সোমবার
১৮ মে ২০২৬, ৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সোমবার
১৮ মে ২০২৬, ৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

জিলহজ মাসের প্রথম ১০ দিনের গুরুত্বপূর্ণ আমলগুলো

এনপিবি ডেস্ক
প্রকাশ : ১৭ মে ২০২৬, ১০:১৯ পিএম
ছবি সংগৃহীত
expand
ছবি সংগৃহীত

মুসলিম উম্মাহর জন্য অত্যন্ত ফজিলতপূর্ণ সময় পবিত্র জিলহজ মাসের প্রথম ১০ দিন। ইসলামি শরিয়তে এই দিনগুলোকে বছরের শ্রেষ্ঠ দিন হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়েছে। হাদিসে এসেছে, আল্লাহর কাছে এই দিনগুলোর নেক আমল অন্য যেকোনো দিনের তুলনায় অধিক প্রিয়।

আলেমদের মতে, জিলহজের প্রথম ১০ দিন ইবাদত, তওবা ও আত্মশুদ্ধির বিশেষ সুযোগ। এ সময় কিছু গুরুত্বপূর্ণ আমলের প্রতি বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়।

নফল রোজা রাখা

জিলহজের প্রথম ৯ দিন নফল রোজা রাখা অত্যন্ত ফজিলতপূর্ণ। বিশেষ করে ৯ জিলহজ ‘ইয়াওমে আরাফা’র রোজার ব্যাপারে হাদিসে বড় সওয়াবের কথা এসেছে। যারা হজে নেই, তাদের জন্য এ রোজা এক বছর আগের ও এক বছর পরের গুনাহ মাফের কারণ হতে পারে।

আল্লাহর নবী সা. বলেন, ‘আমি আশা করি, আরাফার দিন অর্থাৎ জিলহজের নয় তারিখের রোজার ফলে— আল্লাহ তাআলা এক বছর আগের ও এক বছর পরের গোনাহ মাফ করে দেবেন। (মুসলিম, হাদিস : ১১৬২)

তাকবিরে তাশরিক পাঠ

জিলহজের নয় তারিখ ফজরের নামাজের পর থেকে তের তারিখ আসরের নামাজ পর্যন্ত প্রত্যেক ফরজের পর পুরুষদের জন্য উচ্চস্বরে আর মহিলাদের জন্য নিম্নস্বরে তাকবিরে তাশরিক পড়া ওয়াজিব।

পুরুষরা ঈদের নামাজে যাওয়ার সময়ও উচস্বরে তাকবিরে তাশরিক পাঠ করবে। তাকবিরে তাশরিকের জন্য বিভিন্ন শব্দ হাদিস শরিফে উল্লেখিত হয়েছে। তার মধ্যে সর্বোত্তম ও সর্বজনবিদিত পাঠ হলো এই—

الله أكبر، الله أكبر، لا إله إلا الله، و الله إكبر، الله أكبر، و لله الحمد

উচ্চারণ : আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার; লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার; ওয়া লিল্লাহিল হামদ। (মুসান্নাফে ইবনে আবি শায়বাহ, হাদিস : ৫৬৯৬-৫৬৯৯; সুনানু ইবনিল মুনযির : ৪/৩৪৯)

কুরবানির প্রস্তুতি ও নিয়ত

যারা কুরবানি দেওয়ার ইচ্ছা করেছেন, তাদের জন্য জিলহজের চাঁদ ওঠার পর থেকে কুরবানি সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত চুল ও নখ না কাটাকে সুন্নত বলা হয়েছে।

নফল নামাজ ও কোরআন তিলাওয়াত

এই সময় নফল ইবাদত, তাহাজ্জুদ, কোরআন তিলাওয়াত ও দোয়ার মাধ্যমে আল্লাহর নৈকট্য লাভের চেষ্টা করা উচিত।

তওবা ও দান-সদকা

গরিব-অসহায়দের সহযোগিতা, দান-সদকা এবং নিজের গুনাহের জন্য আন্তরিক তওবা এই দিনগুলোর গুরুত্বপূর্ণ আমলের মধ্যে অন্যতম।

আত্মীয়তার সম্পর্ক বজায় রাখা

ইসলামে আত্মীয়তার সম্পর্ক রক্ষা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। জিলহজের এই বরকতময় দিনগুলোতে আত্মীয়স্বজনের খোঁজখবর নেওয়া ও সম্পর্ক উন্নয়নেরও বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে।

ইসলামে আত্মীয়তার সম্পর্ক বজায় রাখা ইমানের অপরিহার্য অংশ। এটি রিজিক ও আয়ু বৃদ্ধি করে এবং জান্নাতের পথ সুগম করে। জিলহজ মাসে এই বন্ধন আরও মজবুত করা উচিত। এ কারণেই কোরবানির গোশতের একটি অংশ আত্মীয়দের মাঝে বণ্টন করা মুস্তাহাব। রাসুলুল্লাহ (সা.) কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, ‘আত্মীয়তার বন্ধন ছিন্নকারী জান্নাতে প্রবেশ করবে না।’ (সহিহ বুখারি: ৫৯৮৪)

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন