

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


যুক্তরাজ্যের টেমস নদীর তীরে ১৮০ কোটি পাউন্ডের একটি বন্দর নির্মাণের কাজ পাওয়ার জন্য দুবাইয়ের এক ব্যবসায়ীর হয়ে লর্ড মেন্ডেলসনের কাছে তদবির করেছিলেন জেফ্রি এপস্টেইন।
সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ের ব্যবসায়ী সুলতান আহমেদ বিন সুলায়েম, যিনি দেশটির বন্দর পরিচালনাকারী সংস্থা ‘ডিপিওয়ার্ল্ড’-এর চেয়ারম্যান, তাঁর ‘লন্ডন গেটওয়ে’ প্রকল্পের জন্য সরকারি ঋণের নিশ্চয়তা এবং বিনিয়োগ খুঁজছিলেন।
চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) ইজারা দেওয়ার পরিকল্পনা অনুযায়ী, ডিপিওয়ার্ল্ড এই প্রকল্প পরিচালনা করবে। তবে চট্টগ্রাম বন্দরের শ্রমিক-কর্মচারীরা এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে কর্মবিরতি ও অন্যান্য কর্মসূচি পালন করছেন। ডিপিওয়ার্ল্ডের ওয়েবসাইট অনুযায়ী, সুলায়েম এখনও চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ ৩০ লাখের বেশি এপস্টেইন নথি প্রকাশ করেছে। সেই নথি অনুযায়ী, এপস্টেইন ২০০৯ সালে লর্ড মেন্ডেলসনের কাছে একটি ইমেইল পাঠিয়ে বিনিয়োগ চেয়েছিলেন। ওই ইমেইলে বিন সুলায়েম প্রকল্পটিকে ‘যুক্তরাজ্যের বৃহত্তম অবকাঠামো বিনিয়োগ প্রকল্প (১৮০ কোটি পাউন্ড)’ এবং ‘বড় কর্মসংস্থানের সুযোগ’ হিসেবে বর্ণনা করেছিলেন।
ইমেইলে উল্লেখ ছিল যে, ওই অবকাঠামো তৈরির জন্য যুক্তরাজ্যের সরকারের আর্থিক সহায়তা প্রয়োজন। ওই সময় ডিপিওয়ার্ল্ড টেমস নদীর তীরে গভীর সমুদ্রবন্দর নির্মাণ করছিল, যাতে কনটেইনারবাহী জাহাজগুলো রাজধানীর কাছে নোঙর করতে পারে। প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছিল, নতুন বন্দর ৩৬ হাজার কর্মসংস্থান সৃষ্টি করবে এবং যুক্তরাজ্যের অর্থনীতিতে বছরে ৩২০ কোটি পাউন্ড যোগ হবে।
২০০৯ সালের জুলাইয়ে বিন সুলায়েম এপস্টেইনের কাছে লিখেছিলেন, ব্যাংকগুলো যুক্তরাজ্যের অর্থনীতি নিয়ে আশাবাদী নয়, তাই সরকারকে ঋণের নিশ্চয়তা দিতে হবে। পরে নভেম্বর মাসের একটি ইমেইলে তিনি এপস্টেইনকে অনুরোধ করেন, লর্ড মেন্ডেলসনের কাছে পাঠানোর জন্য বার্তাটি একটু দেখিয়ে দিন। ইমেইলে সরকারি ঋণের নিশ্চয়তার গুরুত্বের ওপর জোর দেওয়া হয় এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রধানমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ বিন রশিদ আল-মাকতুমের রাষ্ট্রীয় সফরের আগে বিষয়টি দ্রুত সমাধান করার প্রয়োজন উল্লেখ করা হয়।
এপস্টেইন উত্তরে লেখায় কিছু ‘ছোটখাটো সংশোধন’ করেছেন। অন্য একটি ইমেইলে দেখা গেছে, ২০০৯ সালের সেপ্টেম্বরে বৈঠক আয়োজনের সময় তিনি বিন সুলায়েমকে লর্ড মেন্ডেলসনের ব্যক্তিগত ইমেইল ঠিকানা দিয়েছিলেন।
২০১০ সালের জানুয়ারি মাসে ডিপিওয়ার্ল্ড নিশ্চিত করে যে তারা যুক্তরাজ্যের বন্দর প্রকল্প এগিয়ে নেবে। তখনকার প্রধানমন্ত্রী গর্ডন ব্রাউন মন্তব্য করেছিলেন, এই বিনিয়োগ আর্থিক মন্দা কাটিয়ে যুক্তরাজ্যের অর্থনীতি পুনরুজ্জীবিত করার একটি ‘বিরাট আস্থার প্রতীক’।
সূত্র: দ্য টেলিগ্রাফ
মন্তব্য করুন

