সোমবার
২০ জুলাই ২০২৬, ৫ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সোমবার
২০ জুলাই ২০২৬, ৫ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

প্রতিদিন ১২ ঘণ্টা ডিউটি, বেতন দেয়নি চার মাস

এনপিবি ডেস্ক
প্রকাশ : ১৯ জুলাই ২০২৬, ০৪:৩৪ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
expand
ছবি: সংগৃহীত

ওমানে গৃহকর্মীর চাকরির প্রলোভনে গিয়ে নির্যাতনের শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন ভারতের এক নারী। তার দাবি, প্রতিদিন ১২ থেকে ১৫ ঘণ্টা কাজ করানো হলেও টানা কয়েক মাস ধরে কোনো বেতন দেওয়া হয়নি। নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে তিনি পালিয়ে বর্তমানে মাসকাটে ভারতীয় দূতাবাসে আশ্রয় নিয়েছেন এবং দেশে ফেরার জন্য সরকারের সহায়তা চেয়েছেন।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডে জানায়, হায়দরাবাদের পাহাড়ি শরিফ এলাকার বাসিন্দা শবনম বেগম গৃহকর্মীর কাজের উদ্দেশ্যে চলতি বছরের ২৬ মার্চ ওমানে যান। তার অভিযোগ, স্থানীয় এক নিয়োগদাতা এজেন্ট মাসিক ২০০ ওমানি রিয়াল বেতনের প্রতিশ্রুতি দিয়ে তাকে মাসকাটে পাঠিয়েছিল।

তবে ওমানে পৌঁছানোর পর পরিস্থিতি সম্পূর্ণ বদলে যায় বলে দাবি করেন শবনম। তার ভাষ্য, তাকে একাধিক বাড়িতে প্রতিদিন ১২ থেকে ১৫ ঘণ্টা কাজ করতে বাধ্য করা হয়। পর্যাপ্ত খাবার ও থাকার ব্যবস্থা না থাকায় চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে। এছাড়া চার মাস ধরে তার কোনো বেতনও পরিশোধ করা হয়নি বলে অভিযোগ করেন তিনি।

নির্যাতনের মাত্রা বেড়ে যাওয়ায় শেষ পর্যন্ত সেখান থেকে পালিয়ে মাসকাটে ভারতীয় দূতাবাসে আশ্রয় নেন শবনম। বর্তমানে তিনি নিরাপদে দেশে ফিরতে ভারত সরকারের সহায়তা কামনা করছেন।

নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে একপর্যায়ে শবনম নিয়োগকর্তার কাছ থেকে পালিয়ে যান। বর্তমানে তিনি মাসকাটে ভারতীয় দূতাবাসে অবস্থান করছেন এবং দেশে ফেরার জন্য প্রয়োজনীয় সহায়তা চেয়েছেন।

এদিকে শবনমের পরিবার ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের কাছে তার নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং দ্রুত হায়দরাবাদে ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা নেওয়ার আবেদন জানিয়েছে। একই সঙ্গে চাকরির নামে তাকে ওমানে পাঠানো সংশ্লিষ্ট নিয়োগদাতা এজেন্টের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিও জানিয়েছে পরিবার।

এদিকে সিয়াসাত ডেইলি প্রকাশিত একটি ভিডিওতে শবনম বেগম নিজেই তার অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেন। ভিডিওতে তিনি বলেন, তাকে একাধিক বাড়িতে দীর্ঘ সময় কাজ করানো হয়েছে, কিন্তু পর্যাপ্ত খাবার ও থাকার ব্যবস্থা ছিল না। পাশাপাশি কয়েক মাসের বেতনও তিনি পাননি বলে দাবি করেন।

শবনম জানান, পালিয়ে এসে তিনি গত আট দিন ধরে মাসকাটে ভারতীয় দূতাবাসে অবস্থান করছেন। তার ভাষ্য, নিজ নিজ দেশে ফেরার অপেক্ষায় সেখানে আরও প্রায় ১৩০ নারী রয়েছেন। তিনি আরও অভিযোগ করেন, তার পাসপোর্ট এখনো নিয়োগদাতা এজেন্টের কাছেই রয়েছে।

ভিডিওতে কান্নাজড়িত কণ্ঠে শবনম বলেন, হায়দরাবাদে তার তিন মেয়ে ও এক ছেলেসহ চার সন্তান তার অপেক্ষায় রয়েছে। তিনি ভারত সরকারের কাছে দ্রুত তাকে উদ্ধার করে দেশে ফিরিয়ে নেওয়ার আবেদন জানান।

অন্যদিকে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের কাছে পাঠানো এক চিঠিতে শবনমের স্বামী মোহাম্মদ চাঁদ অভিযোগ করেন, আরশাদ নামে এক স্থানীয় এজেন্ট চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে তার স্ত্রীকে ওমানে পাঠিয়েছিলেন। তিনি শবনমকে দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনা এবং অভিযুক্ত এজেন্টের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছেন।

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন