

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


২০১৪ সালের ব্রাজিল বিশ্বকাপ ছিল আনন্দ, বেদনা, বিস্ময় এবং ইতিহাস গড়ার এক অনন্য মঞ্চ। সাম্বার দেশ ব্রাজিলে আয়োজিত এই আসর শেষ পর্যন্ত স্মরণীয় হয়ে থাকে জার্মানির শিরোপা জয়ের পাশাপাশি আর্জেন্টিনার অপূর্ণ স্বপ্ন এবং স্বাগতিক ব্রাজিলের অবিশ্বাস্য বিপর্যয়ের জন্য।
১৩ জুলাই রিও ডি জেনেইরোর ঐতিহাসিক মারাকানা স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ফাইনালে মুখোমুখি হয়েছিল জার্মানি ও আর্জেন্টিনা। নির্ধারিত ৯০ মিনিটে কোনো দলই গোলের দেখা না পেলে ম্যাচ গড়ায় অতিরিক্ত সময়ে। পুরো ম্যাচে বেশ কয়েকটি সুযোগ নষ্ট করে আর্জেন্টিনা, যার খেসারত দিতে হয় শেষ পর্যন্ত।
অতিরিক্ত সময়ের ১১৩তম মিনিটে আন্দ্রে শুরলের ক্রস থেকে অসাধারণ দক্ষতায় বল নিয়ন্ত্রণ করে ভলিতে জালে পাঠান বদলি খেলোয়াড় মারিও গোটজে। তার সেই একমাত্র গোলেই ২৪ বছর পর বিশ্বকাপ শিরোপা জিতে নেয় জার্মানি। এটি ছিল জার্মানদের চতুর্থ বিশ্বকাপ ট্রফি।
ফাইনালে পরাজিত হলেও পুরো টুর্নামেন্টে অসাধারণ পারফরম্যান্সের স্বীকৃতি হিসেবে গোল্ডেন বল জেতেন লিওনেল মেসি। তবে ব্যক্তিগত সাফল্যও তার শিরোপা না জেতার আক্ষেপ ঢাকতে পারেনি। মারাকানার মঞ্চে ট্রফির দিকে তাকিয়ে থাকা মেসির সেই বিষণ্ন ছবি আজও বিশ্বকাপ ইতিহাসের অন্যতম আবেগঘন মুহূর্ত।
তবে আসরের সবচেয়ে আলোচিত ঘটনা ছিল সেমিফাইনালে ব্রাজিলের বিপর্যয়। বেলো হরিজন্তের মিনেইরাও স্টেডিয়ামে জার্মানির বিপক্ষে মাঠে নেমে রীতিমতো বিধ্বস্ত হয় পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। নেইমারের চোট এবং অধিনায়ক থিয়াগো সিলভার অনুপস্থিতিতে রক্ষণভাগ ভেঙে পড়ে সম্পূর্ণভাবে।
প্রথমার্ধেই পাঁচ গোল হজম করা ব্রাজিল শেষ পর্যন্ত ৭-১ গোলের লজ্জাজনক পরাজয় বরণ করে। ফুটবল ইতিহাসে ‘মিনেইরাজো’ নামে পরিচিত এই ম্যাচটি আজও ব্রাজিলিয়ান ফুটবলের সবচেয়ে বেদনাদায়ক অধ্যায় হিসেবে বিবেচিত হয়।
এই বিশ্বকাপেই বিশ্ব ফুটবল পেয়েছিল কলম্বিয়ার উদীয়মান তারকা জেমস রদ্রিগেজকে। দুর্দান্ত নৈপুণ্যে ৬ গোল করে তিনি জিতেছিলেন গোল্ডেন বুট। বিশেষ করে উরুগুয়ের বিপক্ষে তার করা দুর্দান্ত ভলি গোলটি বিশ্বকাপ ইতিহাসের অন্যতম সেরা গোল হিসেবে স্থান করে নিয়েছে।
অন্যদিকে, ব্রাজিলের বিপক্ষে সেমিফাইনালে গোল করে বিশ্বকাপ ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতার রেকর্ড গড়েন জার্মান স্ট্রাইকার মিরোস্লাভ ক্লোসা। তার গোলসংখ্যা দাঁড়ায় ১৬, যা সে সময় নতুন বিশ্বরেকর্ড ছিল।
প্রযুক্তিগত দিক থেকেও ২০১৪ বিশ্বকাপ ছিল বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। এই আসরেই প্রথমবার রেফারিরা ফ্রি-কিকের দূরত্ব নির্ধারণে সাদা স্প্রে ব্যবহার করেন, যা পরে বিশ্ব ফুটবলে নিয়মিত দৃশ্য হয়ে ওঠে।
সব মিলিয়ে ২০১৪ সালের ব্রাজিল বিশ্বকাপ ফুটবলপ্রেমীদের উপহার দিয়েছে অসংখ্য স্মরণীয় মুহূর্ত, যেখানে জার্মানির বিশ্বজয়, মেসির অপূর্ণ স্বপ্ন এবং ব্রাজিলের ঐতিহাসিক বিপর্যয় একসঙ্গে জায়গা করে নিয়েছে ফুটবল ইতিহাসের পাতায়।
