সোমবার
২৪ আগস্ট ২০২৬, ৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সোমবার
২৪ আগস্ট ২০২৬, ৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

১৩১ জন রাজনৈতিক বন্দিকে মুক্তি দিল ভেনেজুয়েলার সরকার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ : ১৫ আগস্ট ২০২৬, ০৩:৪৩ পিএম আপডেট : ১৫ আগস্ট ২০২৬, ০৪:১৩ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
expand
ছবি: সংগৃহীত

ভেনেজুয়েলায় ১৩১ রাজনৈতিক বন্দিকে কারাগার থেকে মুক্তি দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে দেশটির অন্তর্বর্তী সরকার। শুক্রবার (১৪ আগস্ট) সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তি ও গণতান্ত্রিক সহাবস্থান কর্মসূচির’ আওতায় এসব বন্দির ক্ষেত্রে কারাবাসের পরিবর্তে বিকল্প বিধিনিষেধমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

তবে সরকারের ঘোষণার সঙ্গে মাঠপর্যায়ের তথ্যের কিছুটা পার্থক্য রয়েছে। বিরোধী রাজনৈতিক সংগঠন ভেন্তে ভেনেজুয়েলা জানিয়েছে, তারা স্বাধীনভাবে ৪৩ জন বন্দির মুক্তির বিষয়টি নিশ্চিত করতে পেরেছে। অন্যদের মুক্তির বিষয়টি যাচাই করা হচ্ছে। মানবাধিকার সংগঠন ফোরো পেনালও বেশ কয়েকজন বন্দির মুক্তির তথ্য নিশ্চিত করেছে।

বিরোধী নেতা হুয়ান পাবলো গুয়ানিপা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে মুক্তিপ্রাপ্তদের পরিবারের স্বস্তির কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, প্রিয়জনেরা বাড়ি ফিরতে পারায় পরিবারগুলোর জন্য এটি বড় স্বস্তির বিষয়। দীর্ঘদিন ধরে এসব পরিবারকে অনেক কষ্ট সহ্য করতে হয়েছে। তবে শুধু কিছু বন্দিকে মুক্তি দেওয়া যথেষ্ট নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

গুয়ানিপা ভেনেজুয়েলার সব রাজনৈতিক বন্দিকে কোনো ব্যতিক্রম ছাড়াই দ্রুত মুক্তি দেওয়ার দাবি জানান। একই সঙ্গে দেশটিতে রাজনৈতিক দমন-পীড়নের অবসানের আহ্বান জানান তিনি।

মানবাধিকার সংগঠন ফোরো পেনালসহ বিভিন্ন সংগঠনের তথ্য অনুযায়ী, ইয়োলিমার আলেমান ও মারিফ্রান্সিস মার্কানো নারী কারাগার আইএনওএফ থেকে এবং ড্যানিয়েল জামব্রানো মিরান্ডা রাজ্যের ইয়ারে-২ কারাগার থেকে মুক্তি পেয়েছেন।

রাজনৈতিক বন্দিদের মুক্তির দাবিতে কাজ করা কমিটি ফর দ্য ফ্রিডম অব পলিটিক্যাল প্রিজনার্স জানিয়েছে, আলেমান ও মার্কানোকে ২০২০ সালে ‘অপারেশন গিডিয়ন’ নামে পরিচিত একটি মামলায় আটক করা হয়েছিল। আর জামব্রানোকে ২০২২ সালে আটক করে তৎকালীন প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোর বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের অভিযোগ আনা হয়।

মানবাধিকার আইনজীবী তামারা সুজুও শুক্রবার মুক্তি পাওয়া রাজনৈতিক বন্দিদের মধ্যে সাইমারা রোমেরোর নাম উল্লেখ করেছেন।

সরকারের ভাষ্য, বন্দিদের আইনি অবস্থার পর্যালোচনার পর কৌঁসুলিদের আবেদনের ভিত্তিতে আদালত এসব বিকল্প ব্যবস্থা অনুমোদন করেছে। এসব মামলায় গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান, শান্তি ও দেশের উন্নয়নের বিরুদ্ধে কথিত হামলার অভিযোগ রয়েছে।

ভেনেজুয়েলার সরকার জানিয়েছে, ‘শান্তি ও গণতান্ত্রিক সহাবস্থান কর্মসূচি’ অব্যাহত থাকবে। এই কর্মসূচির আওতায় পুনর্মিলন, সামাজিক বন্ধন জোরদার এবং দেশে শান্তি সুসংহত করতে সরকার ও নাগরিক সমাজের বিভিন্ন উদ্যোগকে সহায়তা দেওয়া হবে।

তবে বিরোধী পক্ষ বলছে, রাজনৈতিক বন্দিদের আংশিক মুক্তি যথেষ্ট নয়। দেশটির সব রাজনৈতিক বন্দির মুক্তির পাশাপাশি কারাগারে নির্যাতন বন্ধের দাবিও জানিয়েছে তারা।

সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন