

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


ইরানে চলমান সরকারবিরোধী বিক্ষোভের প্রেক্ষাপটে বিক্ষোভকারীদের উদ্দেশ্যে ‘রেড লাইন’ বা লাল রেখা টানার ঘোষণা দিয়েছে ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)।
শনিবার (১০ জানুয়ারি) এক হুঁশিয়ারিতে বাহিনীটি জানায়, দেশের নিরাপত্তা রক্ষার স্বার্থে এই সীমারেখা কোনোভাবেই অতিক্রম করা যাবে না।
রিয়ালের তীব্র দরপতন, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি এবং ক্রমবর্ধমান জীবনযাত্রার ব্যয়ের প্রতিবাদে গত ২৮ ডিসেম্বর থেকে শুরু হওয়া বিক্ষোভ ক্রমেই বিস্তৃত আকার নিয়েছে। এমন পরিস্থিতিতেই আইআরজিসির পক্ষ থেকে এই সতর্কবার্তা আসে। তবে ‘রেড লাইন’ বলতে কী বোঝানো হয়েছে, সে বিষয়ে স্পষ্ট কোনো ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি।
এদিকে ইরানের সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, জনসাধারণের জানমাল ও গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত স্থাপনা সুরক্ষায় তারা সর্বোচ্চ ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে প্রচারিত এক বিবৃতিতে আইআরজিসি দাবি করে, গত দুই রাতে ‘সন্ত্রাসী গোষ্ঠী’ সামরিক ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিভিন্ন স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে। এসব ঘটনায় কয়েকজন সাধারণ নাগরিক ও নিরাপত্তা সদস্য নিহত হয়েছেন।
আইআরজিসির ভাষ্য অনুযায়ী, ১৯৭৯ সালের ইসলামী বিপ্লবের অর্জন রক্ষা এবং দেশের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা তাদের কাছে একটি অতিক্রম অযোগ্য লাল রেখা। বর্তমান পরিস্থিতি চলতে দেওয়া গ্রহণযোগ্য নয় উল্লেখ করে তারা জানায়, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখা হচ্ছে।
দেশটির কর্তৃপক্ষ এখনও ইন্টারনেট সংযোগ বন্ধ রেখেছে। পশ্চিম ইরানে টেলিফোনে যোগাযোগ করা এক প্রত্যক্ষদর্শী রয়টার্সকে জানান, তার এলাকার আশপাশে আইআরজিসি মোতায়েন রয়েছে এবং তারা গুলি চালাচ্ছে। নিজের নিরাপত্তার কথা ভেবে তিনি পরিচয় প্রকাশ করতে চাননি।
এই পরিস্থিতির মধ্যে শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের নেতৃত্বের প্রতি নতুন করে সতর্কবার্তা দেন। শনিবার মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র ইরানের সাহসী জনগণের পাশে আছে।’
ইরান সরকার এই বিক্ষোভ উসকে দেওয়ার জন্য যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলকে দায়ী করছে। অন্যদিকে মানবাধিকার সংগঠনগুলো জানিয়েছে, বিক্ষোভে ডজনের বেশি বিক্ষোভকারী নিহত হয়েছেন।
বিবিসি জানিয়েছে, ইরানজুড়ে ছড়িয়ে পড়া বিক্ষোভে নিহত ব্যক্তির সংখ্যা বেড়ে ৬২ জনে দাড়িয়েছে। মানবাধিকার সংগঠনগুলো বলেছে, তাদের মধ্যে অন্তত ৪৮ জন বিক্ষোভকারী ও ১৪ জন নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য আছেন।
মন্তব্য করুন

