

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


পাবনার ঈশ্বরদীতে অবস্থিত রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে আজ মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) আনুষ্ঠানিকভাবে জ্বালানি লোডিং কার্যক্রম শুরু হচ্ছে। এই গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলকের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ আনুষ্ঠানিকভাবে পারমাণবিক শক্তি ব্যবহারকারী দেশের তালিকায় যুক্ত হতে যাচ্ছে।
কেন্দ্রটি চালু হলে এর সম্ভাব্য আয়ুষ্কাল হবে প্রায় ৬০ বছর। এই সময়জুড়ে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে। এছাড়া নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ ও প্রয়োজনীয় মেরামত নিশ্চিত করা গেলে কেন্দ্রটির কার্যক্রম আরও ৩০ বছর পর্যন্ত বাড়ানো যেতে পারে। ফলে সব মিলিয়ে প্রায় ৯০ বছর পর্যন্ত বিদ্যুৎ সরবরাহে সক্ষম হতে পারে এই প্রকল্প।
রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটের পারমাণবিক চুল্লিতে বিক্রিয়া সম্পন্ন করতে মোট ১৬৩টি ইউরেনিয়াম বান্ডেলের প্রয়োজন হবে। প্রতিটি বান্ডেলে ১৫টি করে ইউরেনিয়াম প্লেটসমৃদ্ধ রড রয়েছে। এরই মধ্যে বাংলাদেশ মোট ১৬৮টি বান্ডেল সংগ্রহ করেছে যার মধ্যে ১৬৩টি চুল্লিতে ব্যবহার করা হবে এবং বাকি ৫টি সংরক্ষিত থাকবে।
সবগুলো বান্ডেল চুল্লিতে স্থাপন করতে প্রায় ৪০ থেকে ৪৫ দিন সময় লাগবে। এই প্রক্রিয়া শেষ হলে নিউক্লিয়ার ফিশন বা পরমাণু বিভাজনের মাধ্যমে তাপ উৎপন্ন হবে। সেই তাপে পানি বাষ্পে রূপান্তরিত হয়ে টারবাইন ঘোরাবে, আর টারবাইনের মাধ্যমেই উৎপাদিত হবে বিদ্যুৎ।
একবার জ্বালানি লোড করার পর তা দিয়ে টানা প্রায় দেড় বছর বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব। ফলে তেল, গ্যাস বা কয়লার মতো নিয়মিত জ্বালানি আমদানির প্রয়োজন পড়ে না। দেড় বছর পর সম্পূর্ণ জ্বালানি একসঙ্গে পরিবর্তন না করে ধাপে ধাপে এক-তৃতীয়াংশ করে বদলালেই কার্যক্রম চালু রাখা যায়।
জ্বালানি লোডিংয়ের পরেও শতাধিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা সম্পন্ন করতে হবে। সব ধাপ সফলভাবে পার হলে কয়েক মাস পর ধাপে ধাপে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ যুক্ত হবে। রূপপুরের দুটি ইউনিটের প্রতিটির উৎপাদন ক্ষমতা ১,২০০ মেগাওয়াট।
মন্তব্য করুন
