

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


চাঁদপুরের মতলব উত্তরে উদ্ধার হওয়া বিষধর রাসেল ভাইপার (চন্দ্রবোড়া) সাপটি অবশেষে বন বিভাগের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। সাপ উদ্ধারের ১১ দিন পর শনিবার (৯ মে) দুপুরে বন বিভাগের প্রতিনিধি হাবিব ফরাজি সাপটি বুঝে নেন।
এর আগে গত ২৮ এপ্রিল উপজেলার এখলাসপুর ইউনিয়নের এখলাসপুর আবাসন এলাকার মেঘনা নদীর পাড় থেকে সাপটি উদ্ধার করেন অটোরিকশা চালক মো. সোহেল (৩১)। সাপটিকে জাল থেকে ছাড়ানোর সময় তিনি সাপের কামড়ে আহত হন। পরে সাপটিকে প্লাস্টিকের পাত্রে বন্দি করে বাড়িতে রেখে চাঁদপুর সদর হাসপাতালে গিয়ে অ্যান্টিভেনম নেন। চিকিৎসা শেষে বাড়ি ফিরে তিনি সাপটিকে নিজের হেফাজতেই রাখেন।
১১ দিন ধরে বিষধর সাপটি বাড়িতে রাখার ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পরে উপজেলা প্রশাসনের নির্দেশনায় বন বিভাগের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে শনিবার দুপুরে বন বিভাগের কর্মী হাবিব ফরাজি এসে সাপটি বুঝে নেন।
স্থানীয়দের দাবি, মেঘনা নদী তীরবর্তী চরাঞ্চলে দিন দিন রাসেল ভাইপারের উপদ্রব বাড়ছে। বিশেষ করে বর্ষা মৌসুম সামনে থাকায় কৃষক ও জেলেদের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। তারা চরাঞ্চলে সচেতনতামূলক প্রচারণা ও পর্যাপ্ত অ্যান্টিভেনম সরবরাহ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।
অটোরিকশা চালক মো. সোহেল বলেন, আমি সাপটিকে মেরে ফেলিনি। কারণ অনেকে বলেছে বন বিভাগে দিতে। পরে হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়ে বাড়িতে এনে নিরাপদে পাত্রে রেখেছিলাম। সাংবাদিকদের সহায়তায় আজ বন বিভাগের লোক এসে নিয়ে গেছে।
বন বিভাগের প্রতিনিধি হাবিব ফরাজি বলেন, খবর পেয়ে আমরা এখানে এসেছি। এটি একটি রাসেল ভাইপার বা চন্দ্রবোড়া সাপ। খুবই বিষধর প্রজাতির সাপ। নিরাপত্তার সঙ্গে সাপটি আমাদের হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। সাপটিকে আমরা জেলা বন বিভাগ অফিসে পাঠাবো সেখান থেকে ঢাকায় বন্যপ্রাণী শাখায় পাঠানো হবে।
মতলব উত্তর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহমুদা কুলসুম মনি বলেন, জেলা প্রশাসক মহোদয়ের নির্দেশনায় সাপ উদ্ধারের খবর পাওয়ার পর থেকেই বন বিভাগের সঙ্গে যোগাযোগ রাখা হয়েছিল। আজ বন বিভাগের প্রতিনিধি এসে সাপটি বুঝে নিয়েছেন। এছাড়া সাপে কাটা রোগীদের চিকিৎসার জন্য উপজেলা পরিষদ থেকে পর্যাপ্ত ভ্যাকসিন কেনার বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।