মঙ্গলবার
২৮ এপ্রিল ২০২৬, ১৫ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
মঙ্গলবার
২৮ এপ্রিল ২০২৬, ১৫ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
জোবায়েদ হত্যা মামলা

ডিএনএ রিপোর্ট না পাওয়ায় ঝুলে আছে তদন্ত প্রতিবেদন

জবি প্রতিনিধি
প্রকাশ : ২৮ এপ্রিল ২০২৬, ০৮:৪৭ এএম
জবি শিক্ষার্থী জোবায়েদ হোসেন।
expand
জবি শিক্ষার্থী জোবায়েদ হোসেন।

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) শিক্ষার্থী ও শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য জোবায়েদ হোসেন হত্যাকাণ্ডের ছয় মাস পার হলেও এখনো মামলার চার্জশিট দাখিল করা হয়নি। তদন্ত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ডিএনএ টেস্টের রিপোর্ট না পাওয়ায় তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে বিলম্ব হচ্ছে।

জোবায়েদ জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০১৯–২০ শিক্ষাবর্ষের পরিসংখ্যান বিভাগের শিক্ষার্থী ছিলেন। হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন বার্জিস শাবনাম বর্ষা, তার প্রেমিক মাহির রহমান ও ফারদীন আহম্মেদ আয়লান। এছাড়া মাহিরের বন্ধু প্রীতম চন্দ্র দাস এ মামলায় সাক্ষ্য দিয়েছেন।

গত বছরের ২১ অক্টোবর ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেটের পৃথক আদালতে তাদের জবানবন্দি ও সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়। এর মধ্যে মাহির রহমান, বর্ষা ও আয়লান আদালতে জবানবন্দি দেন। পরে আদালত তিন আসামিকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। ময়নাতদন্ত শেষে গত ২০ অক্টোবর জোবায়েদকে কুমিল্লার কৃষ্ণপুর গ্রামে দাফন করা হয়।

এ বিষয়ে জোবায়েদের ভাই এনায়েত হোসেন বলেন, “মামলার বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে তেমন কোনো সহযোগিতা পাইনি। যথাযথ সহযোগিতা পেলে চার্জশিট দাখিলে এত দেরি হওয়ার কথা নয়।”

বংশাল থানার অফিসার ইনচার্জ রফিকুল ইসলাম বলেন, “জোবায়েদ হত্যা মামলার ডিএনএ টেস্টের রিপোর্ট এখনো হাতে আসেনি। এ কারণে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়া সম্ভব হয়নি। তবে আমরা আশাবাদী, মে মাসের মধ্যেই ডিএনএ রিপোর্ট পাওয়া যাবে। এরপর তদন্তের পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন জমা দিতে পারবো।”

বাদীপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট ইসতিয়াক হোসাইন বলেন, “তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য আগামী ১০ মে দিন ধার্য রয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত আমাদের কাছে পুলিশ প্রতিবেদন আসেনি। মামলাটি এখনো আমলি আদালতে রয়েছে। মামলার আসামিদের কেউ এখনো জামিন পাননি, সবাই কারাগারে আছেন।”

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. রইস উদ্দীনের সঙ্গে সরাসরি ও মুঠোফোনে কয়েকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তা সম্ভব হয়নি।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. নাসির উদ্দীন বলেন, “জোবায়েদ হত্যাকাণ্ডের মামলার বিষয়ে আমার কাছে কোনো তথ্য নেই।”

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক মেহেদী হাসান হিমেল বলেন, “জোবায়েদ হত্যাকাণ্ডের বিচার প্রক্রিয়ায় দীর্ঘসূত্রতা ও গড়িমসি অত্যন্ত হতাশাজনক। ঘটনার এতদিন পেরিয়ে গেলেও এখনো বিচার কার্যক্রম দৃশ্যমান অগ্রগতি না হওয়ায় আমরা উদ্বিগ্ন। আমরা সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও তদন্ত সংস্থার প্রতি দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি, যেন দ্রুততম সময়ের মধ্যে হত্যাকাণ্ডের বিচার নিশ্চিত করা হয়।”

জকসুর সাধারণ সম্পাদক (জিএস) এবং শাখা ছাত্রশিবিরের সভাপতি আব্দুল আলিম আরিফ বলেন, “সময়ের পরিক্রমায় এমন নৃশংস হত্যাকাণ্ড সত্যিই অত্যন্ত বেদনাদায়ক। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন দ্রুত ও সুষ্ঠু বিচার নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দিলেও এখনো বিচার প্রক্রিয়া সম্পন্ন না হওয়ায় আমরা দুঃখ প্রকাশ করছি। একটি নির্বাচিত সরকারের সময়েও এ ঘটনার বিচার ঝুলে থাকা হতাশাজনক। আমরা জোবায়েদের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করব এবং বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের ওপর প্রয়োজনীয় চাপ প্রয়োগ করব, যাতে দ্রুত তদন্ত কার্যক্রম সম্পন্ন করে বিচার নিশ্চিত করা হয়। আমরা জোবায়েদ হত্যাকাণ্ডের নিরপেক্ষ তদন্ত ও দৃষ্টান্তমূলক বিচার দাবি করছি।”

বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্র অধিকার পরিষদের সভাপতি এ কে এম রাকিব বলেন, জুবায়েদ হত্যার বিচার পাওয়ার শেষ আশাটুকুও যেন আমাদের বিচারব্যবস্থার কাছে ম্লান হয়ে যাচ্ছে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনও হয়তো ধীরে ধীরে ভুলে যাচ্ছে যে তাদেরই একজন শিক্ষার্থী নির্মমভাবে নিহত হয়েছিল। আমরা জুবায়েদ হত্যার বিচার চাই। প্রশাসনের প্রতি আহ্বান এ বিষয়ে দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ নিয়ে বিষয়টিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিন।"

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

মন্তব্য করুন