রবিবার
২৬ এপ্রিল ২০২৬, ১৩ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
রবিবার
২৬ এপ্রিল ২০২৬, ১৩ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বাংলাদেশে আন্তর্জাতিক স্কোয়াশ কোচিং কোর্সের সমাপ্তি

এনপিবি ডেস্ক
প্রকাশ : ২৬ এপ্রিল ২০২৬, ০৩:৪১ পিএম
বাংলাদেশে আন্তর্জাতিক স্কোয়াশ কোচিং কোর্সের সমাপ্তি
expand
বাংলাদেশে আন্তর্জাতিক স্কোয়াশ কোচিং কোর্সের সমাপ্তি

বাংলাদেশে স্কোয়াশ খেলাকে নতুন উচ্চতায় নিতে আন্তর্জাতিক মানের লেভেল-২ কোচিং কোর্স সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। দেশি-বিদেশি কোচদের অংশগ্রহণে আয়োজিত এই কোর্স স্কোয়াশের উন্নয়ন ও বিস্তারে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে বলে আশা করা হচ্ছে।

রোববার (২৬ এপ্রিল) সকালে ঢাকা সেনানিবাসের আর্মি স্কোয়াশ কমপ্লেক্সে সমাপ্ত হলো স্কোয়াশের বিশ্বমানের লেভেল-২ কোচিং কোর্স।

যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রী আমিনুল হক উক্ত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে সনদপত্র ও পুরস্কার বিতরণ করেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন মেজর জেনারেল হাসান-উজ-জামান (এনডিইউ, এএফডব্লিউসি, পিএসসি)। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন সাধারণ সম্পাদকসহ নির্বাহী কমিটির সদস্যবৃন্দ, আমন্ত্রিত অতিথিবৃন্দ এবং স্কোয়াশ খেলোয়াড়রা।

মন্ত্রী সার্বিক আয়োজন এবং খেলার মান দেখে সন্তোষ প্রকাশ করেন এবং স্কুল পর্যায়ে স্কোয়াশ খেলা ছড়িয়ে দেওয়ার আশাবাদ ব্যক্ত করেন। পাশাপাশি উন্নত মানের বিদেশি কোচ আনার বিষয়ে প্রয়োজনীয় সহযোগিতার আশ্বাস দেন।

গত ২০ এপ্রিল থেকে বাংলাদেশে এই আন্তর্জাতিক স্কোয়াশ কোচিং কোর্সটি শুরু হয়। আর্মি স্কোয়াশ কমপ্লেক্সের পাশাপাশি বাংলাদেশ ইনডিপেনডেন্ট ইউনিভার্সিটি ও বসুন্ধরা স্পোর্টস সিটিতেও কোর্সটি পরিচালিত হয়।

বাংলাদেশসহ ভারত, পাকিস্তান, মালয়েশিয়া ও হংকংয়ের লেভেল-১ সনদপ্রাপ্ত কোচদের নিয়ে বিশ্ব স্কোয়াশ ও এশিয়ান স্কোয়াশ ফেডারেশন অনুমোদিত ছয় দিনব্যাপী এই লেভেল-২ কোচিং কোর্সটি একটি অনাড়ম্বর অনুষ্ঠানের মাধ্যমে শেষ হয়। চলমান পরিস্থিতির কারণে ইরানের দুইজন কোচ অংশগ্রহণ করতে পারেননি।

উল্লেখ্য, অংশগ্রহণকারী বিদেশি কোচদের সবাই আন্তর্জাতিক মানের স্কোয়াশ খেলোয়াড় এবং দেশে-বিদেশে বিভিন্ন পর্যায়ে কোচিং দিয়ে থাকেন।

বিশ্ব স্কোয়াশে সুপরিচিত মালয়েশিয়ার কোচ সুভ্রমনিয়মের অধীনে এই কোর্সটি পরিচালিত হয়। বিকেএসপির দুইজন প্রশিক্ষক এবং বাংলাদেশের একমাত্র লেভেল-২ কোচ ফজলে ওয়ালী আহম্মেদের নিবিড় তত্ত্বাবধান ও সমন্বয়ে এটি সম্পন্ন হয়। বাংলাদেশের কোচদের মধ্যে ছিলেন মারজান মনিকা (ইনডিপেনডেন্ট ইউনিভার্সিটি), রাজু (আমেরিকান ক্লাব), সুমন (উত্তরা ক্লাব), সাজু (বিকেএসপি), রাফি (চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়) এবং সেনাবাহিনীর রনি, শাহাদাৎ ও মাসুম। বিদেশি অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে ছিলেন পাকিস্তানের জুলফিকার আলী খান, ভারতের প্রদীপ মালিক, হংকংয়ের ইউলসান চ্যান এবং মালয়েশিয়ার টিভিয়ান মোহন।

প্রায় ৪-৫ বছর আগে বাংলাদেশের মানুষ স্কোয়াশ খেলা প্রায় ভুলেই গিয়েছিল। বিভিন্ন জেলা শহর, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, পাঁচ তারকা হোটেল এবং অন্যান্য স্থানের স্কোয়াশ কোর্টগুলো ধ্বংস করা হয়েছিল অথবা অন্য কাজে ব্যবহার করা হচ্ছিল। তবে সীমিত সম্পদ ও সুযোগ-সুবিধার মধ্যেও ফেডারেশন গত পাঁচ বছরে অক্লান্ত পরিশ্রম করে এই খেলাটিকে পুনর্জীবিত করেছে।

ফেডারেশন নিয়মিত দেশীয় ও আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতা আয়োজনের পাশাপাশি নতুন খেলোয়াড় (ছেলে ও মেয়ে), কোচ এবং রেফারি তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। এর ধারাবাহিকতায় ইতোমধ্যে দেশীয় পর্যায়ে একাধিক প্রশিক্ষণ কোর্স আয়োজনের পাশাপাশি নিজস্ব অর্থায়নে বিশ্ব স্কোয়াশ ফেডারেশনের অনুমোদিত তিনটি লেভেল-১ কোচিং কোর্স সম্পন্ন করে প্রায় ৩০ জন আন্তর্জাতিক মানের কোচ তৈরি করা হয়েছে।

এই এলিট কোচিং কোর্সের সফল আয়োজনের মাধ্যমে একদিকে যেমন দক্ষ কোচ ও মানবসম্পদ তৈরি হয়েছে, অন্যদিকে প্রমাণ হয়েছে—সদিচ্ছা, দৃঢ় নেতৃত্ব এবং সঠিক পরিকল্পনা থাকলে বাংলাদেশের যেকোনো খেলায় উন্নয়ন সম্ভব।

কোর্সটি আংশিকভাবে স্পন্সর করেছে ফেডারেশনের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক তারেক এবং তার ম্যাক্স গ্রুপ। বাংলাদেশ স্কোয়াশ ও স্কোয়াশ ফেডারেশনের সাফল্য কামনা করা হয়।

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

মন্তব্য করুন