

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


ডেটা নিরাপত্তা, ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতার উদ্বেগের কারণে পাকিস্তানে স্যাটেলাইট ইন্টারনেট সেবা চালুর জন্য স্টারলিংকের লাইসেন্স প্রদান আপাতত স্থগিত রেখেছে সরকার। এই সিদ্ধান্তকে দেশের ডিজিটাল আকাশসীমার নিয়ন্ত্রণ নিয়ে ইসলামাবাদের বাড়তি সতর্কতার প্রতিফলন হিসেবে দেখা হচ্ছে।
ইলন মাস্কের মালিকানাধীন স্টারলিংক পাকিস্তানের স্যাটেলাইট ইন্টারনেট বাজারে প্রবেশে আগ্রহী কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের একটি। তবে সরকারি কর্মকর্তাদের মতে, নিরাপত্তা ও কৌশলগত কিছু বিষয় এখনো সমাধান না হওয়ায় অনুমোদন প্রক্রিয়া ধীরগতির হয়েছে।
দ্য এক্সপ্রেস ট্রিবিউনকে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, সরকার জানতে পেরেছে যে স্টারলিংক পাকিস্তানের বিদ্যমান নজরদারি, নিয়ন্ত্রণ ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার বাইরে গিয়ে নির্দিষ্ট কিছু ডেটা আদান-প্রদান করতে সক্ষম হতে পারে।
একজন ঊর্ধ্বতন সরকারি কর্মকর্তা বলেন, “পাকিস্তানের গ্রাহকদের ডেটার নিরাপত্তা নিশ্চিত না করে আমরা স্টারলিংককে লাইসেন্স দিতে পারি না।”
কর্মকর্তারা আরও জানান, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ইলন মাস্কের মধ্যকার সাম্প্রতিক দ্বন্দ্বও নিরাপত্তা ছাড়পত্র না দেওয়ার একটি কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। পাকিস্তানি কর্তৃপক্ষ আশঙ্কা করছে, স্টারলিংককে অনুমোদন দিলে তা প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের অসন্তোষের কারণ হতে পারে।
উল্লেখ্য, একসময় ট্রাম্প ও মাস্কের সম্পর্ক ভালো থাকলেও পরে তাদের মধ্যে মতবিরোধ দেখা দেয়। ট্রাম্প পুনরায় ক্ষমতায় ফেরার পর পাকিস্তান ও যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক উন্নত হয়েছে, ফলে ইসলামাবাদ এমন কোনো পদক্ষেপ নিতে চায় না যা ওয়াশিংটনের উদ্বেগ বাড়াতে পারে।
তবে সূত্রগুলো বলছে, রাজনৈতিক বিষয় ছাড়াও প্রকৃত কারণ হলো কিছু পরীক্ষামূলক ক্ষেত্রে দেখা গেছে, স্যাটেলাইট ইন্টারনেট সেবা দেওয়ার সময় স্টারলিংক সংবেদনশীল তথ্য সংগ্রহ করতে পারে। এই সমস্যা সমাধানে সরকার কাজ করছে বলেই লাইসেন্স প্রদানে বিলম্ব হচ্ছে।
বর্তমানে পাকিস্তানের ইন্টারনেট ডেটার ওপর উল্লেখযোগ্য নিয়ন্ত্রণ রয়েছে, কারণ পাকিস্তান টেলিকমিউনিকেশন কোম্পানি লিমিটেড (পিটিসিএল) দেশটির আন্ডারসি কেবল অবকাঠামোর বড় অংশের মালিক। তবে স্যাটেলাইটভিত্তিক ইন্টারনেট চালু হলে সরকার সে রকম নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখতে পারবে কি না, তা নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। বিশেষ করে বিদেশি প্রতিষ্ঠান, স্টারলিংকের বিরুদ্ধে ডেটা চুরির আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন কর্মকর্তারা।
স্যাটেলাইট ইন্টারনেট মূলত বেলুচিস্তানের মতো দুর্গম এলাকায় সেবা দেওয়ার কথা, যেখানে প্রচলিত ইন্টারনেট সুবিধা সীমিত বা নেই। বর্তমানে নিরাপত্তাজনিত কারণে কর্তৃপক্ষ চাইলে ইন্টারনেট সেবা পর্যবেক্ষণ বা বন্ধ করতে পারে, কিন্তু স্যাটেলাইট সেবার ক্ষেত্রে তা কঠিন হয়ে উঠতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
স্টারলিংক ইতোমধ্যে পাকিস্তানে সেবা চালুর জন্য প্রয়োজনীয় প্রযুক্তিগত প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে। তবে এখনো পূর্ণাঙ্গ নিয়ন্ত্রক কাঠামো চূড়ান্ত হয়নি।
বর্তমানে স্টারলিংকসহ পাঁচটি কোম্পানি পাকিস্তানে স্যাটেলাইট ইন্টারনেট সেবার লাইসেন্স পেতে আবেদন করেছে এবং দেশটিতে কোটি কোটি ডলার বিনিয়োগে আগ্রহ প্রকাশ করেছে।
পাকিস্তান স্পেস অ্যাক্টিভিটিজ রেগুলেটরি বোর্ড (PSARB) জানিয়েছে, স্টারলিংক ছাড়াও চীনের সাংহাই স্পেসকম স্যাটেলাইট টেকনোলজি লিমিটেড (SSST), ইউরোপের ওয়ানওয়েব (ইউটেলস্যাট গ্রুপ), অ্যামাজনের প্রজেক্ট কুইপার এবং কানাডার টেলিস্যাট পাকিস্তানের বাজারে প্রবেশে আগ্রহী।
চীনা কোম্পানিগুলোর পাকিস্তানে ইতোমধ্যে শক্ত অবস্থান রয়েছে এবং তারা স্টারলিংককে সরাসরি প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে দেখছে। তবে এখনো PSARB লাইসেন্সিং নীতিমালা চূড়ান্ত না করায় নিবন্ধন প্রক্রিয়া আটকে আছে।
PSARB কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সরকার সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সঙ্গে পরামর্শ শেষ করেছে, তবে স্যাটেলাইট ইন্টারনেট চালুর আগে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে আরও সময় প্রয়োজন।
মন্তব্য করুন

