

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


আর কয়েকদিন পরই শুরু হতে যাচ্ছে ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬। তবে টুর্নামেন্ট সামনে চলে এলেও বাংলাদেশে এখনো কোনো টেলিভিশন চ্যানেল বা ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম এই টুর্নামেন্টের সম্প্রচার স্বত্ব কিনতে পারেনি। এতে দেশের দর্শকদের জন্য বিশ্বকাপ দেখা নিয়ে তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা।
সম্প্রচার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, স্বত্বের উচ্চ মূল্য, সীমিত বিজ্ঞাপন আয় এবং ম্যাচের সময়সূচি বাংলাদেশ সময় অনুযায়ী অনুকূলে না থাকায় স্থানীয় প্রতিষ্ঠানগুলো আগ্রহ দেখাচ্ছে না।
২০২২ বিশ্বকাপে বাংলাদেশে সরাসরি সম্প্রচারের দায়িত্বে ছিল বাংলাদেশ টেলিভিশন (বিটিভি)। পাশাপাশি টি স্পোর্টস ও জিটিভি স্যাটেলাইটে ম্যাচ সম্প্রচার করা হয়েছিল। ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম হিসেবে টফিও তখন স্বত্ব পেয়েছিল। কিন্তু এবার এখনো কোনো প্রতিষ্ঠান চূড়ান্তভাবে এগোয়নি।
জানা গেছে, বাংলাদেশ অঞ্চলের মিডিয়া স্বত্ব পেয়েছে সিঙ্গাপুরভিত্তিক প্রতিষ্ঠান স্প্রিংবক প্রাইভেট লিমিটেড। তারা স্থানীয় সম্প্রচার মাধ্যমগুলোর কাছে তুলনামূলকভাবে বেশি অর্থ দাবি করছে।
এ বিষয়ে সরকারি অবস্থানও অনাগ্রহী বলে জানা গেছে। তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন এক সংবাদমাধ্যমকে বলেন, আগের চুক্তিগুলো ঘিরে অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে এবং এবার নির্ধারিত উচ্চ দামে স্বত্ব কেনা অর্থনৈতিকভাবে যৌক্তিক নয়।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিটিভির কাছে সম্প্রচার স্বত্বের জন্য প্রায় ১ কোটি ২৩ লাখ ডলার (প্রায় ১৫০ কোটি টাকা) দাবি করা হয়েছে, কর ও ভ্যাট যুক্ত হলে যা ২০০ কোটি টাকার কাছাকাছি পৌঁছাতে পারে। চুক্তি অনুযায়ী নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে বড় অঙ্কের অর্থ পরিশোধের শর্তও রয়েছে।
এই প্রেক্ষিতে দেশের বেসরকারি সম্প্রচারকারীরা এই মূল্যকে বাস্তবসম্মত মনে করছেন না। টি স্পোর্টসসহ কয়েকটি প্রতিষ্ঠান তুলনামূলক কম দামে স্বত্ব নেওয়ার আগ্রহ দেখালেও চুক্তিকারী সংস্থা মূল্য কমাতে রাজি হয়নি বলে জানা গেছে।
এদিকে ম্যাচের সময়সূচিও বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। মোট ১০৪টি ম্যাচের মধ্যে অর্ধেকই বাংলাদেশ সময় ভোরে শেষ হবে বা ভোরের পর শুরু হবে, ফলে দর্শক ও বিজ্ঞাপন—দুই দিকেই প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
বিশ্বকাপ সম্প্রচার নিয়ে শুধু বাংলাদেশই নয়, ভারত ও চীনেও অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। উচ্চমূল্য ও বাজার পরিস্থিতির কারণে বড় বড় সম্প্রচার সংস্থাগুলো এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারেনি বলে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো জানাচ্ছে।
