

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


মৃত্যুর মাধ্যমে মানুষের দুনিয়াবি জীবনের ইতি ঘটে এবং শুরু হয় পরকালীন জীবনের প্রথম ধাপ- ‘আলমে বরজখ’ বা কবরের জগত।
মৃত্যুর পর একজন মানুষের শ্রবণ ও অনুভূতির ক্ষমতা কতটুকু থাকে, জীবিতদের কথা তিনি শুনতে পান কি না, কিংবা প্রিয়জনের কান্না, গোসল, কাফন ও দাফনের সময় আশপাশের ঘটনাগুলো তিনি অনুভব করেন কি না- এসব নিয়ে সমাজে নানা ধারণার প্রচলন রয়েছে।
ইসলামী স্কলার শায়খ আহমাদুল্লাহ তার ব্যক্তিগত ইউটিউব চ্যানেলে কোরআন-সুন্নাহর আলোকে এ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন। তার বক্তব্য অনুযায়ী, মৃত্যুর পর মৃত ব্যক্তির শ্রবণ বা অনুভূতির বিষয়ে অনুমাননির্ভর বা মনগড়া কোনো ধারণা গ্রহণ করা উচিত নয়; বরং রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর সুনির্দিষ্ট হাদিসগুলোকেই ভিত্তি হিসেবে ধরতে হবে।
দাফনের পূর্বে অনুভূতির শক্তি
অনেকের ধারণা, মারা যাওয়ার পরও মানুষ আশপাশের ঘটনা বুঝতে পারে- বিশেষ করে গোসল, কাফন পরিধান করানো কিংবা আত্মীয়-স্বজনের কান্নাকাটি ও কথাবার্তা শুনতে পায়।
তবে শায়খ আহমাদুল্লাহ জানান, দাফনের পূর্ব পর্যন্ত মৃত ব্যক্তি এ ধরনের কথাবার্তা বা কান্নাকাটি শুনতে পান বা অনুভব করেন- এমন কথা কোনো হাদিসে সরাসরি বর্ণিত হয়নি। অর্থাৎ, শরিয়ত অনুযায়ী দাফনের আগের এই অনুভবী শক্তির বিষয়টি প্রমাণিত নয়।
কবরস্থ করার পর শ্রবণক্ষমতা
হাদিস অনুযায়ী, মৃত ব্যক্তির শোনার ক্ষমতা মূলত শুরু হয় তাকে কবরস্থ করার পর থেকে। আনাস (রা.) থেকে বর্ণিত সহিহ বুখারির হাদিসের উদ্ধৃতি দিয়ে শায়খ আহমাদুল্লাহ বলেন:
নবী করীম (সা.) ইরশাদ করেছেন, কোনো ব্যক্তিকে যখন কবরে রাখা হয় এবং দাফন শেষে তার আত্মীয়-স্বজনরা ফিরে যেতে থাকে, তখন মৃত ব্যক্তি তাদের পায়ের জুতার আওয়াজ পর্যন্ত শুনতে পান।
এ থেকে বোঝা যায়, কবরস্থ হওয়ার পর মৃত ব্যক্তির এক ধরনের শ্রবণ ও অনুভব করার ক্ষমতা তৈরি হয়। ফলে আশপাশে মানুষের চলাচল বা কেউ জিয়ারত করতে এলে তিনি সেই উপস্থিতি অনুভব করতে পারেন।
সালামের জবাব ও পরিচিতদের সান্নিধ্য
কবরের জগতে মৃত ব্যক্তির শ্রবণক্ষমতা কেবল জুতার শব্দ শোনার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) বর্ণিত হাদিস থেকে জানা যায়, দুনিয়ায় পরিচিত কোনো ব্যক্তি যদি মৃত ব্যক্তির কবরের পাশে গিয়ে সালাম দেয় বা জিয়ারত করে, তবে মৃত ব্যক্তি তা অনুভব করতে পারেন।
শায়খ আহমাদুল্লাহর ব্যাখ্যা অনুযায়ী, এ অবস্থায় আল্লাহ তাআলা মৃত ব্যক্তির মধ্যে এক ধরনের রুহ বা অনুভবের ক্ষমতা ফিরিয়ে দেন, যার মাধ্যমে তিনি জিয়ারতকারীর সালামের জবাব দিতে সক্ষম হন।
বরজখী জীবনের বিশেষ রূপ
মৃত্যুর পরের এই শ্রবণ ও অনুভূতির বিষয়টি সম্পূর্ণ ভিন্ন এক জগত বা ‘বরজখী’ জীবনের অংশ। এটি দুনিয়ার মানুষের স্বাভাবিক শ্রবণ বা অনুভূতির সঙ্গে তুলনীয় নয়।
আল্লাহ তাআলা মৃত ব্যক্তিকে একটি বিশেষ রুহ বা অনুভবী শক্তি দান করেন, যার মাধ্যমে তিনি কবরের শাস্তি কিংবা নেয়ামত অনুভব করতে পারেন। তবে এই প্রক্রিয়ার প্রকৃত স্বরূপ কেমন, তা কেবল মহান আল্লাহ তাআলাই ভালো জানেন। দাফনের পরের এই নির্দিষ্ট বিষয়গুলো ছাড়া অন্য কোনো সময়ে মৃত ব্যক্তির শোনার বিষয়ে হাদিসে বিস্তারিত কিছু পাওয়া যায় না।


