

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


কলকাতায় হোটেল ও গেস্টহাউসের বিরুদ্ধে প্রশাসনের নিরাপত্তা অভিযান শুরু হওয়ার পর বিপাকে পড়েছেন চিকিৎসার জন্য শহরটিতে যাওয়া বাংলাদেশি রোগী ও তাদের স্বজনেরা। কম খরচে থাকার জন্য পরিচিত এলাকাগুলোতে একের পর এক আবাসন বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বেড়েছে ভাড়া, তৈরি হয়েছে থাকার জায়গার সংকট।
গত ১৯ আগস্ট নিউ মার্কেটের কাছে মির্জা গালিব স্ট্রিটের ‘শিখা ইন’ হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে নয়জন নিহত হন। তাদের মধ্যে সাতজনই ছিলেন বাংলাদেশের নাগরিক। ওই ঘটনার পর কলকাতা প্রশাসন বিভিন্ন হোটেল ও গেস্টহাউসের লাইসেন্স, অগ্নিনিরাপত্তা ও অন্যান্য অনুমোদন যাচাইয়ে অভিযান শুরু করে।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যমগুলোর খবরে বলা হয়েছে, এই অভিযানে কলকাতার শতাধিক হোটেল ও গেস্টহাউস বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে অথবা বন্ধ হওয়ার প্রক্রিয়ায় রয়েছে। সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়েছে নিউ মার্কেট, মারকুইস স্ট্রিট, সদর স্ট্রিট, ফ্রি স্কুল স্ট্রিট, লিন্ডসে স্ট্রিট ও কলিন লেন এলাকায়।
বাংলাদেশি রোগী ও তাদের স্বজনদের কাছে এসব এলাকা জনপ্রিয় হওয়ার অন্যতম কারণ তুলনামূলক কম খরচে থাকার ব্যবস্থা পাওয়া। ফলে হোটেল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় চিকিৎসার প্রয়োজনে কলকাতায় থাকা অনেকেই এখন বাড়তি খরচ ও অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছেন।
বগুড়া থেকে চিকিৎসার জন্য কলকাতায় যাওয়া শহিদুল হক প্রশাসনের নিরাপত্তা উদ্যোগকে সমর্থন করেছেন। তবে তার মতে, সব হোটেল একসঙ্গে বন্ধ না করে রোগীদের কথা বিবেচনায় নিয়ে বিকল্প ব্যবস্থা করা প্রয়োজন।
তার ভাষায়, নিরাপত্তার জন্য কিছুটা অসুবিধা মেনে নেওয়া সম্ভব। কিন্তু আবাসনের সব ব্যবস্থা একসঙ্গে বন্ধ হয়ে গেলে সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়েন চিকিৎসা নিতে আসা রোগীরাই।
গাজীপুর থেকে চিকিৎসার জন্য যাওয়া নাজমুল হোসেনও আবাসন খরচ বেড়ে যাওয়ার কথা জানিয়েছেন। তার দাবি, আগে যে কক্ষের ভাড়া প্রায় ৫০০ রুপি ছিল, কিছু জায়গায় এখন একই ধরনের কক্ষের জন্য কয়েক হাজার রুপি পর্যন্ত চাওয়া হচ্ছে।
হাসপাতালসংলগ্ন এলাকাগুলোতেও পরিস্থিতি কঠিন হয়ে উঠেছে। ঠাকুরপুকুরের একটি ক্যানসার হাসপাতালে স্বামীর চিকিৎসার জন্য যাওয়া তানিয়া ইসলাম জানান, হঠাৎ থাকার হোটেল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় তাকে সমস্যায় পড়তে হয়েছে।
তার নির্দিষ্ট বাজেটের মধ্যে চিকিৎসার পুরো পরিকল্পনা সাজানো ছিল। কিন্তু আবাসনের খরচ বেড়ে যাওয়ায় সেই পরিকল্পনা এখন অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছে বলে জানান তিনি।
আবাসন সংকট নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছেন স্থানীয় ব্যবসায়ীরাও। মুকুন্দপুরের ব্যবসায়ী রমেন মল্লিকের প্রশ্ন, ১০ থেকে ১৫ দিনের চিকিৎসার জন্য যারা কলকাতায় আসেন, হোটেল বন্ধ হয়ে গেলে তাদের থাকার বিকল্প ব্যবস্থা করবে কে?
তবে প্রশাসনের অভিযানকে দীর্ঘমেয়াদে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন পরিবহন ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত সোনা সাহা। তার মতে, অনিরাপদ ও অনুমোদনহীন আবাসন চিহ্নিত করা গেলে ভবিষ্যতে কলকাতায় বাংলাদেশি দর্শনার্থীদের জন্য আরও নিরাপদ থাকার ব্যবস্থা তৈরি হতে পারে।
এর মধ্যে বাংলাদেশি দর্শনার্থীদের জন্য নির্দেশনা দিয়েছে কলকাতার বাংলাদেশ উপ-হাইকমিশন। সেখানে কলকাতায় যাওয়ার আগে হোটেলের বুকিং নিশ্চিত করে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
নিরাপত্তার কারণে প্রশাসনের অভিযানকে প্রয়োজনীয় মনে করা হলেও, চিকিৎসার জন্য কলকাতায় যাওয়া বাংলাদেশিদের জন্য সাশ্রয়ী ও নিরাপদ আবাসনের বিকল্প ব্যবস্থা এখন বড় প্রয়োজন হয়ে দাঁড়িয়েছে।


