রবিবার
০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২২ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
রবিবার
০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২২ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ভারতে ১৫০ বছরের পুরোনো মসজিদ গুঁড়িয়ে দিলো প্রশাসন

এনপিবি ডেস্ক
প্রকাশ : ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২:৪৫ এএম
ভারতে ১৫০ বছরের পুরোনো মসজিদ গুঁড়িয়ে দিলো প্রশাসন। ছবি: সংগৃহীত
expand

ভারতের উত্তরপ্রদেশ রাজ্যের সাহারানপুর জেলায় রাতের অন্ধকারে প্রায় ১৫০ বছরের পুরোনো একটি মসজিদ বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন। এই ঘটনায় রাজ্যজুড়ে তীব্র রাজনৈতিক উত্তেজনা শুরু হয়েছে। খবর ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের।

শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) ভোর আনুমানিক ৫টার দিকে সাহারানপুর কালেক্টরেটের ভেতরে অবস্থিত ‘গরিব নওয়াজ আল মারুফ’ নামে মসজিদটি গুড়িয়ে দেয়া হয়। এই উচ্ছেদ অভিযানের সময় বিপুলসংখ্যক পুলিশ, প্রাদেশিক সশস্ত্র কনস্ট্যাবুলারি (পিএসি) এবং অন্যান্য নিরাপত্তাকর্মী মোতায়েন করা হয়। কালেক্টরেট চত্বরের প্রবেশপথও নিয়ন্ত্রণে নেয়া হয়।

প্রশাসনের বক্তব্য, মসজিদটি সরকারি জমিতে অবৈধভাবে নির্মিত হয়েছিল। বিরোধের কেন্দ্রে রয়েছে ৩১৫ বর্গমিটার জমি, যা রাজস্ব নথিতে কালেক্টরেটের সরকারি সম্পত্তি হিসেবে নথিভুক্ত বলে আদালতে জানানো হয়।

২০২৫ সালে উগ্র হিন্দুত্ববাদী সংগঠন ‘বজরং দল’-এর সাবেক এক নেতা অভিযোগ করেন, কালেক্টরেট চত্বরে সরকারি জমি দখল করে ধর্মীয় স্থাপনা তৈরি ও ব্যবহার করা হচ্ছে। অভিযোগের ভিত্তিতে রাজস্ব বিভাগ তদন্ত শুরু করে এবং গত মার্চ মাসে এই আইনি প্রক্রিয়া শুরু হয়।

পরবর্তীতে জুলাই মাসে সিটি ম্যাজিস্ট্রেট মসজিদটিকে ‘অনুমোদনহীন স্থাপনা’ আখ্যা দিয়ে ৩০ দিনের মধ্যে তা খালি করার নির্দেশ দেন।

তবে মসজিদ পরিচালনা কমিটির দাবি সম্পূর্ণ ভিন্ন। তাদের বক্তব্য, মসজিদটি বহু পুরোনো—প্রায় দেড়শ বছরেরও বেশি সময় ধরে সেখানে রয়েছে এবং জমির মালিকানা নিয়ে তাদের পক্ষে নথিও রয়েছে। তারা সরকারি পক্ষের জমির মালিকানা দাবিকে চ্যালেঞ্জ করে।

মসজিদের মুতাওয়াল্লি (তত্ত্বাবধায়ক) তানভীর আহমেদ ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, মসজিদটি ব্রিটিশ আমল থেকে, অর্থাৎ প্রায় ১৫০ বছর ধরে সেখানে রয়েছে। ঐতিহাসিক নথিতে ১৯১১ সালে এই মসজিদে বিদ্যুৎ সংযোগ নেওয়ার প্রমাণও রয়েছে, যা কালেক্টরেট ভবন তৈরিরও আগের।

গত ১৬ জুলাই সিটি ম্যাজিস্ট্রেটের আদালত মসজিদটিকে ‘অননুমোদিত স্থাপনা’ হিসেবে বিবেচনা করে উত্তরপ্রদেশ পাবলিক প্রিমাইসেস (অননুমোদিত দখলদার উচ্ছেদ) আইন, ১৯৭২-এর আওতায় উচ্ছেদের নির্দেশ দেয়। একই সঙ্গে প্রায় ৬ কোটি ৪১ লাখ রুপি ক্ষতিপূরণের কথাও বলা হয়।

মসজিদ পরিচালনা কমিটি এই নির্দেশের বিরুদ্ধে জেলা আদালতে আপিল করেছিল। গত ২ সেপ্টেম্বর জেলা আদালত সেই আপিল খারিজ করে সিটি ম্যাজিস্ট্রেটের আগের আদেশ বহাল রাখে। তবে আদালতের আদেশে সরাসরি মসজিদ ভেঙে ফেলার নির্দেশ ছিল না; সেখানে আগের উচ্ছেদ-সংক্রান্ত আদেশই বহাল রাখা হয়।

আদালত সেই আপিল খারিজ করে দেওয়ার মাত্র কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ভোরের আলো ফোটার আগেই মসজিদটি ভেঙে দিয়েছে প্রশাসন।

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
X
City bank
City bank