

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য বহুল প্রতীক্ষিত ‘নবম পে স্কেল’ বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করতে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার গঠিত উচ্চপর্যায়ের পুনর্গঠিত কমিটি।
বৃহস্পতিবার (২১ মে) মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনির নেতৃত্বে অনুষ্ঠিত এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে নতুন পে স্কেল আগামী ১ জুলাই থেকে কার্যকর করার বিষয়ে সরকারের দৃঢ় অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট নির্ভরযোগ্য সূত্র থেকে এসব তথ্য জানা গেছে।
সূত্র জানায়, নতুন পে স্কেল বাস্তবায়নের ফলে রাষ্ট্রীয় কোষাগারের ওপর যে বিশাল আর্থিক চাপ তৈরি হবে, তা মোকাবিলায় আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেটে প্রয়োজনীয় অর্থ সংরক্ষণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এই লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে আসন্ন বাজেটে আনুমানিক ৩০ থেকে ৩৫ হাজার কোটি টাকার একটি বিশেষ ‘থোক বরাদ্দ’ রাখার সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে।
বৈশ্বিক অর্থনৈতিক চাপ এবং দেশের অভ্যন্তরীণ সামগ্রিক আর্থিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে এই নবম পে স্কেলটি এককালীন না করে মোট তিন ধাপে (৩ পর্যায়) বাস্তবায়নের কৌশলগত পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
এই পরিকল্পনা অনুযায়ী, আগামী অর্থবছরে প্রথম ধাপে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মূল বেতনের (বেসিক) অর্ধেক বা ৫০ শতাংশ বৃদ্ধি কার্যকর করা হবে। পরবর্তী অর্থাৎ দ্বিতীয় বছরে বাকি অর্ধেক মূল বেতন বৃদ্ধি এবং চূড়ান্ত বা তৃতীয় বছরে সব ধরনের ভাতা ও অন্যান্য আনুষঙ্গিক সুবিধা পুরোপুরি চালু করা হবে।
মূল্যস্ফীতির ক্রমাগত ঊর্ধ্বগতি এবং জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির ফলে সরকারি চাকরিজীবীদের ওপর যে চাপ তৈরি হয়েছে, তা লাঘব করতেই এই উচ্চপর্যায়ের কমিটি নবম পে স্কেল বাস্তবায়নের কাজ দ্রুত এগিয়ে নিচ্ছে।
বৃহস্পতিবারের গুরুত্বপূর্ণ এই বৈঠকে নবম পে স্কেলের বিভিন্ন টেকনিক্যাল দিক পর্যালোচনা ও সুপারিশ প্রণয়নের জন্য গঠিত পৃথক তিনটি বিশেষ কমিটি তাদের তৈরিকৃত প্রতিবেদন উপস্থাপন করে।
বৈঠকে উপস্থাপিত তিনটি প্রতিবেদনের মধ্যে দুটি প্রতিবেদনের খুঁটিনাটি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা সম্পন্ন হয়েছে। এর মধ্যে মূলত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা বৃদ্ধি এবং জাতীয় বাজেটের সাথে এর সামঞ্জস্যতা সংক্রান্ত বিষয়গুলো সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পায়। বাকি থাকা তৃতীয় প্রতিবেদনটি কমিটির পরবর্তী বৈঠকে পর্যালোচনার জন্য এজেন্ডাভুক্ত করা হয়েছে।
অর্থ বিভাগের সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, পুরো প্রক্রিয়াটি বাস্তবসম্মত, সুষম ও শতভাগ ত্রুটিমুক্ত করতে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের আগে আরও কয়েকটি পর্যালোচনা বৈঠকের প্রয়োজন হতে পারে।
তবে অভ্যন্তরীণ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হতে কিছুদিন সময় লাগলেও আগামী ১ জুলাই থেকেই যে নবম পে স্কেল কার্যকর করা হবে এই সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত ও অপরিবর্তিত রয়েছে।
সরকার ইতোমধ্যে নবম পে স্কেল পর্যালোচনা ও এর চূড়ান্ত রূপরেখা প্রণয়নের লক্ষ্যে গঠিত ‘জাতীয় বেতন কমিশন’, ‘বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস পে কমিশন’ এবং ‘সশস্ত্র বাহিনী বেতন কমিটি’র পূর্ববর্তী সুপারিশগুলো পর্যালোচনার জন্য একটি উচ্চপর্যায়ের পুনর্গঠিত কমিটি গঠন করেছে।
এই কমিটির আহ্বায়ক হিসেবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করছেন খোদ মন্ত্রিপরিষদ সচিব। আর অর্থ বিভাগ এই কমিটিকে সার্বিক সাচিবিক ও দাপ্তরিক সহায়তা প্রদান করছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র আরও জানায়, নতুন পে স্কেলের সব ধরনের আইনি ও প্রশাসনিক আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করতে আরও কয়েক মাস সময় লেগে যেতে পারে।
এই প্রশাসনিক জটিলতার কারণে যদি আগামী আগস্ট বা সেপ্টেম্বর মাসেও পূর্ণাঙ্গ সরকারি গেজেট প্রকাশিত হয়, তবুও সরকারি কর্মচারীদের চিন্তার কোনো কারণ নেই। কারণ তারা প্রজ্ঞাপন জারির পর আগামী ১ জুলাই থেকেই হিসাব করে বকেয়াসহ (এরিয়ার) নতুন স্কেলের বর্ধিত আর্থিক সুবিধা প্রাপ্য হবেন।
সার্বিক বিষয়ে অর্থ বিভাগের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, ‘সরকারি কর্মচারীদের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা ও জীবনযাত্রার মান যেমন গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করা হচ্ছে, ঠিক তেমনি সরকারের সামগ্রিক রাজস্ব সক্ষমতার দিকটিও আমাদের মাথায় রাখতে হচ্ছে।
দেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রেখে এই দুইয়ের মধ্যে একটি নিখুঁত ভারসাম্য বজায় রাখার সর্বোচ্চ চেষ্টা চালাচ্ছে উচ্চপর্যায়ের এই কমিটি।’
