

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


নেপালে ধ্বংসস্তূপ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে ৯৭ বছর বয়সী নারী গুনা মায়া বোহারা। তিনি যে বৃদ্ধাশ্রমটিতে থাকতেন, সেটির ধ্বংসস্তূপেই মেলে তাঁর খোঁজ। প্রায় চার ঘণ্টা অভিযান পরিচালনার পর তাঁকে উদ্ধার করেন উদ্ধারকর্মীরা।বিবিসির প্রতিবেদনে উঠে এসেছে বিষয়টি।
উদ্ধারের পর বোহারাকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। তাঁর স্বজন দীপক বোহারা বলেন, তাঁকে (গুনা মায়া বোহারা) দেখে মনে হচ্ছিল, তিনি যেন ‘যোদ্ধা’।
কাদামাটির জলপ্রবাহে ভোতে কোশি নদী গত বুধবার সকালে যখন ফুলেফেঁপে উঠেছিল, তখন কিছু মানুষ পালানোর সুযোগ পেয়েছিলেন। বাকিরা পাননি। কেউ সড়কপথে পালানোর চেষ্টা করেন। কেউবা আবার পাহাড়ে ওঠেন। অনেকে যানের মাধ্যমে বন্যার পানির তোড়ের আগে থাকার চেষ্টা করেন। বিদ্যুতের তার ধরে প্রাণ বাঁচানোর মতো ঘটনাও ঘটেছে। কাঠমান্ডু পোস্টের কাছে নিজেদের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেছেন সেদিনের দুর্যোগ থেকে বেঁচে ফেরা কয়েকজন ব্যক্তি।
রাম্বাচান শাহ
রাম্বাচান শাহের বয়স ৩৬ বছর। ১৫ বছর ধরে তিনি সেতুর কাছে থাকা এক মিষ্টির দোকানে কাজ করে আসছেন। গত বুধবার সকালেও তিনি ব্যস্ত ছিলেন কাজে। এ সময় হঠাৎই পানির তোড় ঢুকে পড়ে দোকানে, ভাসিয়ে নিয়ে যায় তাঁকে। হাত বাড়িয়ে শাহ পান বিদ্যুতের তার। প্রাণ বাঁচাতে সেটিকেই আঁকড়ে ধরেন তিনি।
বেঁচে ফেরা এই ব্যক্তি বলেন, ‘ওই তার ধরেই আমার জীবন বেঁচেছে। আমি নতুন জীবন পেয়েছি।’ কাঠমান্ডু পোস্টের খবর বলছে, প্রায় আধা ঘণ্টা থেকে এক ঘণ্টা তিনি সেভাবেই ঝুলেছিলেন। ওই মিষ্টির দোকানের আরও তিনজন এখনও নিখোঁজ।
রাজ কুমার কারকি
নেপালের মাকওয়ানপুরের ফেডিগনের রাজ কুমার কারকি প্রাণে বেঁচেছেন বন্যার পানির আগে গাড়ি চালিয়ে। তিনি ঘটনার দিন সকালে নিজের কনটেইনার ট্রাকের কাছে ছিলেন। এ সময় হঠাৎই সবাই পানি আসার বিষয়ে চিৎকার করতে থাকে। কারকির চোখের সামনেই ভেসে যান কয়েকজন।
কারকি দ্রুতগতিতে গাড়ি চালিয়ে চেষ্টা করেন পানি থেকে দূরে থাকতে। তিনি বলেন, ‘পানি একদম পেছনেই ছিল। আমি যত দ্রুত সম্ভব গাড়ি চালিয়ে পালানোর চেষ্টা করেছি। আমার পেছনে থাকা ৯ কনটেইনার ট্রাক ও তাদের চালকরা ভেসে গেছে।’ পরে তিনি গাড়িসহ উঠে যান পাহাড়ি ঢালে। এতে করে প্রাণে বেঁচে যান শেষ পর্যন্ত।
গাথে কামি
দৌড়ে পালিয়ে প্রাণে বেঁচেছেন গাথে কামি। তিনি গত বুধবার সকালে কাজ করছিলেন ত্রিশূলী-১ হাইড্রোপাওয়ার প্রকল্পের কাছে। হঠাৎ পাহাড় থেকে পাথর ভেঙে পড়ার শব্দ শুনতে পান তিনি। এরপরই তাঁর চোখে পড়ে ভোতে কোশি নদীর আগ্রাসী রূপ।
এ পর্যায়ে ৪০ বছর বয়সী কামি সবাইকে দৌড়াতে বলে নিজেও দৌড় শুরু করেন। দৌড়ে তিনি উঠে যান পাশের বনেই থাকা পাহাড়ে। ওই পাহাড়টি সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ৫০০ মিটার উঁচুতে। অল্প সময়ে দ্রুতগতিতে দৌড়ে পাহাড়ে ওঠার কারণে স্বল্প সময়ের জন্য জ্ঞানও হারান তিনি।
জ্ঞান ফেরার পর দেখতে পান তাঁর নিচে থাকা সবকিছু তলিয়ে গেছে। মানুষের চিৎকারও তাঁর কানে আসে। তিনি বলেন, ‘ওই সময় বুঝতে পারি যে আমি বেঁচে গেছি। এটি তখনও স্বপ্নের মতো মনে হচ্ছিল। সবকিছু আমার চোখের সামনে দেখতে পাচ্ছিলাম।’
কামি বলেন, ‘আমি যখন বন্যার ধ্বংস আমার চোখের সামনে দেখেছি, তখন মনে হয়েছে– আমিও মারা যাব। সৌভাগ্যবশত বেঁচে গেছি। মনে হচ্ছে, যেন আমি নতুন প্রাণ পেয়েছি।’


