বৃহস্পতিবার
০১ জানুয়ারি ২০২৬, ১৭ পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
বৃহস্পতিবার
০১ জানুয়ারি ২০২৬, ১৭ পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

ইরানে টানা চতুর্থ দিনের মতো বিক্ষোভ

এনপিবি ডেস্ক
প্রকাশ : ০১ জানুয়ারি ২০২৬, ০৮:২৬ এএম
ইরানে বিক্ষোভ
expand
ইরানে বিক্ষোভ

চরম অর্থনৈতিক সংকটের মধ্যে পড়েছে ইরান। মুদ্রার ভয়াবহ অবমূল্যায়ন ও লাগামহীন মূল্যস্ফীতির প্রতিবাদে দেশটিতে টানা চতুর্থ দিনের মতো বিক্ষোভ চলছে। দক্ষিণাঞ্চলীয় ফারস প্রদেশের ফাসা শহরে আন্দোলনকারীরা একটি সরকারি দপ্তরে প্রবেশের চেষ্টা করলে নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম আলজাজিরার খবরে জানানো হয়, বুধবার (৩১ ডিসেম্বর) একদল বিক্ষোভকারী গভর্নরেট ভবনের প্রধান ফটক ভাঙার চেষ্টা করে। রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে প্রচারিত ভিডিওতে ভবনের গেটের সামনে উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির দৃশ্য দেখা যায়। নিরাপত্তা বাহিনীর হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িত অভিযোগে ২৮ বছর বয়সী এক নারীকে আটক করা হয়।

আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা তাসনিম জানায়, সংঘর্ষে নিরাপত্তা বাহিনীর তিন সদস্য আহত হন। এ ছাড়া চারজন আন্দোলনকারীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

এই বিক্ষোভের সূচনা হয় গত রোববার তেহরানে ব্যবসায়ী ও দোকান মালিকদের প্রতিবাদের মধ্য দিয়ে। মার্কিন ডলারের বিপরীতে ইরানি রিয়ালের ইতিহাসের সর্বনিম্ন দর এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যবৃদ্ধি সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রাকে চরমভাবে কঠিন করে তুলেছে, যার ফলে আন্দোলন দ্রুত বিভিন্ন শহরে ছড়িয়ে পড়ে।

রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা ইরনার তথ্য অনুযায়ী, তেহরান ছাড়াও ইসফাহান, ইয়াজদ ও জানজান শহরের একাধিক বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভে যোগ দেন।

এদিকে তেহরানে এক ব্যবসায়িক সম্মেলনে প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান পরিস্থিতির জন্য বিদেশি চাপ ও হস্তক্ষেপের ইঙ্গিত দেন। তিনি বলেন, দেশকে অস্থিতিশীল করার নানা চেষ্টা চলছে এবং এ অবস্থায় জাতীয় ঐক্য আরও শক্তিশালী করা জরুরি।

প্রসিকিউটর জেনারেল মোহাম্মদ মোভাহেদি-আজাদ হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ আইনসম্মত হলেও সহিংসতা বা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করলে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সাম্প্রতিক সময়ে ইরানি রিয়ালের দর দ্রুত পতন ঘটেছে। বিক্ষোভ শুরুর সময় এক মার্কিন ডলারের বিপরীতে রিয়ালের মূল্য প্রায় ১৪ লাখ ২০ হাজারে দাঁড়ায়, যেখানে এক বছর আগেও তা ছিল প্রায় ৮ লাখ ২০ হাজার।

দীর্ঘদিন ধরে চলমান পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞা এবং জাতিসংঘের পুনর্বহাল করা আন্তর্জাতিক অবরোধ ইরানের অর্থনীতিকে আরও দুর্বল করে তুলেছে। বর্তমানে দেশটিতে মূল্যস্ফীতির হার প্রায় ৫০ শতাংশ।

কুইন্সি ইনস্টিটিউটের নির্বাহী ভাইস প্রেসিডেন্ট ত্রিতা পারসি মনে করেন, অর্থনৈতিক দাবিতে শুরু হওয়া এই আন্দোলন ভবিষ্যতে আরও ব্যাপক রাজনৈতিক অসন্তোষে রূপ নিতে পারে।

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

মন্তব্য করুন

X