

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ভবিষ্যৎ কোন পথে এগোবে, তা প্রভাবিত করতে পারে এমন বহুল আলোচিত এক মামলার বিচারিক কার্যক্রম আজ মঙ্গলবার শুরু হয়েছে। চ্যাটজিপিটির নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ওপেনএআইকে ঘিরে দুই বিলিয়নিয়ার ইলন মাস্ক ও স্যাম অল্টম্যান এখন আদালতে মুখোমুখি। অলাভজনক সংস্থা থেকে শত শত বিলিয়ন ডলারের মুনাফাভিত্তিক প্রতিষ্ঠানে রূপান্তর নিয়েই তাদের এই আইনি লড়াই।
সোমবার ৯ সদস্যের জুরি প্যানেলের সংক্ষিপ্ত তালিকা চূড়ান্ত হওয়ার পর আজ ক্যালিফোর্নিয়ার ওকল্যান্ডের ফেডারেল আদালতে মাস্কের দায়ের করা দেওয়ানি মামলার প্রাথমিক শুনানি শুরু হয়।
মাস্কের অভিযোগ, ওপেনএআইয়ের প্রধান নির্বাহী স্যাম অল্টম্যান এবং প্রেসিডেন্ট গ্রেগ ব্রকম্যান প্রতিষ্ঠানের মূল লক্ষ্য থেকে সরে গেছেন। তার দাবি, মানবকল্যাণে কাজ করার প্রতিশ্রুতি ভেঙে প্রতিষ্ঠানটিকে ব্যক্তিগত লাভ ও বিনিয়োগকারীদের মুনাফার কেন্দ্রে পরিণত করা হয়েছে।
বিশ্বের শীর্ষ ধনীদের একজন ইলন মাস্ক ওপেনএআই এবং এর বড় বিনিয়োগকারী মাইক্রোসফটের কাছে ১৫০ বিলিয়ন ডলার ক্ষতিপূরণ দাবি করেছেন। তিনি চান এই অর্থ ওপেনএআইয়ের দাতব্য শাখায় জমা দেওয়া হোক। পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানটিকে আবার অলাভজনক কাঠামোয় ফিরিয়ে নেওয়া এবং অল্টম্যান ও ব্রকম্যানকে পদচ্যুত করার দাবিও জানিয়েছেন।
মাস্ক জানান, ওপেনএআইয়ের যাত্রার শুরুতে তিনি ৩৮ মিলিয়ন ডলার প্রাথমিক বিনিয়োগ করেছিলেন। তবে ২০১৮ সালে বোর্ড ছাড়ার পর ২০১৯ সালে প্রতিষ্ঠানটি মুনাফাভিত্তিক ব্যবসায়িক কাঠামোয় চলে যায়। ওপেনএআইয়ের দাবি, এই পরিবর্তনের বিষয়ে মাস্ক আগে থেকেই অবগত ছিলেন এবং এতে সম্মতিও দিয়েছিলেন। তাদের অভিযোগ, নিজে নেতৃত্বে আসতে না পেরে এখন নিজের এআই প্রতিষ্ঠান এক্সএআইকে এগিয়ে নিতে এই মামলা করছেন মাস্ক।
মার্কিন ডিস্ট্রিক্ট জজ ইভন গনজালেজ রজার্স জানিয়েছেন, আগামী ১২ মে’র মধ্যে তিনি জুরিদের সিদ্ধান্ত জানতে চান। মামলায় ইলন মাস্ক, স্যাম অল্টম্যান এবং মাইক্রোসফট প্রধান সত্য নাদেলার সাক্ষ্য দেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, চলতি সপ্তাহেই আদালতে সাক্ষ্য দেবেন মাস্ক।
২০১৫ সালে গুগলের প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে এবং মানবকল্যাণে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা উন্নয়নের লক্ষ্য নিয়ে মাস্ক ও অল্টম্যান ওপেনএআই প্রতিষ্ঠা করেন। গ্রেগ ব্রকম্যানের একটি ছোট অ্যাপার্টমেন্টের ল্যাব থেকে শুরু হওয়া প্রতিষ্ঠানটির বর্তমান বাজারমূল্য ৮৫০ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই মামলা ওপেনএআইয়ের সম্ভাব্য শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্তির পরিকল্পনায় প্রভাব ফেলতে পারে। একই সঙ্গে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার নৈতিকতা, নিয়ন্ত্রণ এবং বাণিজ্যিক ব্যবহারের ভবিষ্যৎ নিয়েও নতুন করে প্রশ্ন তুলতে পারে।
এদিকে ওপেনএআইয়ের প্রতিদ্বন্দ্বী প্রতিষ্ঠানগুলো, বিশেষ করে অ্যানথ্রোপিক, বাজারে নিজেদের অবস্থান শক্ত করতে সক্রিয় রয়েছে। বিভিন্ন বিশ্লেষণে বলা হচ্ছে, ওপেনএআই শেয়ারবাজারে এলে এর মূল্য এক ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছাতে পারে।
বর্তমানে ওপেনএআই নিজেদের কাঠামো পরিবর্তন করে ‘পাবলিক বেনিফিট করপোরেশন’-এ রূপান্তর করেছে, যেখানে মূল অলাভজনক শাখার ২৬ শতাংশ মালিকানা রয়েছে। তাই এই আইনি লড়াই শুধু দুই ধনকুবেরের ব্যক্তিগত দ্বন্দ্ব নয়; বরং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার নৈতিকতা ও ব্যবসায়িক ভবিষ্যৎ নির্ধারণেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
সূত্র: রয়টার্স/এএফপি
মন্তব্য করুন
