

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


দীর্ঘ ২৬ বছর ধরে নিজেদের দখলে রাখার পর আবারও ইতিহাস ও সংঘাতের জীবন্ত কিংবদন্তি বিউফোর্ট দুর্গের নিয়ন্ত্রণ হারালো লেবানন। ইসরায়েলের দাবি অনুযায়ী, লেবাননের দক্ষিণ সীমান্তের কাছে অবস্থিত ৯০০ বছরের পুরনো দুর্গটির কর্তৃত্ব ইসরায়েল নিজেদের অধীনে নিয়ে নিতে সক্ষম হয়েছে।
দাবি করা হয়েছে, দুর্গের ওপর ওড়ানো হয়েছে ইসরায়েলের পতাকা।
তবে এর আগেও দুর্গটি ইসরায়েলের দখলে ছিল। ১৯৮২ সালের লেবানন যুদ্ধের সময় প্যালেস্টাইন লিবারেশন অর্গানাইজেশনের কাছ থেকে এটি দখলে নিয়েছিল ইসরায়েল। তারপর থেকে দীর্ঘ ১৮ বছর ঐতিহাসিক এ দুর্গটিকে নিজেদের ঘাঁটি হিসেবে ব্যবহার করতে পেরছিল তারা।
সবশেষ ২০০০ সালে ইসরায়েল দক্ষিণ লেবানন থেকে সেনা প্রত্যাহার করলে দুর্গটি পুনরায় লেবাননের নিয়ন্ত্রণে ফিরে আসে। যা তখন পর্যটন কেন্দ্রে পরিণত করা হয়েছিল।
তবুও যুদ্ধ পিছু ছাড়েনি বিউফলের। ২৬ বছর পর আবারও দুর্গটির নিয়ন্ত্রণ হারাতে হলো লেবাননকে।
শুধু বিশ আর একুশ শতকের বারবার হাতবদলই নয়, নির্মাণের পর থেকেই একর পর এক দখল-বেদখলের মধ্য দিয়ে কৌশলগত ও আঞ্চলিক রাজনীতিতে গুরুত্বের চূড়ায় ছিল এ দুর্গ।
প্রায় ৯০০ বছর আগে ১১৩৯ সালে ক্রুসেডাররা এই দুর্গ নির্মাণ করেছিল। তৎকালীন জেরুজালেমের রাজা ফুলক এটি নির্মাণ করেছিলেন। ফরাসি ভাষায় যার নাম ‘বিউফোর্ট’ বা ‘সুন্দর দুর্গ’।
তবে স্থানীয়ভাবে আরবিতে এটি ‘ক্বালাত আল-শাকীফ’ বা ‘দুর্গম পাথরের দুর্গ’ নামে পরিচিত। লেবাননের লিটানি উপত্যকার এক খাড়া পাহাড়ের চূড়ায় এর অবস্থান।
নির্মাণের ৫১ বছর পর ১১৯০ সালে মুসলিম বীর সুলতান সালাহউদ্দিন আইয়ুবী ক্রুসেডারদের কাছ থেকে দুর্গটি দখল করেন। পরবর্তীতে আইয়ুবীয় এবং মামলুক শাসনামলে দুর্গটির ব্যাপক সংস্কার ও সম্প্রসারণ করা হয়।
এরপর দুর্গটি বিভিন্ন মুসলিম ও খ্রিস্টান শাসক, অটোমান সাম্রাজ্য এবং ফরাসি ম্যান্ডেট প্রশাসনের অধীনে ছিল।
যুগের বিবর্তনে ও ক্ষমতার পালাবদলে বারবার হাতবদল হতে হতে আধুনিক যুদ্ধ ও সংঘাতেও অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রণক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে এ দুর্গ।
১৯৭০ ও ১৯৮০-এর দশকে ফিলিস্তিন লিবারেশন অর্গানাইজেশন (পিএলও) এটিকে ঘাঁটি হিসেবে ব্যবহার করত। তবে ১৯৮২ সালের লেবানন যুদ্ধের সময় ইসরায়েলি বাহিনী পিএলও-র কাছ থেকে এটি দখল করে নেয় এবং পরবর্তী ১৮ বছর (২০০০ সাল পর্যন্ত) এটি তাদের সামরিক ঘাঁটি হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
এবার ২৬ বছর পর আবারও দুর্গটির নিয়ন্ত্রণ নিলো ইসরায়েল।
বিউফলের অবস্থান ও উচ্চতার কারণে লিতানি উপত্যকা ও উত্তর ইসরায়েল পর্যন্ত বিস্তীর্ণ অঞ্চল এখান থেকে খুব সহজেই পর্যবেক্ষণ করা যায়। আঞ্চলিক নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা ও যুদ্ধ পরিচালনার ক্ষেত্রে যা এটিকে সামরিক দিক থেকে অত্যন্ত সংবেদনশীল করে তুলেছে।
লিটানির এই দুর্গ এমন কয়েকটি বিরল দৃষ্টান্তের মধ্যে একটি, যেখানে একটি মধ্যযুগীয় দুর্গ আধুনিক যুদ্ধেও সামরিক মূল্য ও উপযোগিতা প্রমাণ করেছে।
