

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে লিভারপুলের নতুন মৌসুমটা মোটেও প্রত্যাশিত হয়নি। প্রথম ম্যাচে দু’বার পিছিয়ে পড়েও শেষ পর্যন্ত ড্র নিয়ে মাঠ ছেড়েছিল বর্তমান চ্যা। এবার দ্বিতীয় ম্যাচেও দুইবার পিছিয়ে শেষ পর্যন্ত স্বস্ত্বির ড্র নিয়ে মাঠ ছাড়তে হয়েছে ‘অল রেডদের’।
শনিবার অ্যানফিল্ডে নটিংহ্যাম ফরেস্টের বিপক্ষে ২-২ গোলে ড্র করেছে লিভারপুল। ফরেস্টের দান এনদোয়ে ও মর্গ্যান গিবস-হোয়াইটের গোলের জবাব দিয়েছেন আলেকসান্দার ইসাক ও ভিক্তর মুনোস।
ম্যাচের শুরুতে দুই দল প্রায় সমান তালে খেললেও ধীরে ধীরে বলের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নেয় লিভারপুল। প্রায় ৭০ শতাংশ সময় বল দখলে রেখেও প্রথমার্ধে গোল হজম করে পিছিয়ে যেতে হয় স্বাগতিকদের।
২৪তম মিনিটে লিভারপুলের রক্ষণভাগের ভুলের সুযোগ নিয়ে গোল করেন এনদোয়ে। উড়ে আসা বল ঠিকমতো ক্লিয়ার করতে না পারায় ফাঁকা জায়গায় বল পেয়ে কোনাকুনি শটে আলিসনকে পরাস্ত করেন সুইস ফরোয়ার্ড।
এর আগে অবশ্য ম্যাচের ১১তম মিনিটেই এগিয়ে যেতে পারত ফরেস্ট। ইগর জেসুসের টোকা দুর্দান্তভাবে ঠেকিয়ে দেন লিভারপুলের সেন্টার-ব্যাক জেরেমি জেকে। পরে প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে ব্যবধান বাড়ানোর আরেকটি সুযোগ নষ্ট করে ফরেস্ট। জেসুসের ১২ গজ দূরের শট আলিসনের হাতে লেগে ক্রসবারে প্রতিহত হয়।
লিভারপুলও গোলের সুযোগ তৈরি করেছিল। ৩৪তম মিনিটে ফ্লোরিয়ান ভিয়েৎস বল জালে পাঠালেও অফসাইডের কারণে সেটি বাতিল হয়। ভিএআর পর্যালোচনার পর সিদ্ধান্ত বহাল রাখেন রেফারি।
বিরতির পর অবশ্য অন্য রূপে দেখা যায় লিভারপুলকে। শুরু থেকেই ফরেস্টের ওপর চাপ বাড়াতে থাকে তারা। ৬০তম মিনিটে সেই চাপের ফলও আসে। ভিয়েৎসের পাস থেকে কোডি গাকপোর বাড়ানো বলে দুই ডিফেন্ডারের মাঝ দিয়ে এগিয়ে গিয়ে গোল করেন ইসাক।
ফরেস্টের বিপক্ষে ছয় ম্যাচে এটি ইসাকের সপ্তম গোল।
সমতা ফেরানোর পরও অবশ্য স্বস্তিতে থাকতে পারেনি লিভারপুল। ৬৮তম মিনিটে নিজেদের ডি-বক্সে নেকো উইলিয়ামসকে ফাউল করেন গোলরক্ষক আলিসন। পেনাল্টির সিদ্ধান্ত থেকে গোল করে ফরেস্টকে আবার এগিয়ে দেন গিবস-হোয়াইট।
এই গোলের মাধ্যমে প্রিমিয়ার লিগে টানা ১০টি পেনাল্টিতে সফল হলো ফরেস্ট। ২০২৩ সালের এপ্রিলের পর থেকে লিগে স্পট কিক থেকে আর ব্যর্থ হয়নি তারা।
তবে এবারও ম্যাচ হেরে মাঠ ছাড়তে হয়নি লিভারপুলকে। ৮২তম মিনিটে ভিক্তর মুনোসের শট প্রতিপক্ষের এক খেলোয়াড়ের পায়ে লেগে দিক পরিবর্তন করে জালে জড়িয়ে যায়। তাতে ২-২ সমতায় ফেরে লিভারপুল।
শেষ দিকে জয় পাওয়ার সুযোগও তৈরি করেছিল স্বাগতিকেরা। ৮৬তম মিনিটে দমিনিক সোবোসলাইয়ের ফ্রি-কিক অল্পের জন্য পোস্টের বাইরে দিয়ে চলে যায়। শেষ পর্যন্ত আর কোনো গোল না হওয়ায় পয়েন্ট ভাগাভাগি করেই মাঠ ছাড়ে দুই দল।
দুই ম্যাচে দুই ড্রয়ে লিভারপুলের সংগ্রহ ২ পয়েন্ট। আপাতত তালিকার দশম স্থানে রয়েছে তারা। অন্যদিকে মৌসুমের প্রথম ম্যাচে হারের পর প্রথম পয়েন্ট পাওয়া নটিংহ্যাম ফরেস্ট আছে ১২ নম্বরে।
লিভারপুলের জন্য অবশ্য সবচেয়ে বড় চিন্তার জায়গা হয়ে দাঁড়িয়েছে রক্ষণ। টানা দুই ম্যাচে দুবার করে পিছিয়ে পড়ার পর শেষ পর্যন্ত হার এড়ালেও, মৌসুমের শুরুতেই পয়েন্ট হারানোর এই প্রবণতা সামনে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারে।


