

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


সিন্ডিকেটের নির্যাতনের অভিযোগ তুলে ব্যবসা বন্ধ করে বিদেশে চলে ছেড়েছেন ‘নবীন পাঞ্জাবি’র ব্যবস্থাপনা পরিচালক হাফেজ এনামুল হাসান নবীন। মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) সন্ধ্যায় হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর হয়ে দেশ ছাড়েন তিনি।
দেশত্যাগের পূর্বে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে একটি ছবি যুক্ত করে তিনি লেখেন, ‘সিংহের মতো বাঁচতে চাই, কিন্তু সিন্ডিকেটের গুলিতে সন্তানদের এতিম করতে চাই না... তাই দেশ ছেড়ে চলে যাচ্ছি, পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে হয়তোবা একদিন ফিরব- ইনশাআল্লাহ।’
এর আগে এদিন বিকেলে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, আমাদেরকে মূল্য নির্ধারণ করে দেওয়া হয় যে ৪ হাজার ৫০০ টাকার নিচে পাঞ্জাবি বিক্রি করা যাবে না আর ১ হাজার ৫০০ টাকার নিচে পাজামা বিক্রি করা যাবে না। তারা এই সিন্ডিকেট সবসময় নিয়ন্ত্রণ করে আসছে। তবে আমাদের লক্ষ্য গ্রাহকের কাছে ন্যায্যমূল্যে পণ্য বিক্রি করা। এর কারণে যদি আমাদের বাধার সম্মুখীন হতে হয় তাহলে আমরা ব্যবসা বন্ধ করে দিব। আমি আবার প্রবাসে ফিরে যাব। আমার মনে হয় বাংলাদেশে ব্যবসা করা হবে না।
এনামুল হাসান বলেন, আমাদেরকে ফোন দিয়ে ভয় দেখানো হচ্ছে যে সব শোরুম বন্ধ করে দেব যদি ভিডিও ডিলিট না করো।
তিনি বলেন, আমরা তো ভিডিও করিনি, আমাদের এক গ্রাহক ভিডিও করে ফেসবুকে দিয়েছে সেখান থেকে সংবাদকর্মীরা ভিডিওগুলো নিয়েছে।
তিনি আরও বলেন, এই প্রতিষ্ঠানের আয়-ব্যয় সম্পূর্ণ গরীব দুঃখী অসহায়দের মাঝে আমরা বিতরণ করে থাকি। ব্যবসার লভ্যাংশ দিয়ে আমরা গরীব দুঃখী অসহায়দের খাবার বিতরণ করে থাকি। তাদের চিকিৎসার ব্যবস্থা করে থাকি। তারপরেও আমরা সবসময় মিডিয়ার আড়ালেই থেকেছি। কখনোই সামনে আসি নাই।
নবীনের মালিক বলেন, আমরা ৩০০ টাকায় পাঞ্জাবি ও পাজামা বিক্রি করি। এ ছাড়া আমাদের বিভিন্ন মূল্যের প্রোডাক্ট আছে যেটা বাজার মূল্যের চেয়ে অনেক কম। কারণ আমাদের প্রোডাকশন কস্ট কম আমাদের কোম্পানিতে প্রতিবন্ধী, তৃতীয় লিঙ্গ, আগে মাদকাসক্ত ছিলেন এখন ভালো হয়ে গেছেন এমন লোক আমাদের এখানে কাজ করে।
তিনি বলেন, আমরা অনেক বাধা উপেক্ষা করে ব্যবসা পরিচালনা করে আসছি। আমাদেরকে সরকার সহযোগিতা করবে এই প্রত্যাশা আমরা সবসময় করি কিন্তু আমাদের মত ব্যবসায়ীরা কখনই সরকারের কাছ থেকে কোনো সহযোগিতা পায়নি। সহযোগিতা পায় সিন্ডিকেটরা, বড় বড় ব্যবসায়ীরা যারা বড় অংকের লোন নেয় ব্যাংক থেকে নিয়ে ঋণ খেলাপি হয়। আমরা জনগণের জন্য যদি কিছু করতে চাই সেক্ষেত্রে আমাদেরকে ভয়-ভীতি দেখানো হয়।
উল্লেখ্য, ঈদুল ফিতরের আগের দিন গত ২০ মার্চ কম দামে পাঞ্জাবি বিক্রি করায় আশপাশের ব্যবসায়ীরা পুলিশের সহায়তায় জোরপূর্বক রাজধানীর মগবাজারে ‘নবীন ফ্যাশন’ এর দোকান বন্ধ করে দেয়। কমদামে পণ্য বিক্রিকে ‘রিলিফ দেওয়ার’ সঙ্গে তুলনা করে আপত্তি জানান প্রতিবেশী দোকানদাররা।
মন্তব্য করুন
