

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


দেশজুড়ে চলমান গ্যাস সংকট নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে সর্বসাধারণকে থালা-বাসন নিয়ে শান্তিপূর্ণভাবে রাস্তায় নেমে প্রতিবাদের আহ্বান জানিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটোয়ারী।
রোববার (২ আগস্ট) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ আহবান জানান।
নাসীরুদ্দীন পাটোয়ারী পোস্টে লেখেন, ‘সকাল থেকে বাসায় গ্যাস নেই। মানুষের নিত্যপ্রয়োজনীয় এই সেবা বারবার ব্যাহত হওয়া কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। যদি দ্রুত এর সমাধান না আসে, তাহলে সবার থালা-বাসন নিয়ে শান্তিপূর্ণভাবে রাস্তায় নেমে প্রতিবাদ জানানো উচিত।’
এদিকে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) সরবরাহ কমে যাওয়ায় দেশে গ্যাস সংকট আরও তীব্র হয়েছে। প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় তীব্র গ্যাস সংকট চলছে। একটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় বর্তমানে দেশে দৈনিক গ্যাস সরবরাহ নেমে এসেছে প্রায় ২ হাজার ১৫০ মিলিয়ন ঘনফুটে। এতে শিল্প-কারখানা, বিদ্যুৎ উৎপাদন, সিএনজি স্টেশন এবং আবাসিক খাতে সংকট বেড়েছে।
পেট্রোবাংলার তথ্য অনুযায়ী, স্বাভাবিক সময়ে দেশে দৈনিক ২ হাজার ৬০০ থেকে ২ হাজার ৭০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা সম্ভব হলেও বর্তমানে তা কমে ২ হাজার ১৫০ মিলিয়ন ঘনফুটে নেমেছে। অন্যদিকে দেশে প্রতিদিন গড়ে গ্যাসের চাহিদা প্রায় ৩ হাজার ৮০০ মিলিয়ন ঘনফুট। ফলে চাহিদার তুলনায় বড় ধরনের ঘাটতি তৈরি হয়েছে।
শুধু এলএনজি সরবরাহ কমে যাওয়াই নয়, ধারাবাহিকভাবে কমছে দেশের স্থানীয় গ্যাস উৎপাদনও। পেট্রোবাংলা সূত্র জানায়, প্রতিবছর স্থানীয় গ্যাসের উৎপাদন প্রায় ১৫ কোটি ঘনফুট কমছে। পুরোনো কূপ সংস্কার করেও প্রত্যাশিত পরিমাণ গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে না।
দেশের অন্যতম বৃহৎ গ্যাস উৎপাদনকারী মার্কিন কোম্পানি শেভরনের উৎপাদনও কমছে। প্রতিষ্ঠানটির গ্যাসক্ষেত্রগুলো থেকে বছরে গড়ে প্রায় ১২০ মিলিয়ন ঘনফুট উৎপাদন কমে যাচ্ছে। একই সঙ্গে রাষ্ট্রায়ত্ত স্থানীয় কোম্পানিগুলোর উৎপাদনও বছরে প্রায় ৩০ মিলিয়ন ঘনফুট হ্রাস পাচ্ছে।
পেট্রোবাংলার গ্যাস উৎপাদন প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি বছরের মার্চের প্রথম সপ্তাহে শেভরনের বিবিয়ানা গ্যাসক্ষেত্র থেকে দৈনিক ৮১৫ থেকে ৮২০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা হতো। তবে ২০ থেকে ৩০ জুলাইয়ের হিসাব অনুযায়ী তা কমে প্রায় ৭৫০ মিলিয়ন ঘনফুটে নেমেছে। অর্থাৎ সাড়ে চার মাসের ব্যবধানে বিবিয়ানা গ্যাসক্ষেত্র থেকে দৈনিক গ্যাস সরবরাহ কমেছে প্রায় ৭০ মিলিয়ন ঘনফুট।