শনিবার
২৫ এপ্রিল ২০২৬, ১২ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শনিবার
২৫ এপ্রিল ২০২৬, ১২ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

রিমান্ড শেষে কারাগারে পাঠানো হলো তনু হত্যা মামলার আসামিকে

কুমিল্লা প্রতিনিধি
প্রকাশ : ২৫ এপ্রিল ২০২৬, ০৭:০৩ পিএম
ছবি সংগৃহীত
expand
ছবি সংগৃহীত

কুমিল্লার বহুল আলোচিত সোহাগী জাহান তনু হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার অবসরপ্রাপ্ত সেনাসদস্য হাফিজুর রহমানকে তিন দিনের রিমান্ড শেষে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

শনিবার (২৫ এপ্রিল) দুপুরে কুমিল্লার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আবদুল্লাহ আল আমানের আদালত এ আদেশ দেন। আদালত সূত্র জানায়, রিমান্ড শেষে ঢাকার কল্যাণপুরে পিবিআইয়ের বিশেষ ইউনিট থেকে হাফিজুর রহমানকে কুমিল্লায় আনা হয়। বেলা দুইটার দিকে আদালতে হাজির করা হলে বিচারক তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। পরে কড়া নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে তাকে কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগারে নেওয়া হয়।

এর আগে গত বুধবার সাত দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও পিবিআই পরিদর্শক মো. তরিকুল ইসলাম। শুনানি শেষে আদালত তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। ওই সময় তাকে জিজ্ঞাসাবাদে গুরুত্বপূর্ণ কিছু তথ্য পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছেন তদন্ত সংশ্লিষ্টরা।

তদন্ত কর্মকর্তা তরিকুল ইসলাম বলেন, রিমান্ডে প্রাপ্ত তথ্য যাচাই করা হচ্ছে। প্রয়োজনে আবারও রিমান্ড চাওয়া হতে পারে। তিনি আরও জানান, হাফিজুর রহমানের ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে এবং পরীক্ষার ফলাফলের অপেক্ষা করা হচ্ছে। ৫২ বছর বয়সী হাফিজুর রহমান সেনাবাহিনীর সাবেক সিনিয়র ওয়ারেন্ট অফিসার। ২০২৩ সালে অবসর নেওয়ার পর গত মঙ্গলবার ঢাকার কেরানীগঞ্জ এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। তনু হত্যাকাণ্ডের সময় তিনি কুমিল্লা সেনানিবাসে কর্মরত ছিলেন।

মামলা সূত্রে জানা গেছে, এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে আরও দুইজনের ডিএনএ নমুনা পরীক্ষার অনুমতি দিয়েছে আদালত। তারা হলেন—সার্জেন্ট জাহিদ ও সৈনিক শাহীন আলম, যারা ঘটনাকালে সেনানিবাসে কর্মরত ছিলেন।

তবে নিহত তনুর বাবা ইয়ার হোসেনের দাবি, ‘শাহীন’ নামে কোনো সৈনিককে তারা চেনেন না; শুরু থেকেই ‘জাহিদ’ নামটিই উঠে এসেছে। এ বিষয়ে তদন্ত কর্মকর্তা বলেন, শাহীন ও জাহিদ আলাদা ব্যক্তি—তদন্তে বিষয়টি স্পষ্ট হবে।

২০১৬ সালের ২০ মার্চ কুমিল্লা সেনানিবাস এলাকায় টিউশনি করতে গিয়ে নিখোঁজ হন তনু। পরে সেনানিবাসসংলগ্ন একটি জঙ্গল থেকে তাঁর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় পরদিন তাঁর বাবা অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করেন।

দীর্ঘদিন থানা পুলিশ, ডিবি ও সিআইডির তদন্তে রহস্য উদ্ঘাটন না হওয়ায় ২০২০ সালে মামলাটি পিবিআইয়ের কাছে হস্তান্তর করা হয়। বর্তমানে সংস্থাটি মামলার তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে।

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

মন্তব্য করুন