

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


নেদারল্যান্ডসকে হারাতে পারেনি জাপান, তবে ডালাসে তারা দেখিয়ে দিয়েছে কেন তাদের কখনোই খাটো করে দেখা যায় না। দুইবার পিছিয়ে পড়েও দুর্দান্ত লড়াইয়ে ২-২ গোলের ড্র করেছে এশিয়ার দলটি। বিশ্বকাপের মঞ্চে আবারও নিজেদের দৃঢ়তা ও প্রত্যাবর্তনের সামর্থ্যের প্রমাণ দিল ‘সামুরাই ব্লু’রা।
ফিফা র্যাঙ্কিংয়ে দুই দলের ব্যবধান বেশ বড়। নেদারল্যান্ডস আছে পঞ্চম স্থানে, জাপান ১৮তম। কাগজে-কলমে তাই ডাচরাই ছিল এগিয়ে। কিন্তু বিশ্বকাপের বড় মঞ্চে জাপান যে ভিন্ন এক দল, তা নতুন করে মনে করিয়ে দিল হাজিমে মরিয়াসুর শিষ্যরা।
প্রথমার্ধে দুই দলই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেললেও গোলের দেখা মেলেনি। মাঝমাঠে দখল আর দ্রুতগতির আক্রমণ-পাল্টা আক্রমণে জমে ওঠা ম্যাচটি বিরতিতে যায় গোলশূন্য অবস্থায়।
তবে দ্বিতীয়ার্ধে বদলে যায় পুরো চিত্র। ৫১তম মিনিটে লিভারপুল সতীর্থ রায়ান গ্রাভেনবার্চের ক্রস থেকে হেডে গোল করে নেদারল্যান্ডসকে এগিয়ে দেন অধিনায়ক ভার্জিল ফন ডাইক। বড় কোনো আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টে এটি ছিল ডাচ অধিনায়কের প্রথম গোল।
তবে জাপানকে চাপে রাখা যায়নি বেশিক্ষণ। মাত্র ছয় মিনিট পরই সমতায় ফেরে তারা। বাঁ প্রান্ত থেকে উঠে আসা আক্রমণে কেইতো নাকামুরার শট ডাচ রক্ষণে লেগে দিক পরিবর্তন করে জালে জড়ালে ম্যাচে ফিরে আসে জাপান।
৬৪তম মিনিটে আবারও এগিয়ে যায় নেদারল্যান্ডস। এবারও আক্রমণের সূচনা গ্রাভেনবার্চের পা থেকে। তাঁর পাস পেয়ে ক্রিসেনসিও সামারভিল নিখুঁত ফিনিশে জাপানের জালে বল পাঠান। স্কোরলাইন তখন ২-১।
দ্বিতীয়বার পিছিয়ে পড়ার পরও হাল ছাড়েনি জাপান। ম্যাচের শেষ ভাগে আক্রমণের তীব্রতা বাড়াতে থাকে তারা। একের পর এক আক্রমণে ডাচ রক্ষণকে ব্যস্ত রাখার ফল আসে ৮৮তম মিনিটে। কর্নার থেকে আসা বলে কোকি ওগাওয়ার হেড দাইচি কামাদার মাথা ছুঁয়ে জালে জড়ালে সমতায় ফেরে জাপান। গোলটি শেষ পর্যন্ত কামাদার নামেই যোগ হয়।
সমতার গোলের পর ডালাস স্টেডিয়ামে থাকা হাজারো জাপানি সমর্থকের উল্লাস ছিল দেখার মতো। প্রায় ৭০ হাজার দর্শকের উপস্থিতিতে জাপান যেন আরেকবার প্রমাণ করল, বড় প্রতিপক্ষের বিপক্ষে লড়াই করতে তারা ভয় পায় না।
কাতার বিশ্বকাপে জার্মানি ও স্পেনকে হারিয়ে বিশ্বকে চমকে দিয়েছিল জাপান। সেই ধারাবাহিকতায় এবারও পিছিয়ে পড়ার পর ঘুরে দাঁড়ানোর মানসিকতা দেখাল তারা। শেষ পর্যন্ত জয় না পেলেও ডাচদের কাছ থেকে গুরুত্বপূর্ণ এক পয়েন্ট ছিনিয়ে নিয়েছে মরিয়াসুর দল।
