

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও উৎসবমুখর পরিবেশে সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে উদযাপিত হচ্ছে পবিত্র ঈদুল আজহা। ঈদের নামাজ, পশু কোরবানি এবং হজের আনুষ্ঠানিকতার মধ্য দিয়ে মুসলিম বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ এই ধর্মীয় উৎসব পালন করছেন ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা।
পবিত্র হজের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ রুকন ‘উকুফে আরাফা’ সম্পন্ন হওয়ার পরই শুরু হয় ঈদুল আজহার আনুষ্ঠানিকতা। জিলহজ মাসের নবম দিনে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আগত লাখো হাজি সৌদি আরবের আরাফাত ময়দানে সমবেত হন। ভোর থেকেই শুভ্র ইহরামে সজ্জিত হাজিদের ‘লাব্বাইক আল্লাহুম্মা লাব্বাইক’ ধ্বনিতে মুখর হয়ে ওঠে পুরো প্রান্তর।
ইসলামী শরিয়ত অনুযায়ী আরাফাতে অবস্থান করাই হজের মূল রুকন। সূর্যাস্ত পর্যন্ত হাজিরা সেখানে অবস্থান করে নামাজ, তওবা-ইস্তিগফার, কোরআন তিলাওয়াত ও জিকির-আসকারে সময় অতিবাহিত করেন। মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের আশায় তারা গভীর প্রার্থনায় মগ্ন থাকেন।
নামিরা মসজিদ থেকে হজের খুতবা প্রদান করা হয়, যেখানে মুসলিম উম্মাহর ঐক্য, ইসলামী মূল্যবোধ এবং বিশ্বশান্তির ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। খুতবা শেষে হাজিরা জোহর ও আসরের নামাজ একসঙ্গে আদায় করে সূর্যাস্তের পর মুজদালিফার উদ্দেশে রওনা হন। সেখানে খোলা আকাশের নিচে রাতযাপন শেষে মিনায় শয়তানকে পাথর নিক্ষেপের জন্য প্রয়োজনীয় কঙ্কর সংগ্রহ করেন তারা।
১০ জিলহজ সকালে মিনার জামারায় বড় শয়তানকে পাথর নিক্ষেপের মধ্য দিয়ে ঈদুল আজহার মূল আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়। এরপর আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে পশু কোরবানি করেন হাজিরা। কোরবানি শেষে মাথা মুণ্ডন বা চুল ছেঁটে ইহরাম ত্যাগ করেন তারা এবং কাবা শরিফ তাওয়াফের মাধ্যমে হজের পরবর্তী কার্যক্রম সম্পন্ন করেন।
এদিকে সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে ঈদকে ঘিরে বিরাজ করছে উৎসবের আমেজ। প্রবাসী বাংলাদেশি, পাকিস্তানি ও ভারতীয় মুসলমানরা আগেই কোরবানির পশু সংগ্রহ করেছেন। পরিবার-পরিজনের সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করতে নেওয়া হয়েছে নানা প্রস্তুতি।
ত্যাগের মহিমায় উদ্ভাসিত এই দিনে মুসলমানরা স্মরণ করেন হযরত ইব্রাহিম (আ.) ও তাঁর পুত্র হযরত ইসমাঈল (আ.)-এর আত্মত্যাগের ইতিহাস। ঈদের নামাজ শেষে মুসল্লিরা পরস্পরের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন এবং মহান আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে কোরবানি আদায় করেন।
হজ ব্যবস্থাপনা নির্বিঘ্ন রাখতে সৌদি সরকার নিয়েছে ব্যাপক নিরাপত্তা ও পরিবহন ব্যবস্থা। তীব্র গরমে হাজিদের স্বস্তি দিতে বিভিন্ন স্থানে পানির ফোয়ারা ও ছায়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে। পাশাপাশি হাজিদের যাতায়াত সহজ করতে হাজার হাজার বিশেষ বাস পরিচালনা করছে কর্তৃপক্ষ।
