

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার বিপুলসংখ্যক ড্রাইভিং লাইসেন্স এবং অন্যান্য পরিচয়পত্রের তথ্য ডার্ক ওয়েবে বিক্রির দাবি ঘিরে তদন্ত শুরু করেছে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (এফবিআই)। এসব তথ্য কীভাবে সংগ্রহ করা হয়েছে এবং এর পেছনে বড় কোনো সাইবার হামলা রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
সাইবার নিরাপত্তাবিষয়ক সাংবাদিক ব্রায়ান ক্রেবসের অনুসন্ধানে ‘নেক্সাস’ নামের একটি ডার্ক ওয়েব প্ল্যাটফর্মে এসব তথ্য বিক্রির বিষয়টি সামনে আসে। প্ল্যাটফর্মটির দাবি, তাদের কাছে যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার বিপুলসংখ্যক ড্রাইভিং লাইসেন্সের তথ্য রয়েছে। এর পাশাপাশি অন্যান্য পরিচয়পত্র ও ভ্রমণসংক্রান্ত নথির তথ্যও তাদের কাছে রয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ডার্ক ওয়েবে প্রকাশিত কয়েকটি ড্রাইভিং লাইসেন্সের তথ্য যাচাই করে সেগুলোর সত্যতা পাওয়া গেছে। তবে এখানেই বড় প্রশ্ন তৈরি হয়েছে—এত বিপুল তথ্যের উৎস কোথায়? এখন পর্যন্ত কোনো নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠান বা সাইবার হামলাকে এসব তথ্য ফাঁসের উৎস হিসেবে চিহ্নিত করা যায়নি।
সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান ও তদন্তকারীরা তথ্যগুলোর সম্ভাব্য উৎস শনাক্ত করার চেষ্টা করছেন। পাশাপাশি কতজন মানুষের ব্যক্তিগত তথ্য এতে রয়েছে এবং তথ্যগুলো কীভাবে সংগ্রহ করা হয়েছে, সেটিও তদন্তের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছে।
সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের মতে, ড্রাইভিং লাইসেন্সে থাকা নাম, ছবি, জন্মতারিখসহ ব্যক্তিগত তথ্য অপরাধীদের হাতে গেলে পরিচয় চুরি ও আর্থিক প্রতারণার ঝুঁকি বাড়তে পারে। এসব তথ্য ব্যবহার করে ভুয়া পরিচয়ে বিভিন্ন অ্যাকাউন্ট খোলা বা অন্য ধরনের প্রতারণামূলক কার্যক্রম চালানো সম্ভব।
বিশেষজ্ঞরা আরও বলছেন, কোনো ব্যক্তির পরিচয়পত্রের ডিজিটাল কপি একবার ডার্ক ওয়েবে ছড়িয়ে পড়লে সেটি দ্রুত সরিয়ে ফেলা কঠিন। ফলে তথ্যগুলো দীর্ঘ সময় ধরে বিভিন্ন অপরাধমূলক কাজে ব্যবহারের আশঙ্কা থাকে।
এখন এফবিআইয়ের তদন্তেই নির্ভর করছে ঘটনার প্রকৃত চিত্র। ডার্ক ওয়েবে থাকা তথ্যগুলো কতটা বিস্তৃত, সেগুলো সত্যিই কোনো বড় সাইবার হামলার মাধ্যমে চুরি হয়েছে কি না এবং কত মানুষের তথ্য এতে জড়িত—এসব প্রশ্নের উত্তর তদন্ত শেষ হলে পাওয়া যেতে পারে।
তবে তথ্য ফাঁসের ব্যাপ্তি যদি দাবির কাছাকাছি হয়, তাহলে সরকারি পরিচয়পত্র-সংক্রান্ত তথ্য ফাঁসের বড় ঘটনাগুলোর একটি হিসেবে এটি গুরুত্ব পেতে পারে।


