

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


টানা তিন বছরেরও বেশি সময় কোমায় থাকার পর থাইল্যান্ডের রাজকুমারী বজ্রকিতিয়াভা মারা গেছেন বলে জানিয়েছে দেশটির রাজপরিবার। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৪৭ বছর।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২২ সালের ডিসেম্বরে নিজের পোষা কুকুরদের নিয়ে ব্যায়াম করার সময় হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন রাজকুমারী। পরে চিকিৎসকেরা জানান, হৃদযন্ত্রে মাইকোপ্লাজমা সংক্রমণের কারণে সৃষ্ট গুরুতর হার্ট অ্যারিথমিয়ার জটিলতায় তিনি অচেতন হয়ে পড়েন এবং দীর্ঘ সময় কোমায় থাকেন।
রাজপ্রাসাদের পক্ষ থেকে শুক্রবার (১২ জুন) দেওয়া এক বিবৃতিতে জানানো হয়, চিকিৎসক দল সর্বোচ্চ চেষ্টা করেও তাঁর শারীরিক অবস্থার উন্নতি ঘটাতে পারেনি। বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৭টা ৪৮ মিনিটে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
থাই রাজপরিবারের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ও দৃশ্যমান সদস্য হিসেবে পরিচিত বজ্রকিতিয়াভার মৃত্যুতে দেশটির রাজনীতিক ও রাজপরিবারে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। সম্ভাব্য উত্তরাধিকার প্রক্রিয়াতেও তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারতেন বলে মনে করা হতো।
১৯৭৮ সালের ৭ ডিসেম্বর জন্ম নেওয়া বজ্রকিতিয়াভা ছিলেন থাইল্যান্ডের রাজা ভাজিরালংকর্নের সাত সন্তানের মধ্যে জ্যেষ্ঠ। তাঁর মা ছিলেন রাজা ভাজিরালংকর্নের প্রথম স্ত্রী ও চাচাতো বোন সোমসাওয়ালি।
শিক্ষাজীবনে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের কর্নেল বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আইন বিষয়ে উচ্চতর ডিগ্রি অর্জন করেন। পরে নিউইয়র্কে থাইল্যান্ডের জাতিসংঘ মিশনে কাজের মাধ্যমে কর্মজীবন শুরু করেন। দেশে ফিরে তিনি অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয়ে দায়িত্ব পালন করেন এবং পরবর্তীতে ব্যাংককের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ আইনি পদে যুক্ত ছিলেন।
২০১২ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত তিনি অস্ট্রিয়ায় থাইল্যান্ডের রাষ্ট্রদূত হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
২০২১ সালে রাজা ভাজিরালংকর্ন তাঁকে রাজকীয় ব্যক্তিগত দেহরক্ষী বাহিনীর চিফ অব স্টাফ হিসেবে নিয়োগ দেন এবং জেনারেল পদমর্যাদা প্রদান করেন।
শারীরিক ফিটনেস ও দৌড়ের প্রতি আগ্রহের জন্য পরিচিত বজ্রকিতিয়াভা নিয়মিত দীর্ঘ দূরত্বের দৌড়েও অংশ নিতেন।
