

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


মিয়ানমারের উত্তরাঞ্চলে বিদ্রোহী নিয়ন্ত্রিত একটি গ্রামে ভয়াবহ বিস্ফোরণে অন্তত ৫৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। নিহতদের মধ্যে নারী ও পুরুষ উভয়ই রয়েছেন। বিস্ফোরণের তীব্রতায় গ্রামের বহু ঘরবাড়ি ধসে পড়ে এবং বিস্তীর্ণ এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে ধ্বংসস্তূপ।
স্থানীয় সময় রোববার (৩১ মে) রোববার দুপুরে এ ঘটনা ঘটে। স্থানীয় সূত্রের বরাতে বিবিসি জানিয়েছে, নিহতদের মধ্যে ২৫ জন নারী ও ৩০ জন পুরুষ রয়েছেন। এছাড়া আহত হয়েছেন আরও অনেকে।
বিস্ফোরণের পরপরই গ্রামটির আকাশে বিশাল ধোঁয়ার কুণ্ডলী দেখা যায়। পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা গেছে, বিস্ফোরণের কেন্দ্রস্থলে বড় একটি গর্ত তৈরি হয়েছে। আশপাশের অসংখ্য ভবন ধ্বংস হয়ে গেছে এবং পুড়ে যাওয়া গাছপালা ও ধ্বংসাবশেষ থেকে ধোঁয়া বের হতে দেখা যায়।
এলাকাটি বর্তমানে তাআং ন্যাশনাল লিবারেশন আর্মি (টিএনএলএ) নামের একটি জাতিগত সশস্ত্র গোষ্ঠীর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। সামরিক জান্তার বিরুদ্ধে লড়াইরত এই সংগঠন জানিয়েছে, খনি ও পাথর উত্তোলনের কাজে ব্যবহৃত বিস্ফোরক পদার্থ থেকেই দুর্ঘটনাটি ঘটেছে।
এক বিবৃতিতে টিএনএলএ জানায়, স্থানীয় সময় দুপুর ১২টার দিকে বিস্ফোরণটি ঘটে। এতে বহু গ্রামবাসী নিহত ও আহত হয়েছেন। পাশাপাশি ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে বসতবাড়িরও।
বিস্ফোরণের পর স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। প্রত্যক্ষদর্শীদের অনেকে প্রথমে এটিকে বিমান হামলা বলে মনে করেছিলেন। একজন বাসিন্দা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানান, নিহতদের মধ্যে শিশুও রয়েছে এবং শত শত বাড়িঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
ঘটনার ভয়াবহতা তুলে ধরে তিনি লিখেছেন, ‘আমি তখন শোবার ঘরে বসে খাবার খাচ্ছিলাম ও মোবাইল ফোন দেখছিলাম। যদি রান্নাঘরে থাকতাম, হয়তো আজ আর বেঁচে থাকতাম না।’
টিএনএলএ মিয়ানমারের সামরিক জান্তাবিরোধী সবচেয়ে শক্তিশালী জাতিগত সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে অন্যতম। দেশটির অনেক বিদ্রোহী গোষ্ঠী তাদের কার্যক্রমের অর্থায়নের জন্য মূল্যবান খনিজ উত্তোলনের ওপর নির্ভর করে। নিরাপত্তা ব্যবস্থার শৈথিল্যের কারণে খনি ধস এবং এ ধরনের দুর্ঘটনা সেখানে নৈমিত্তিক ব্যাপারে পরিণত হয়েছে।
