

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


আফগানিস্তানে নতুন পারিবারিক আইন চালু করেছে তালেবান সরকার। বিয়ে, বিবাহবিচ্ছেদ, অভিভাবকত্ব ও বাল্যবিয়ে সংক্রান্ত বিভিন্ন বিধান এতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, যা তালেবানের ইসলামি ব্যাখ্যার ভিত্তিতে প্রণয়ন করা হয়েছে।
‘দম্পতিদের পৃথকীকরণের নীতি’ শিরোনামে ৩১ অনুচ্ছেদের এই ডিক্রিতে অনুমোদন দিয়েছেন তালেবানের সর্বোচ্চ নেতা হিবাতুল্লাহ আখুন্দজাদা। আফগানিস্তানের সরকারি গেজেটে প্রকাশিত বিধিমালায় তালেবান শাসনের অধীনে বৈবাহিক বিরোধ, বিচ্ছেদ, বিয়ে বাতিল এবং অভিভাবকত্ব সংক্রান্ত নিয়মাবলি বিস্তারিতভাবে তুলে ধরা হয়েছে।
নতুন আইনের সবচেয়ে আলোচিত ধারাগুলোর একটিতে বলা হয়েছে, কোনো ‘কুমারী মেয়ের’ নীরবতাকে বিয়ের সম্মতি হিসেবে গণ্য করা হবে। তবে একই নিয়ম ছেলে বা আগে বিবাহিত নারীদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে না। অর্থাৎ তাদের নীরবতাকে সম্মতি হিসেবে ধরা যাবে না।
এছাড়া নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে অপ্রাপ্তবয়স্কদের বিয়ের অনুমোদনও দেওয়া হয়েছে। এ ধরনের বিয়ের ক্ষেত্রে বাবা কিংবা দাদাকে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। আইন অনুযায়ী, আত্মীয়স্বজনের মাধ্যমে ঠিক করা অপ্রাপ্তবয়স্ক ছেলে বা মেয়ের বিয়ে তখনই বৈধ বলে বিবেচিত হবে, যদি পাত্র সামাজিকভাবে গ্রহণযোগ্য হয় এবং মোহরানা ধর্মীয় শর্ত পূরণ করে।
বিধিমালায় ‘খিয়ার আল-বুলুগ’ বা ‘বয়ঃসন্ধির পর পছন্দ’ নামে একটি আইনি নীতিও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এর আওতায় বয়ঃসন্ধির আগে সম্পন্ন হওয়া কোনো বিয়ে, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার পর চাইলে বাতিলের আবেদন করতে পারবে। তবে সে ক্ষেত্রে ধর্মীয় আদালতের অনুমোদন প্রয়োজন হবে।
এছাড়া সঙ্গীকে অনুপযুক্ত মনে হলে কিংবা মোহরানায় চরম অসামঞ্জস্য থাকলে সেই বিয়েকে আইনগতভাবে অবৈধ ঘোষণা করার সুযোগও রাখা হয়েছে।
এই ডিক্রিটি তালেবান বিচারকদের ব্যভিচারের অভিযোগ, ধর্মান্তর, স্বামীর দীর্ঘদিনের অনুপস্থিতি এবং ‘জিহার’-এর মতো বিষয়গুলোর বিরোধে সরাসরি হস্তক্ষেপ করার ক্ষমতা দেয়। জিহার হলো একটি ঐতিহ্যবাহী ইসলামিক ধারণা যেখানে স্বামী তার স্ত্রীকে এমন কোনো নারী আত্মীয়ের সঙ্গে তুলনা করেন যাকে বিয়ে করা তার জন্য নিষিদ্ধ।
এই বিধানগুলোর অধীনে বিচারকরা পরিস্থিতি বিবেচনা করে বিচ্ছেদ, কারাদণ্ড বা অন্যান্য শাস্তির নির্দেশ দিতে পারেন। ২০২১ সালের আগস্টে ক্ষমতায় আসার পর থেকে নারী ও মেয়েদের ওপর তালেবানের নানা কঠোর নিষেধাজ্ঞা নিয়ে যখন বিশ্বজুড়ে সমালোচনা তুঙ্গে, ঠিক তখনই এই নতুন পারিবারিক আইনটি জারি করা হলো।
সূত্র: এনডিটিভি।
