শনিবার
২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১৬ ফাল্গুন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শনিবার
২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১৬ ফাল্গুন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

যে কারণে খামেনিই ‘টার্গেটে’

এনপিবি ডেস্ক
প্রকাশ : ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৮:৪০ পিএম
আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি। ছবি: সংগৃহীত
expand
আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি। ছবি: সংগৃহীত

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল যৌথভাবে আবারও ইরান–এর রাজধানী তেহরানের বিভিন্ন স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে বলে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়েছে। এ ঘটনার পর ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে চলমান কূটনৈতিক আলোচনা নতুন করে অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। একই সঙ্গে দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিকে ঘিরেও নতুন করে জল্পনা শুরু হয়েছে।

প্রতিবেদনগুলোতে বলা হয়েছে, খামেনির কার্যালয় ও আবাসিক কমপ্লেক্সসংলগ্ন এলাকাতেও বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। এতে প্রশ্ন উঠেছে, কেন তাকে সম্ভাব্য লক্ষ্য হিসেবে দেখা হচ্ছে এবং ইরানের ক্ষমতার কাঠামোয় তার ভূমিকা কতটা গুরুত্বপূর্ণ।

৮৬ বছর বয়সী খামেনি ১৯৮৯ সাল থেকে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি ইসলামি প্রজাতন্ত্রের প্রতিষ্ঠাতা আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খোমেনি–এর উত্তরসূরি। ১৯৭৯ সালের ইসলামিক বিপ্লবের মাধ্যমে খোমেনির নেতৃত্বে যুক্তরাষ্ট্রসমর্থিত শাসক মোহাম্মদ রেজা পাহলভি–এর শাসনের অবসান ঘটে এবং নতুন রাজনৈতিক ব্যবস্থার সূচনা হয়।

ইরানের রাজনৈতিক ব্যবস্থায় সর্বোচ্চ নেতাই রাষ্ট্রক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দু। নির্বাহী, সামরিক ও বিচার বিভাগসহ গুরুত্বপূর্ণ সব প্রতিষ্ঠানের ওপর তার চূড়ান্ত কর্তৃত্ব রয়েছে। যদিও দেশটিতে প্রেসিডেন্ট ও সংসদ রয়েছে, কৌশলগত সিদ্ধান্তে সর্বোচ্চ নেতার মতামতই শেষ কথা হিসেবে বিবেচিত হয়। একই সঙ্গে তিনি দেশের ধর্মীয় নেতৃত্বও প্রদান করেন।

খামেনির শাসনামলে পশ্চিমা বিশ্বের সঙ্গে ইরানের বিরোধ আরও তীব্র হয়েছে এবং দেশটি কঠোর আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞার মুখে পড়েছে। এর ফলে অর্থনৈতিক চাপ বেড়েছে, পাশাপাশি মূল্যস্ফীতি ও জীবনযাত্রার সংকটকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন সময়ে দেশজুড়ে বিক্ষোভও দেখা গেছে।

তার ক্ষমতার প্রধান ভিত্তি হিসেবে বিবেচিত হয় ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) এবং বাসিজ আধাসামরিক বাহিনী, যাদের আনুগত্য তার রাজনৈতিক অবস্থানকে শক্তিশালী করে রেখেছে বলে বিশ্লেষকদের মত।

খামেনি বরাবরই দাবি করে আসছেন, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি কেবল বেসামরিক উদ্দেশ্যে পরিচালিত হচ্ছে এবং দেশটি পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করছে না। যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থা ও আন্তর্জাতিক তদারকি সংস্থাগুলো এখন পর্যন্ত পারমাণবিক বোমা তৈরির স্পষ্ট প্রমাণ পায়নি। তবে ওয়াশিংটন ও তেল আবিব দীর্ঘদিন ধরেই এ বিষয়ে ভিন্ন অবস্থান ধরে রেখেছে।

খামেনি বরাবরই বলে আসছেন, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি বেসামরিক উদ্দেশ্যে এবং দেশটি পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির পথে নেই। তবে ইসরায়েল দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ করে আসছে, ইরান গোপনে অস্ত্র সক্ষমতা অর্জনের চেষ্টা করছে।

সাম্প্রতিক হামলার ফলে পারমাণবিক আলোচনা আরও অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। পরিস্থিতি কোন দিকে যাবে, তা নির্ভর করছে ইরানের প্রতিক্রিয়া ও আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক তৎপরতার ওপর। তবে স্পষ্ট যে, খামেনিকে ঘিরে উত্তেজনা এখন আঞ্চলিক রাজনীতির কেন্দ্রে চলে এসেছে।

কেন তিনি টার্গেট

ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ নেতারা অতীতে খামেনিকে নিয়ে কঠোর মন্তব্য করেছেন। ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ইঙ্গিত দিয়েছেন, ইরানের শীর্ষ নেতৃত্বকে সরিয়ে দিলে দীর্ঘদিনের সংঘাতের অবসান হতে পারে। ইসরাইলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরাইল কাটজ বলেছিলেন, ‘খামেনি এভাবে টিকে থাকতে পারেন না।’

তার ভাষায়, ‘খামেনির মতো একজন স্বৈরশাসক, যিনি ইসরাইল ধ্বংসের লক্ষ্য নিয়ে একটি রাষ্ট্রের নেতৃত্ব দিচ্ছেন- তার অস্তিত্ব অব্যাহত থাকতে পারে না।’

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও একাধিকবার খামেনিকে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। সম্প্রতি তিনি বলেছেন, ইরানের জনগণ চাইলে সরকার পরিবর্তন সম্ভব এবং সেটিই ‘সেরা পরিণতি’ হতে পারে। অতীতে তিনি খামেনিকে ‘সহজ লক্ষ্যবস্তু’ বলেও মন্তব্য করেছিলেন।

বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক হামলার লক্ষ্য হতে পারে ইরানের রাজনৈতিক ও সামরিক নেতৃত্বকে দুর্বল করা। কৌশলগতভাবে শীর্ষ নেতৃত্বকে বিচ্ছিন্ন বা অকার্যকর করা গেলে রাষ্ট্রযন্ত্রে অস্থিরতা তৈরি হতে পারে—এমন ধারণা থেকেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়ে থাকতে পারে।

বার্তা সংস্থা রয়টার্স একটি সূত্রের বরাতে জানিয়েছে, হামলার পর খামেনিকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। তবে তার সঠিক অবস্থান সম্পর্কে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি।

সূত্র: আল-জাজিরা

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

মন্তব্য করুন

X