

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


নিম্নমানের গ্রাফিকস, অগোছালো গল্প আর অদ্ভুত নির্মাণের কারণে সিনেমাটি দেখে দর্শকদের বিরক্ত হওয়ার কথা ছিল। এক গরুর স্বপ্ন নিয়ে তৈরি এই স্বল্পবাজেটের অ্যানিমেশন সিনেমাটি মুক্তির প্রথম ১০ দিনে আয় করেছিল মাত্র ৭ হাজার ৭০৫ ইউয়ান।
কিন্তু সোশ্যাল মিডিয়ায় এর প্রযুক্তিগত ত্রুটি ও দুর্বল দৃশ্য নিয়ে রসিকতা ছড়িয়ে পড়ার পর ঘটনা অন্যদিকে মোড় নেয়। অদ্ভুত এই কৌতূহল থেকে সিনেমাটির আয় রাতারাতি লাফিয়ে ১ কোটি ১৪ লাখ ইউয়ান ছাড়িয়ে যায়।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ানো একটি মন্তব্যে সিনেমাটি দেখার আগ্রহ তৈরি হয় বহুগুণ। এক দর্শক লেখেন- ‘ছবিটি দেখলে হয়তো ৮০ মিনিট আফসোস হবে, কিন্তু না দেখলে সারা জীবন আফসোস করতে হবে।’
এই এক কৌতূহলকে কেন্দ্র করে স্বল্পবাজেটের ছবিটি চীনের বক্স অফিসে রীতিমতো বড় বাজেটের হলিউড সিনেমাগুলোর সাথে পাল্লা দিতে শুরু করে।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (AI) নিখুঁত ও উন্নত প্রযুক্তির যুগে ‘নিউ লাই’ (Niu Lai) সিনেমাটিকে অনেকে একটি ব্যতিক্রমী প্রতিক্রিয়া হিসেবে দেখছেন।
প্রযুক্তিগত নানা ত্রুটি ও দুর্বলতা থাকা সত্ত্বেও চীনা দর্শকরা মজা করে একে ‘খাঁটি হাতে তৈরি কারুশিল্প’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন এবং এটি চলতি গ্রীষ্মের সবচেয়ে অপ্রত্যাশিত সাফল্য হিসেবে জায়গা করে নিয়েছে।
সিনেমাটির সাফল্যের পেছনে চীনের শেয়ারবাজারের এক ধরনের মনস্তাত্ত্বিক যোগসূত্র খুঁজে পাচ্ছেন বিশ্লেষকরা। চীনা ভাষায় ‘নিউ’ শব্দটির সাথে ‘ষাঁড়’ এবং চাঙা বা চাঙ্গা শেয়ারবাজারের সম্পর্ক রয়েছে।
দেশটিতে অর্থনৈতিক মন্দা চলায় শেয়ারবাজার ঘুরে দাঁড়ানোর প্রত্যাশা থেকেও অনেকে সিনেমাটির প্রতি ভালোবাসাও সমর্থন দেখাচ্ছেন।
শুরুতে ছবিটির প্রচারপত্র বা পোস্টার মানসম্মত ছিল না। হুট করে দর্শক চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় সিনেমা হল কর্তৃপক্ষ অতিরিক্ত শো-এর ব্যবস্থা করে।
এমনকি কর্মীরা নিজেরাই কাগজ ও রং দিয়ে হাতে এঁকে পোস্টার তৈরি করে হলের সামনে ঝুলিয়ে দেন, যা ঝকঝকে বড় বাজেটের পোস্টারের পাশে এক অদ্ভুত বৈচিত্র্য আনে।
তবে এই জোয়ার নিয়ে সমালোচনাও কম হচ্ছে না। রাষ্ট্রায়ত্ত সংবাদমাধ্যম ‘বেইজিং নিউজ’-এর এক কলামে উদ্বেগ প্রকাশ করে বলা হয়, অতিরিক্ত ব্যবসার খাতিরে এমন নিম্নমানের সিনেমা বেশি দেখালে দীর্ঘমেয়াদে দর্শকরা প্রেক্ষাগৃহের ওপর আস্থা হারাতে পারেন। তাই হলের দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান তারা।
কোনো বড় প্রচারণা ছাড়া প্রায় দর্শকহীনভাবে যাত্রা শুরু করা এই সিনেমাটি এখন চীনের বক্স অফিসে এক অদ্ভুত ও অভাবনীয় চমকে পরিণত হয়েছে।


