর্য, সৌহার্দ্য ও সংযম বজায় রেখে শান্তিপূর্ণভাবে ইবাদত পালনের আহ্বান জানান।

এ প্রসঙ্গে পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তাআলা বলেন—

الْحَجُّ أَشْهُرٌ مَعْلُومَاتٌ ۚ فَمَنْ فَرَضَ فِيهِنَّ الْحَجَّ فَلَا رَفَثَ وَلَا فُسُوقَ وَلَا جِدَالَ فِي الْحَجِّ

‘হজের নির্ধারিত কয়েকটি মাস রয়েছে। যে ব্যক্তি এ মাসগুলোতে হজ পালন করার সংকল্প করবে, সে হজের মধ্যে অশ্লীলতা, পাপাচার ও ঝগড়া-বিবাদে লিপ্ত হবে না।’ (সুরা আল-বাকারা: আয়াত ১৯৭)

সরকারি নির্দেশনা মানার ওপর গুরুত্বারোপ

সরকারি নির্দেশনার বিষয়ে মসজিদে নববীর ইমাম বলেন, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দেওয়া হজের নিয়মকানুন ও শৃঙ্খলা মেনে চলা প্রত্যেক হজযাত্রীর জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

তার ভাষায়, এটি শুধু প্রশাসনিক বা আইনি বাধ্যবাধকতা নয়; বরং মানুষের জানমাল রক্ষা, নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং বিশৃঙ্খলা প্রতিরোধের স্বার্থে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ ইবাদতের অংশ।

তিনি হজযাত্রীদের ধৈর্য, শৃঙ্খলা ও পারস্পরিক সহমর্মিতা বজায় রাখারও আহ্বান জানান।

জিলহজের প্রথম ১০ দিনের ফজিলত

খুতবার শেষাংশে শায়খ আল-বুয়াইজান জিলহজ মাসের প্রথম দশ দিনের গুরুত্ব ও ফজিলত তুলে ধরেন। তিনি এসব দিনকে অত্যন্ত বরকতময় উল্লেখ করে বেশি বেশি নামাজ, রোজা, দান-সদকা ও জিকির করার আহ্বান জানান।

রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন—

مَا مِنْ أَيَّامٍ الْعَمَلُ الصَّالِحُ فِيهَا أَحَبُّ إِلَى اللَّهِ مِنْ هَذِهِ الْأَيَّامِ

‘এমন কোনো দিন নেই, যাতে নেক আমল আল্লাহর কাছে জিলহজের প্রথম দশ দিনের আমলের চেয়ে বেশি প্রিয়।’ (বুখারি ৯৬৯)

তিনি মুসলিম উম্মাহকে এই সময়গুলোকে আত্মশুদ্ধি ও আধ্যাত্মিক উন্নতির সুবর্ণ সুযোগ হিসেবে কাজে লাগানোর আহ্বান জানান।

হজ মানুষের জীবনে এক মহিমান্বিত পরিবর্তনের নাম। এখানে অহংকার, বিতর্ক ও দুনিয়াবি দ্বন্দ্বের কোনো স্থান নেই। বরং ধৈর্য, আত্মসংযম, ভ্রাতৃত্ববোধ ও আল্লাহর প্রতি একনিষ্ঠ আত্মসমর্পণই হজের প্রকৃত সৌন্দর্য।

মসজিদে নববীর ইমামের এই দিকনির্দেশনা শুধু হজযাত্রীদের জন্য নয়, বরং পুরো মুসলিম উম্মাহর জন্যই একটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা— ইবাদতের প্রকৃত সৌন্দর্য তখনই ফুটে ওঠে, যখন হৃদয় হয় বিনয়ী, জিহ্বা হয় সংযত এবং অন্তর থাকে আল্লাহমুখী।

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন