

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


জলবায়ু পরিবর্তন বা আর্থসামাজিক কারণে মানুষের অভিবাসন বা স্থানান্তরের বিষয়টিকে কেবল মানবিকতা বা দয়ার দৃষ্টিতে দেখার সুযোগ নেই। একে একটি গুরুত্বপূর্ণ ‘জননীতি’ হিসেবে বিবেচনা করে রাষ্ট্রের মূল নীতি-নির্ধারণী প্রক্রিয়ায় অন্তর্ভুক্ত করতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন।
মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে ‘বাংলাদেশে জলবায়ু পরিবর্তনজনিত অভিবাসীদের অভিযোজন চ্যালেঞ্জ ও স্থানীয় পর্যায়ের সমাধান’ শীর্ষক এক কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
রিফিউজি অ্যান্ড মাইগ্রেটরি মুভমেন্টস রিসার্চ ইউনিট (রামরু) এই কর্মশালার আয়োজন করে।
তথ্যমন্ত্রী বলেন, আমরা বেশিরভাগ ক্ষেত্রে অভিবাসনকে একটা ঝামেলা হিসেবে দেখি, আর যারা দরদী তারা এটাকে মানবিকতা হিসেবে দেখেন।
কিন্তু আসলে আমাদের দেখার লেন্সটা পরিবর্তন করতে হবে। এটা সম্পূর্ণই একটি জননীতির বিষয়।
পরিবেশগত বা আর্থসামাজিক যে কারণেই হোক, অভিবাসনের এই বিবর্তন একটি অনিবার্য গতি। একে আমাদের চলমান নীতি-নির্ধারণী প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, ভূমধ্যসাগরের দুর্ঘটনার সঙ্গে ঢাকা বা চট্টগ্রামে মানুষের কাজের সন্ধানে আসার যে গতি, তার মধ্যে খুব একটা পার্থক্য নেই। যারা স্থানান্তরিত হচ্ছেন, তারা বাধ্য হয়েই করছেন। তারা কেবল করুণা পাওয়ার জন্য ঘুরে বেড়াবেন এমনটা ভাবা ঠিক নয়।
দেশের গণতান্ত্রিক পরিবেশ প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা প্রাতিষ্ঠানিক রূপ না পাওয়ার কারণে অতীতে আমাদের রাজনৈতিক প্রক্রিয়া অতটা পরিপক্ক ছিল না।
তবে তারেক রহমানের নেতৃত্বে আমাদের সরকার ক্ষমতায় আসার আগেই রাষ্ট্রের কাঠামোগত সমস্যাগুলো চিহ্নিত করেছে। বিগত দিনের রাজনীতির সঙ্গে বর্তমান রাজনীতির এটাই গুণগত পার্থক্য যে আমরা সমস্যাগুলোকে পাশ কাটিয়ে না গিয়ে সেগুলো সমাধানের চেষ্টা করছি।
মন্ত্রী বলেন, আগে অভিবাসনের কারণ হিসেবে কেবল পরিবেশ বা অর্থনীতিকে দেখা হতো। কিন্তু এখন দেখা যাচ্ছে রাজনৈতিক সংকটও একটি বড় কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। আমরা জনগণের অংশগ্রহণের মাধ্যমে একটি নির্বাচিত সরকার পেয়েছি এবং সরকারপ্রধান রাষ্ট্র সংস্কারের যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, আমরা তা বাস্তবায়নে আন্তরিকভাবে কাজ করছি।
পরিবেশ বিপর্যয় নিয়ে মন্ত্রী বলেন, দু-একজন প্রভাবশালী রাষ্ট্রনায়ক বাদে সারা বিশ্বই বিজ্ঞানের ব্যাখ্যা মেনে নিয়েছে। বিজ্ঞান এখনো পৃথিবীর বাইরে এমন কোনো গ্রহ আবিষ্কার করতে পারেনি যেখানে সমস্যা হলে আমরা সবাই চলে যেতে পারব। তাই এই গ্রহকে বাসযোগ্য রাখা ছাড়া আমাদের সামনে আর কোনো পথ খোলা নেই। আমাদের জলবায়ু পরিবর্তনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতেই হবে।
রামরু-র কার্যক্রমের প্রশংসা করে তিনি বলেন, সরকারের নিয়মিত এজেন্ডার বাইরেও অভিবাসনের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোকে সামনে নিয়ে আসার জন্য আপনাদের ভূমিকা অত্যন্ত জরুরি। এই ধরনের কর্মশালা নীতি-নির্ধারণী ক্ষেত্রে গুণগত পরিবর্তন আনবে।
মন্তব্য করুন
