

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


দখলদার ইসরায়েলি বাহিনীর কড়া বিধিনিষেধের কারণে টানা চতুর্থ সপ্তাহেও জেরুজালেমের পবিত্র আল-আকসা মসজিদে জুমার নামাজ আদায় করতে পারেননি ফিলিস্তিনি মুসল্লিরা। ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে ইরানের বিরুদ্ধে ইসরায়েলের হামলা শুরু হওয়ার পর থেকেই মসজিদটি সম্পূর্ণভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে।
শুক্রবার (২৭ মার্চ) জুমার নামাজকে ঘিরে জেরুজালেমের পুরনো শহর এবং আল-আকসা মসজিদের প্রবেশপথগুলোতে বিপুল সংখ্যক পুলিশ মোতায়েন করে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ। এ সময় সাধারণ মুসল্লিদের মসজিদে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি। এমনকি মসজিদের আশপাশের সড়কে নামাজ আদায়ের চেষ্টা করলে অনেক ফিলিস্তিনি মুসল্লি পুলিশি বাধার মুখে পড়েন।
ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষের দাবি, ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর দেশটির হোম ফ্রন্ট কমান্ড জনসমাগম এড়াতে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সেই নির্দেশনার আওতায় আল-আকসা মসজিদ বন্ধ রাখা হয়েছে। বর্তমানে কেবল ওয়াকফ দপ্তরের অল্প কয়েকজন কর্মচারী ও নিরাপত্তারক্ষী ছাড়া অন্য কেউ সেখানে প্রবেশের অনুমতি পাচ্ছেন না।
শুধু আল-আকসা নয়, খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম পবিত্র স্থান ‘চার্চ অফ দ্য হলি সেপালকার’ বা কিয়ামা গির্জাও বন্ধ রাখা হয়েছে বলে জানা গেছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সালাহউদ্দিন স্ট্রিটসহ পুরনো শহরের আশপাশের এলাকায় রাস্তায় নামাজ পড়ার চেষ্টা করলে ইসরায়েলি পুলিশ মুসল্লিদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। ওয়াদি হিলওয়াহ ইনফরমেশন সেন্টারের তথ্য অনুযায়ী, পুলিশি বাধার কারণে অনেকেই সরে যেতে বাধ্য হন। তবে সিলওয়ান শহরের রাস আল-আমুদ এলাকায় কিছু মুসল্লি রাস্তাতেই জুমার নামাজ আদায় করেন।
এদিকে আল-আকসায় প্রবেশ করতে না পেরে স্থানীয় ফিলিস্তিনিরা জেরুজালেমের ছোট ছোট মসজিদগুলোতে ভিড় করছেন।
ইসরায়েলি সরকার সম্প্রতি জরুরি অবস্থার মেয়াদ আগামী এপ্রিলের মাঝামাঝি পর্যন্ত বাড়িয়েছে। এর ফলে ফিলিস্তিনিরা এবার তারাবি ও ঈদুল ফিতরের নামাজও আল-আকসায় পড়তে পারেননি। ১৯৬৭ সালে পূর্ব জেরুজালেম দখলের পর এই প্রথম এমন নজিরবিহীন ও দীর্ঘমেয়াদী নিষেধাজ্ঞার মুখে পড়ল পবিত্র এই মসজিদ। আরব ও মুসলিম দেশগুলোর তীব্র নিন্দা সত্ত্বেও ইসরায়েল তাদের অবস্থানে অনড় রয়েছে।
এদিকে এক বিবৃতিতে ফিলিস্তিনি প্রতিরোধ আন্দোলন হামাস জানিয়েছে, এপ্রিলের মাঝামাঝি পর্যন্ত আল-আকসা বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত মূলত একটি গভীর ষড়যন্ত্র। তাদের দাবি, নিরাপত্তার অজুহাতে ইসরায়েল আসলে পবিত্র এই স্থানটিকে মুসল্লিশূন্য করতে চায়। এখানে ইহুদি বসতি স্থাপনকারীদের প্রবেশ নির্বিঘ্ন করতে ও আল-আকসাকে পুরোপুরি নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিতে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে তারা।
হামাস আরও বলেছে, এই পদক্ষেপ মুসলিম উম্মাহর আকিদা ও বিশ্বাসের ওপর সরাসরি আঘাত। আসন্ন হিব্রু উৎসবগুলোর সময় ইহুদি কট্টরপন্থীদের বড় ধরনের অনুপ্রবেশের আশঙ্কা প্রকাশ করে ফিলিস্তিনিদের প্রতি আল-আকসার দিকে দলে দলে অগ্রসর হওয়ার ও সাধ্যমতো প্রতিরোধের ডাক দিয়েছে সংগঠনটি।
মন্তব্য করুন
