

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


ফিফা বিশ্বকাপে হতাশাজনক পারফরম্যান্সের পর নতুন অধ্যায়ের পথে হাঁটছে পর্তুগাল জাতীয় ফুটবল দল। স্পেনের বিপক্ষে শেষ ষোলোতে ১-০ গোলে হেরে বিদায় নেওয়ার পর প্রধান কোচের দায়িত্ব ছাড়েন রবার্তো মার্টিনেজ। তার উত্তরসূরি হিসেবে অভিজ্ঞ পর্তুগিজ কোচ জর্জ জেসুসের নামই এখন সবচেয়ে জোরালোভাবে আলোচনায়।
যদিও পর্তুগিজ ফুটবল ফেডারেশন (এফপিএফ) এখনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেয়নি, তবে চলতি সপ্তাহের মধ্যেই নতুন কোচের নাম প্রকাশ করা হতে পারে।
বুধবার (৯ জুলাই) এফপিএফ সভাপতি পেদ্রো প্রোয়েনসা সাংবাদিকদের বলেন, ‘নতুন কোচকে অবশ্যই পর্তুগিজ ফুটবল সম্পর্কে গভীর ধারণা রাখতে হবে এবং ফেডারেশন ও জাতীয় দলের জয়ের মানসিকতার সঙ্গে নিজেকে মানিয়ে নিতে হবে। আমাদের সামনে কয়েকটি বিকল্প রয়েছে। আমি নিজেই পুরো বিষয়টি দেখছি এবং আশা করছি সপ্তাহের শেষ নাগাদ ইতিবাচক খবর দিতে পারব।’
পর্তুগালের জনপ্রিয় ক্রীড়া দৈনিক আ বোলা এবং ইএসপিএনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জাতীয় দলের নতুন প্রধান কোচ হিসেবে জর্জ জেসুসকে নিয়োগ দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে এফপিএফ।
গত মে মাসে সৌদি আরবের ক্লাব আল নাসরকে সৌদি প্রো লিগের শিরোপা জেতানোর পর বর্তমানে ফ্রি এজেন্ট রয়েছেন ৭১ বছর বয়সী এই কোচ। যদিও জাতীয় দলের দায়িত্ব নেওয়ার কোনো পূর্ব অভিজ্ঞতা তার নেই, তবে ক্লাব ফুটবলে দীর্ঘ ক্যারিয়ারে দেশ-বিদেশে অসাধারণ সাফল্যের স্বাক্ষর রেখেছেন তিনি।
বেনফিকার দায়িত্বে থেকে তিনটি লিগ শিরোপাসহ মোট ১০টি ট্রফি জিতেছেন জেসুস। ২০১৯ সালে ব্রাজিলের ঐতিহ্যবাহী ক্লাব ফ্ল্যামেঙ্গোর দায়িত্ব নিয়ে মাত্র এক বছরের ব্যবধানে পাঁচটি বড় শিরোপা জিতে ক্লাবটির ইতিহাসের অন্যতম সফল কোচে পরিণত হন। এরপর ২০২৩-২৪ মৌসুমে আল হিলালকে ঘরোয়া ট্রেবল জিতিয়েও নিজের সাফল্যের ধারাবাহিকতা বজায় রাখেন। ২০২৫ সালে কার্লো আনচেলত্তি ব্রাজিলের কোচ হওয়ার আগে সেলেসাওদের দায়িত্বের জন্যও আলোচনায় ছিল তার নাম।
বিশ্বকাপে প্রত্যাশা পূরণে ব্যর্থ হওয়ার পর দ্রুত ঘুরে দাঁড়াতে চায় পর্তুগাল। শিরোপার অন্যতম দাবিদার হিসেবে টুর্নামেন্ট শুরু করলেও মাঠের পারফরম্যান্সে সেই সম্ভাবনার প্রতিফলন ঘটাতে পারেনি ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর দল।
সামনের পরিকল্পনা নিয়ে আশাবাদী এফপিএফ সভাপতি পেদ্রো প্রোয়েনসা বলেন, ‘পর্তুগিজ ফুটবলে নতুন এক জয়ের যুগ শুরু করতে চাই আমরা। এবারের বিশ্বকাপ আমাদের প্রত্যাশার অনেক নিচে ছিল। এখন যত দ্রুত সম্ভব সেই হতাশার জবাব দিতে হবে। সামনে নেশনস লিগ, সেখানে আমাদের লক্ষ্য শিরোপা জয়। এরপর রয়েছে ইউরো এবং ২০৩০ সালের বিশ্বকাপ, যা আমাদের ঘরের মাঠে অনুষ্ঠিত হবে। আমাদের লক্ষ্য ও স্বপ্ন—দুটোই এখন অনেক বড়।’
