

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


ইরানে নারীদের জন্য আইনে নারীদের মোটরসাইকেল ও স্কুটার চালানো স্পষ্টভাবে নিষিদ্ধ করা না হলেও কর্তৃপক্ষ লাইসেন্স দিতে অস্বীকৃতি জানাতো। আইনি অস্পষ্টতার কারণে নারীরা দুর্ঘটনার কবলে পড়লে তাদের নিজেদের দায়ভার বহন করতে হতো।
তবে এবার আনুষ্ঠানিকভাবে মোটরসাইকেল চালানোর লাইসেন্স নিতে পারবেন ইরানের নারীরা বলে জানিয়েছে স্থানীয় একটি গণমাধ্যম। এর মধ্য দিয়ে দুই চাকার যানবাহন চালানোর ব্যাপারে দীর্ঘদিনের আইনি অস্পষ্টতার অবসান ঘটলো।
বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) তেহরান থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানিয়েছে।
ইরানের ফার্স্ট ভাইস প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ রেজা আরেফ গতকাল মঙ্গলবার ট্রাফিক আইন স্পষ্ট করে একটি প্রস্তাবে স্বাক্ষর করেছেন।জানুয়ারির শেষ দিকে ইরানের মন্ত্রিসভা এ প্রস্তাব অনুমোদন করেছে বলে দেশটির ইলনা সংবাদ সংস্থা জানিয়েছে।
সংবাদ সংস্থাটি জানিয়েছে, প্রস্তাবিত আইন অনুযায়ী ট্রাফিক পুলিশ নারী আবেদনকারীদের প্রশিক্ষণ দেওয়া, পুলিশের সরাসরি তত্ত্বাবধানে পরীক্ষা আয়োজন এবং নারীদের মোটরসাইকেল চালানোর লাইসেন্স প্রদানের অনুমতি দেওয়া হয়েছে।
সম্প্রতি ইরানে সরকারবিরোধী বিক্ষোভের প্রেক্ষাপটে এই পরিবর্তন এসেছে। তেহরান স্বীকার করেছে, বিক্ষোভ চলাকালে তিন হাজারের বেশি মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে। তবে তারা দাবি করেছে, নিহতের অধিকাংশই নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য এবং পথচারী।
১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের পর থেকে ইরানে নারীরা নানা সামাজিক বিধিনিষেধের মুখোমুখি হয়েছে, যেখানে ড্রেস কোড মোটরসাইকেল চালানোর ক্ষেত্রে একটি বড় চ্যালেঞ্জ ছিল।
ইরানে নারীদের জনসম্মুখে মাথায় ওড়না দিয়ে চুল ঢেকে চলতে হয় এবং ঢিলেঢালা পোশাক পরতে হয়। তবে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে অনেক নারী এসব নিয়ম মানছেন না এবং মোটরবাইকে নারীদের সংখ্যা সাম্প্রতিক মাসগুলোতে দ্রুত বেড়েছে।
ইরানে পুলিশি হেফাজতে তরুণী মাহশা আমিনির মৃত্যুর ঘটনার পর এই প্রবণতা বেড়ে যায়। এই ইরানি নারীকে ড্রেস কোড লঙ্ঘনের অভিযোগে আটক করা হয়েছিল। তার মৃত্যুর পর ইরানজুড়ে নারীদের স্বাধীনতার দাবিতে ব্যাপক বিক্ষোভ হয়।
মন্তব্য করুন

