শনিবার
২৩ মে ২০২৬, ৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শনিবার
২৩ মে ২০২৬, ৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নতুন মহামারির শঙ্কা, কড়া সতর্কবার্তা ডব্লিউএইচওর

এনপিবি ডেস্ক
প্রকাশ : ২৩ মে ২০২৬, ১০:১৯ এএম
ছবি: সংগৃহীত
expand
ছবি: সংগৃহীত

আফ্রিকার দেশ গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র কঙ্গো ও উগান্ডায় বর্তমানে ইবোলা ভাইরাসের মারাত্মক প্রার্দুভাব দেখা দিয়েছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) পরিস্থিতিকে ‘জনস্বাস্থ্যবিষয়ক আন্তর্জাতিক জরুরি অবস্থা’ হিসেবে বিবেচনা করছে। রোগটি বন্যপ্রাণী থেকে মানুষের মাঝে ছড়াচ্ছে। সংক্রামিত ব্যক্তি শারীরিক তরল বা দূষিত বস্তুর মাধ্যমে দ্রুত বিস্তার লাভ করছে।

ইবোলা সংক্রমিত হয়ে এখন পর্যন্ত আফ্রিকায় প্রায় ২০০ জনের মৃত্যু হয়েছে। আক্রান্তের সংখ্যা ৬০০ ছুঁইছুঁই। ইবোলার ভয়ে সতর্কতা জারি করেছে ভারতও। উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ আফ্রিকান দেশগুলো থেকে আগত যাত্রীদের জন্য স্ক্রিনিং ও কোয়ারেন্টাইন নির্দেশিকা দেওয়া হয়েছে। সতর্কতা হিসেবে কিছু আন্তর্জাতিক সম্মেলনও স্থগিত করা হয়েছে।

উদ্বেগজনক এই পরিস্থিতে ইবোলা নতুন মহামারি আকার ধারণ করতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। তাই আফ্রিকায় ইবোলার প্রাদুর্ভাবের ঝুঁকিকে খাটো করে না দেখার পরামর্শ দিয়েছেন বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) আঞ্চলিক পরিচালক মোহাম্মদ ইয়াকুব জানাবি। তিনি বলেছেন, এই প্রাদুর্ভাবকে খাটো করে দেখাটা ভুল হবে।

শুক্রবার (২২ মে) জেনেভায় ডব্লিউএইচওর সদর দপ্তরে রয়টার্সকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি সতর্ক করে বলেন, মাত্র একটি ঘটনাই গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র কঙ্গো ও উগান্ডার বাইরে ভাইরাসটি ছড়িয়ে দিতে পারে।

মোহাম্মদ ইয়াকুব জানাবি বলেন, ইবোলার প্রাদুর্ভাবকে অবমূল্যায়ন করা অনেক বড় ভুল হবে। বিশেষ করে বুন্দিবুগিও স্ট্রেইনের এই ভাইরাসের ক্ষেত্রে এমনটা করলে ভয়াবহ পরিস্থিতি হতে পারে। এই রোগের কোনো টিকা আমাদের কাছে নেই। আমি সবাইকে আন্তরিকভাবে উৎসাহিত করব, আসুন আমরা একে অপরকে সাহায্য করি, তাহলে আমরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পারব।

ডব্লিউএইচওর এই ‍আফ্রিকান পরিচালক আরও বলেন, চলতি মাসের হান্টাভাইরাস প্রাদুর্ভাবের তুলনায় কঙ্গোতে ইবোলার প্রাদুর্ভাব তুলনামূলক কম বৈশ্বিক মনোযোগ পেয়েছে। হান্টাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রসহ ২৩টি দেশের প্রমোদতরির যাত্রীরা। ইঁদুর থেকে ছড়ানো এই ভাইরাসে এখন পযন্ত অন্তত তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। আক্রান্তের সংখ্যা শতাধিক।

এদিকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ডব্লিউএইচও কঙ্গো ও উগান্ডাকে অবিলম্বে জরুরি অপারেশন সেন্টার খোলার পরামর্শ দিয়েছে। এর মাধ্যমে আক্রান্তদের সন্ধান (ট্রেস) করা এবং সংক্রমণ প্রতিরোধের ব্যবস্থাগুলো পর্যবেক্ষণ করা হবে।

স্বাস্থ্য সংস্থাটি জানিয়েছে, রোগ ছড়ানো বন্ধ করতে নিশ্চিত হওয়া রোগীদের দ্রুত আলাদা বা আইসোলেশনে রেখে চিকিৎসা দিতে হবে। অন্তত ৪৮ ঘণ্টার ব্যবধানে করা দুটি ‘বুন্দিবুগিও’ ভাইরাস পরীক্ষার ফলাফল নেগেটিভ না আসা পর্যন্ত রোগীকে ছাড়পত্র দেওয়া যাবে না।

সীমান্তবর্তী দেশগুলোকে নজরদারি বাড়ানোর নির্দেশ দেওয়া হলেও, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা আক্রান্ত অঞ্চলের বাইরের দেশগুলোকে সীমান্ত বন্ধ না করার বা বাণিজ্য ও ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা না দেওয়ার অনুরোধ করেছে।

১৯৭৬ সালে বর্তমান কঙ্গোতেই প্রথম ইবোলা ভাইরাস আবিষ্কৃত হয়েছিল। ধারণা করা হয় এটি বাদুড় থেকে মানুষের শরীরে ছড়িয়েছিল। এটি ডিআর কঙ্গোতে ইবোলার ১৭তম প্রাদুর্ভাব।

আক্রান্ত ব্যক্তির শরীরের তরল পদার্থ বা চামড়ার কাটা অংশ দিয়ে এই ভাইরাস ছড়ায়। এর ফলে শরীরে তীব্র রক্তক্ষরণ ও অঙ্গ বিকল হতে পারে। প্রাথমিক লক্ষণের মধ্যে রয়েছে জ্বর, পেশিব্যথা, ক্লান্তি, মাথাব্যথা ও গলাব্যথা। পরবর্তীতে তা বমি, ডায়রিয়া, চামড়ায় ফুসকুড়ি ও রক্তক্ষরণে রূপ নেয়। ইবোলার কোনো সুনির্দিষ্ট নিরাময় নেই এবং এতে মৃত্যুর গড় হার প্রায় ৫০ শতাংশ।

আফ্রিকা সিডিসির নির্বাহী পরিচালক ডক্টর জিন কাসেয়া জানিয়েছেন, রামপারা, বুনিয়া ও মংওয়ালুর খনি অঞ্চলে ঘনবসতি এবং মানুষের ব্যাপক চলাচলের কারণে আঞ্চলিক সমন্বয়ের মাধ্যমে এটি মোকাবিলা করা জরুরি।

গত ৫০ বছরে আফ্রিকায় ইবোলায় প্রায় ১৫ হাজার মানুষ মারা গেছেন। এর মধ্যে কঙ্গোতে ২০১৮ থেকে ২০২০ সালের প্রাদুর্ভাবে সবচেয়ে বেশি, প্রায় ২ হজিরি ৩০০ মানুষের মৃত্যু হয় এবং গত বছরও এক অঞ্চলে ৪৫ জন প্রাণ হারিয়েছেন।

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন