

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে দেশে জ্বালানি তেলের দাম সমন্বয়ের প্রয়োজন হতে পারে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান। তবে তিনি স্পষ্ট করে বলেছেন, এখনই মূল্যবৃদ্ধির কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। রিস্থিতি বিবেচনায় জ্বালানি তেলের মূল্য সমন্বয়ের বিষয়টি সামনে আসতে পারে।
বুধবার (১৫ এপ্রিল) সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরের সম্মেলন কক্ষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন।
জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানো হবে কী না প্রশ্নের উপদেষ্টা বলেন, ‘দাম আসলে বাড়বে কী না নিশ্চিত নয়ি। তবে আপনারা সবাই ওয়েল কানেক্টেড মানুষ। মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধটা খারাপ দিকে যাওয়ার সম্ভাবনা আছে। আবার আমরা দেখছি ডোনাল ট্রাম্প বলছেন যে পরিস্থিতি ভালোর দিকেও যেতে পারে। আপনার রিসেন্ট যে অবস্থা সেটা হচ্ছে স্ট্রেট অব আমেরিকা আবার ইরানের সাথে জাহাজগুলো ব্লকেজ দিচ্ছে। সো এটা যদি কার্যকর হয়, এটা যদি লম্বা সময় থাকে পরিস্থিতি আসলেই খারাপের দিকে যাবে। তখন আমরা খুব লম্বা সময় ভর্তুকি দিয়ে যাওয়া আসলে কঠিন।’
তিনি বলেন, আমরা এপ্রিল মাসে দাম বাড়াবো না। অলরেডি বলেছি, যদি এটা কন্টিনিউ করে দামের কিছু অ্যাডজাস্টমেন্ট প্রয়োজন হতে পারে। আমি আবার বলছি প্রয়োজন হতে পারে। মানে এটা হবেই, এ রকম কথা না। প্লিজ আমি আশা করি, কোনো ভুল ফটোকার্ড বানাবেন না। আবার ওই যে বলছি যে জিনিসটা মানে ট্রাম্প তো প্রেডিক্টেবল না। যদি ওনাদের মধ্যে একটা আলোচনা হয়ে যায়, যদি একটা চুক্তি মোটামুটি হয়ে যায়, তাহলে সব ঠিকঠাক হয়ে যাবে।
জ্বালানি সরবরাহ পরিস্থিতি নিয়ে তিনি জানান, দেশের একমাত্র রাষ্ট্রায়ত্ত তেল শোধনাগার ইস্টার্ন রিফাইনারি লিমিটেডের কার্যক্রমে সাময়িক বিঘ্ন ঘটায় সরবরাহে কিছুটা চাপ তৈরি হয়েছে। এই রিফাইনারি সাধারণত দেশের মোট চাহিদার প্রায় ২৫ শতাংশ জ্বালানি সরবরাহ করে, বিশেষ করে পেট্রোল ও অকটেন।
এ ছাড়া সৌদি আরব থেকে এক লাখ টন জ্বালানি তেলের একটি চালান নির্ধারিত সময়ে দেশে না পৌঁছানোয় পরিস্থিতি আরও চাপের মুখে পড়ে। তবে নতুন একটি চালান মে মাসের শুরুতে দেশে আসার কথা রয়েছে বলে জানান তিনি।
সম্ভাব্য সংকট মোকাবিলায় সরকার আগাম প্রস্তুতি হিসেবে পরিশোধিত জ্বালানি আমদানি ও মজুদ বাড়িয়েছে বলেও জানান উপদেষ্টা। বিষয়টি নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের বৈঠকেও আলোচনা হয়েছে।
তবে মাঠপর্যায়ে ভিন্ন চিত্র দেখা যাচ্ছে। রাজধানীসহ বিভিন্ন এলাকায় পেট্রোল পাম্পে দীর্ঘ লাইন দেখা গেছে। অনেক ক্ষেত্রে প্রয়োজনের তুলনায় বেশি তেল সংগ্রহ করায় সরবরাহ ব্যবস্থায় অতিরিক্ত চাপ তৈরি হচ্ছে।
উপদেষ্টা বলেন, পেট্রোল পাম্পে সরবরাহ কমানো হয়নি, কিন্তু অস্বাভাবিক চাহিদার কারণে দ্রুত মজুদ শেষ হয়ে যাচ্ছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে শিগগিরই পাম্পভিত্তিক সরবরাহের বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হবে বলেও তিনি জানান।
মন্তব্য করুন
