

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


আইসিসির বৈশ্বিক টুর্নামেন্টগুলোতে গত কয়েকবছর থেকেই ভারতের একক আধিপত্যা দেখা গিয়েছে। ২০২৪ সালে অনুষ্ঠিত আইসিসি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের পর থেকে আইসিসি ইভেন্টে হারের মুখ দেখেনি ভারত।
চলমান টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপেও এই ধারা অব্যাহত রেখেছিল দলটি। গ্রুপ পর্বে সবক’টি ম্যাচ জিতে সুপার এইটে পৌঁছেছিল তারা। মাঠে তাদের পারফরম্যান্স দেখে অনেক ক্রিকেট বোদ্ধাই বলেছিলেন, এবারও হয়তো অপরাজিত থেকে ফাইনালে পৌঁছাবে ভারত।
তবে ‘যুদ্ধিষ্ঠিরের রথের চাকা’ যেমন মাটিতে পড়েছিল ঠিক তেমনি ভারতকেও দেখতে হয়েছে হারের মুখ। সুপার এইটে নিজেদের প্রথম ম্যাচে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে দাঁড়াতেই পারেনি ‘টিম ইন্ডিয়া’। ৭৬ রানের বড় ব্যবধানে হার নিয়ে এই পর্বে ‘গ্রুপ-১’-এর তিন নম্বরে অবস্থান করছে তারা।
দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে বড় ব্যবধানে হারের পর টুর্নামেন্টের সেমিফাইনালে উঠতে পরবর্তী দুই ম্যাচে ভারতের জয়ের বিকল্প নেই। এক্ষেত্রে কেবল জয়ই যথেষ্ট নয় সাথে তাকিয়ে থাকতে হবে অন্য ম্যাচগুলোর দিকেও।
এমন অবস্থায় বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে মাঠে নামছে তারা। বাংলাদেশ সময় সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় চেন্নাইয়ের চিপকে শুরু হবে এ ম্যাচ।
এদিকে টুর্নামেন্টের চলমান আসরে শুরু থেকেই দুর্দান্ত পারফরম্যান্স করেছে জিম্বাবুয়ে। দীর্ঘদিন পর আইসিসি ইভেন্টে খেলতে আসা দলটির পারফরম্যান্সে ক্রিকেট পাড়ায় রীতিমতো হইচই পড়ে গিয়েছে।
গ্রুপ পর্বের চার ম্যাচের মধ্যে কোনো ম্যাচ হারেনি দলটি। এমনকি অস্ট্রেলিয়া, শ্রীলঙ্কার মতো দলকে রীতিমতে ঝরা পাতার মতো উড়িয়ে দিয়েছে সিকান্দার রাজারা।
অন্যদিকে ভারতীয় শিবিরের অবস্থা একেবারের টালমাটাল। একদিকে দলের টপ অর্ডারের ভরসা অভিষেক শর্মা দীর্ঘদিন থেকেই ভুগছেন রান খরাই। অন্যদিকে পারিবারিক কারণে বিশ্বকাপের মাঝপথেই দল ছেড়েছেন রিংকু সিং। সব মিলিয়ে বিশ্লেষকরা বলছেন, জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ম্যাচটি বেশ কঠিনই হতে যাচ্ছে ভারতের জন্য।
বিষয়টি অকপটে স্বীকার করেছেন ভারতীয় দলের ব্যাটিং কোচ সীতাংশু। তার ভাষ্য, ভারত জিম্বাবুয়েকে হালকাভাবে নিচ্ছে না। তিনি বলেন, ‘ প্রতিপক্ষ যে-ই হোক, আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে সব ম্যাচই চাপের। তাও যদি হয় বিশ্বকাপ, তাহলে তো কথাই নেই।’
ভারতের ব্যাটিং কোচ আরও বলেন, ‘দেখুন ভারতে বিশ্বকাপ খেলা অবশ্যই চাপের। অনেক আশা প্রত্যাশা থাকে। আমি বিশ্বাস করি যে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে যেকোনো ম্যাচে চাপ থাকবেই। যখন আপনি দেশকে প্রতিনিধিত্ব করবেন, তখন অবশ্যই এটা চাপের ম্যাচ (জিম্বাবুয়ে-ম্যাচ)।’
এদিকে সুপার এইটে নিজেদের প্রথম ম্যাচে ওয়েস্ট ইন্ডিজের কাছে হেরেছে জিম্বাবুয়েও। সুতরাং টুর্নামেন্টে টিকে থাকতে হলে তাদেরও জয়ের বিকল্প নেই।
চলতি আসরে শুরু থেকেই জিম্বাবুয়ের বোলিং ডিপার্টমেন্ট দুর্দান্ত করছে। সবশেষ ম্যাচে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে খরুচে বোলিং করেছেন জিম্বাবুয়ের সব বোলার। তবে ভারতের বিপক্ষে বোলারদের নিয়ে আশাবাদী রায়ান বার্ল। জিম্বাবুয়ের অলরাউন্ডারের বিশ্বাস, বোলিং বৈচিত্র্য কাজে লাগিয়ে ভালো কিছু করতে পারবেন তারা।
ব্লেসিং মুজারাবানি, রিচার্ড এনগারাভাসহ জিম্বাবুয়ের বোলিং বিভাগে দীর্ঘদেহী ফাস্ট বোলার আছেন তিন জন। তাদের দলে প্রায় সব ধরনের স্পিনারও আছেন- গ্রায়েম ক্রিমার (লেগ স্পিন), সিকান্দার রাজা (অফ স্পিন ও রহস্য স্পিন) ও ওয়েলিংটন মাসাকাদজা (বাঁহাতি ফিঙ্গার স্পিন)। চেন্নাইয়ের কালো মাটির উইকেটে জিম্বাবুয়ের টিম ম্যানেজমেন্ট সব বিকল্পই বিবেচনা করছে।
প্রসঙ্গত, দক্ষিণ আফ্রিকার কাছে ৭৬ রানে হারায় ভারতের নেট রানরেট -৩.৮০। সূর্যকুমারের নেতৃত্বাধীন ভারত আরও কোণঠাসা হয়ে পড়ে পরশু জিম্বাবুয়ে-ওয়েস্ট ইন্ডিজ ম্যাচের পর। সেই ম্যাচে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ১০৭ রানে জেতায় তাদের নেট রানরেট হয়েছে +৫.৩৫। জিম্বাবুয়ে-ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে দুটি ম্যাচ জিতলেও ভারতের তাকিয়ে থাকতে হবে অন্যান্য ম্যাচের দিকে।
মন্তব্য করুন

