

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


পশ্চিমবঙ্গের নতুন মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন রাজ্য বিজেপির নেতা শুভেন্দু অধিকারী। কলকাতার ঐতিহাসিক ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে তৈরি মঞ্চে আজ শনিবার (৯ মে) স্থানীয় সময় বেলা ১১টায় এই শপথগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। এর মধ্যদিয়ে পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের রাজনীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তনের সূচনা হলো।
ইন্ডিয়া টুডের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, একসময় সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জির ‘ডানহাত’ হিসেবে পরিচিত শুভেন্দু অধিকারী পশ্চিমবঙ্গের প্রথম বিজেপি মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিলেন। এই শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানটি ছিল বিজেপির বড় ধরনের শক্তি প্রদর্শন। প্রতিবেদন মতে, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এবং কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার অধিকাংশ সদস্য শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। শুভেন্দু অধিকারী সাধারণ গেরুয়া রঙের কুর্তা পরে শপথ নেন। তার সঙ্গে মন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন অগ্নিমিত্রা পাল, নিসীথ প্রামাণিক, দিলীপ ঘোষ, অশোক কীর্তনিয়া, ক্ষুদিরাম টুডু এবং শঙ্কর ঘোষ।
মোদি ছাড়াও বিজেপি শাসিত সব রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীরা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে পশ্চিম বাংলার সংস্কৃতির ছোঁয়াও রাখা হয়েছিল। সেখানে প্রায় ২০টি মিষ্টি ও ঝালমুড়ির স্টল বসানো হয়। আরও কয়েকটি রাজ্যের সঙ্গে গত মাসে পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এরপর গত সপ্তাহে ভোটের ফলাফল প্রকাশ হয়। এতে বিধানসভার ২৯৪টি আসনের মধ্যে বিজেপি ২০৭টিতে জয় পায় যেখানে সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজন ছিল ১৪৮টি আসন। অন্যদিকে ক্ষমতাসীন তৃণমূল কংগ্রেস পায় মাত্র ৮১টি আসন। বিজয়ের ভূমিধসের জয়ের মধ্যদিয়ে রাজ্যে মমতা ব্যানার্জির ১৫ বছরের শাসনের অবসান ঘটে। শুভেন্দু অধিকারী গত শুক্রবার (৮ মে) সন্ধ্যায় রাজভবনে গিয়ে রাজ্যপাল আর এন রবির সঙ্গে দেখা করেন। এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন বিজেপির রাজ্য পর্যায়ের শীর্ষ নেতারা। শুভেন্দু বিজেপির ২০৭ জন নবনির্বাচিত বিধায়কের সইসহ নতুন সরকার গড়ার আবেদনপত্র রাজ্যপালের কাছে জমা দেন। এরপর এদিন কলকাতার নিউ টাউনে কনভেনশন সেন্টার হলে বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপির জয়ী ২০৭ বিধায়ককে নিয়ে পরিষদীয় বৈঠক হয়। বৈঠকের পর শুভেন্দু অধিকারীকে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী পদে বসানোর ঘোষণা দেন অমিত শাহ। এ সময় অমিত শাহ বলেন, ‘বিজেপি এবার এই বাংলায় হিংসামুক্ত নির্বাচন দেখিয়ে প্রমাণ করেছে, বিজেপি হিংসা চায় না; শান্তি চায়। সন্ত্রাস চায় না; উন্নয়ন চায়। ভয় নয়; ভয়মুক্ত বাংলা গড়তে চায়।’ শুভেন্দু অধিকারীর রাজনৈতিক উত্থান পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে বেশ নাটকীয় ছিল। একসময় তিনি মমতা ব্যানার্জির ঘনিষ্ঠ সহযোগী ছিলেন। তবে ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে তিনি দল বদলে বিজেপিতে যোগ দেন। ২০২১ সালের নির্বাচনে নন্দীগ্রামের বহুল আলোচিত লড়াইয়ে তিনি মমতা ব্যানার্জিকে পরাজিত করেন, যা তার রাজনৈতিক জীবনের বড় মোড় হিসেবে দেখা হয়। এরপর থেকেই পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির অন্যতম প্রধান মুখ হয়ে ওঠেন শুভেন্দু অধিকারী। আর এখন তাকে মুখ্যমন্ত্রী করা দলটির জন্য রাজ্যে বড় ধরনের রাজনৈতিক সাফল্য হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
