

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


ছোট্টবেলার এক রোদঝিলমিলে বিকেল। পরনে আকাশি-সাদা জার্সি, হাতে একটা ফুটবল আর চোখে অদ্ভুত এক মুগ্ধতা। সেই মুগ্ধতা ছিল ফুটবল জাদুকর লিওনেল মেসির জন্য।
সেইদিনের সেই ছোট্ট ছেলেটিই আজকের শেখ মোহাম্মদ সা’দ- যিনি এখন আমেরিকার আইওয়া স্টেট ইউনিভার্সিটিতে মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের দ্বিতীয় সেমিস্টারে পড়ছেন।
এতগুলো বছর কেটে গেলেও ফুটবলের প্রতি তার সেই ভালোবাসা একটুও কমেনি, বরং তা মিশে গেছে তার অস্তিত্বের সাথে।
যেভাবে শুরু এই ফুটবল প্রেমের গল্প:
সা’দের ফুটবল যাত্রা শুরু হয়েছিল ২০১০ সালের বিশ্বকাপের ঝাপসা কিছু স্মৃতি দিয়ে। তখন ছোট মনে ধারণা ছিল, ফুটবল বোধহয় শুধু বিশ্বকাপেই খেলা হয়! তবে ২০১৪ সালে তার এই ধারণায় এক বড় পরিবর্তন আসে।
বাবার কথায় অনুপ্রাণিত হয়ে তিনি আর্জেন্টিনা দলকে সমর্থন করতে শুরু করেন। বাবা বলেছিলেন- ‘মেসি একজন অসাধারণ খেলোয়াড়, আর সে বাম পায়ে খেলে।’ ছোট্ট সা’দের কাছে তখন এই বাম পায়ের জাদু কোনো অলৌকিক ক্ষমতার চেয়ে কম মনে হয়নি।
সেই থেকে শুরু করে দীর্ঘ ১২ বছরের এক অবিরাম পথচলা। মেসির প্রতি এই ভালোবাসা সা’দকে ফুটবল দুনিয়ার গভীর অনুরাগী করে তোলে, আর তিনি হয়ে ওঠেন বার্সেলোনার একজন একনিষ্ঠ সমর্থক। এই দীর্ঘ সময়ে সা’দের ফুটবল জীবনে এসেছে অনেক উত্থান-পতন।
২০১৬-২০১৮ আর্জেন্টিনার একের পর এক পরাজয় আর হতাশা তাকে দারুণ কষ্ট দিয়েছিল। ২০২২ সালে মেসির হাতে যখন বিশ্বকাপের ট্রফি উঠেছিল, আনন্দে সা’দের চোখ অশ্রুসিক্ত হয়ে গিয়েছিল।
স্বপ্নপূরণের সেই মহেন্দ্রক্ষণ
১৭ জুন আমেরিকার কানসাস সিটির বিখ্যাত অ্যারোহেড স্টেডিয়ামে মুখোমুখি হয়েছিল আর্জেন্টিনা ও আলজেরিয়া। আর সেই ঐতিহাসিক ম্যাচের গ্যালারিতে হাজির ছিলেন সা'দ।
চারিদিকে তখন আকাশি-সাদা জার্সির উপচে পড়া ভিড় আর গর্জন। সেই হাজারো মানুষের মাঝে গ্যালারিতে বসে আছেন সা’দ- গায়ে আর্জেন্টিনার জার্সি, আর হাতে গর্বের সাথে জড়িয়ে রাখা বাংলাদেশের লাল-সবুজ পতাকা। শৈশবের সেই চেনা টেলিভিশন পর্দা ছেড়ে আজ তিনি নিজেই এক বিশাল স্টেডিয়ামের অংশ!
নিজের এই অনুভূতি প্রকাশ করে সা’দ তার বাবাকে একটি ক্ষুদে বার্তায় লেখেন ‘এটি শুধু কোনো ফুটবল ম্যাচ দেখা নয়, এটি আমার শৈশবের স্বপ্ন সত্যি হওয়ার এক অনন্য মুহূর্ত।’
এক জাদুকরী অভিজ্ঞতা
মেসির শেষ সময়ে এসে সা’দ তার প্রিয় তারকার পায়ের জাদু সরাসরি গ্যালারিতে বসে দেখার সুযোগ পেয়েছেন। তিনি নিজের চোখে দেখেছেন কীভাবে মেসি তার চিরচেনা সেই বাম পা দিয়ে নতুন ইতিহাস লিখেছেন, তুলে নিয়েছেন বিশ্বকাপে নিজের প্রথম হ্যাটট্রিক!
ম্যাচ শেষে আবেগাপ্লুত সা’দ বলেন
‘এটি ছিল আমার জীবনের অন্যতম সেরা আর অসাধারণ এক অভিজ্ঞতা। সুযোগ পেলে এই অনুভূতি আমি হাজার বার ফিরে পেতে চাই।’
সা’দের এই গল্পটি কেবল একজন সাধারণ ভক্তের গল্প নয়, এটি একটি স্বপ্নপূরণের গল্প। এই গল্প আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে, নিখাদ আবেগ আর ভালোবাসা থাকলে যেকোনো দূরবর্তী স্বপ্নকেও একদিন বাস্তবে ছুঁয়ে দেখা যায়।
