মঙ্গলবার
৩১ মার্চ ২০২৬, ১৭ চৈত্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
মঙ্গলবার
৩১ মার্চ ২০২৬, ১৭ চৈত্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

রিজিকে বরকত লাভে করণীয়

এনপিবি ডেস্ক
প্রকাশ : ৩১ মার্চ ২০২৬, ০৩:২৮ এএম
ফাইল ছবি
expand
ফাইল ছবি

মহান আল্লাহ পৃথিবীর ভারসাম্য রক্ষা ও পরীক্ষাস্বরূপ আর্থিক দিক থেকে মানুষকে বিভিন্ন স্তরে ভাগ করেছেন। অংকের দিক থেকে কারো সম্পদ কম, আবার কারো সম্পদ বেশি। তবে মহান আল্লাহর দয়া, রহমত ও প্রতিদানের ক্ষেত্রে তারাই আগানো, যারা মহান আল্লাহর নির্দেশিত পদ্ধতিতে জীবন পরিচালনা করে।

কিছু কিছু ক্ষেত্রে ধনী-গরিব সবাই হতাশ। প্রত্যেকেই যার যার অবস্থান থেকে সংকীর্ণতা অনুভব করে। জীবনের হিসাবে সবাই গড়মিল অনুভব করে। সবাই নিজ নিজ জায়গা থেকে ভবিষ্যৎ অন্ধকার দেখে।

এর কারণ রিজিক কেবল উপার্জনের ফল নয়; বরং তা আল্লাহর পক্ষ থেকে নির্ধারিত, এবং এর বরকত নির্ভর করে আমাদের আমল ও জীবনযাপনের উপর।

মানুষের আমলে অলসতা ও ভুল পথে নিজেকে পরিচালনা করার কারণে প্রতিটি মানুষই তার কুফল অনুভব করে। নিম্নে কোরআন-হাদিসের নির্দেশিত কিছু কাজ তুলে ধরা হলো, যেগুলো জীবনকে বরকতময় করতে পারে।

ইস্তিগফার: ইস্তিগফার মানে হলো, মহান আল্লাহর কাছে নিজের কৃতকর্মের ওপর লজ্জিত হয়ে ক্ষমাপ্রার্থনা করা। এর সঙ্গে রিজিকের বরকতেরও সংযোগ রয়েছে।

পবিত্র কোরআনে মহান আল্লাহ বলেন, ‘আর বলেছি, তোমাদের রবের কাছে ক্ষমা চাও; নিশ্চয় তিনি পরম ক্ষমাশীল। তিনি তোমাদের উপর মুষলধারে বৃষ্টি বর্ষণ করবেন, আর তোমাদেরকে ধন-সম্পদ ও সন্তান- সন্ততি দিয়ে সাহায্য করবেন এবং তোমাদের জন্য বাগ-বাগিচা দেবেন আর দেবেন নদী-নালা।’ (সুরা নুহ, আয়াত : ১০-১২)

বিশ্বনবী (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি বেশি বেশি ইস্তিগফার করে, আল্লাহ তার সংকট দূর করেন, দুশ্চিন্তামুক্ত করেন এবং অপ্রত্যাশিত জায়গা থেকে রিজিক দেন। (সুনানে আবু দাউদ: ১৫১৮)

দরুদ শরীফ: জীবনে বরকত না থাকার কারণেই মানুষ দুশ্চিন্তাগ্রস্ত হয়। আর দুশ্চিন্তার ওষুধ হলো, যতটা সম্ভব, বেশি বেশি দরুদ পাঠ করা। অধিক পরিমাণে দরুদ পাঠের উপকারিতা সম্পর্কে সাহাবি উবাই ইবনে কাব (রা.)-কে মহানবী (সা.) বলেন, তাহলে তোমার দুশ্চিন্তা দূর করা হবে এবং তোমার গুনাহ ক্ষমা করা হবে। (সুনানে তিরমিজি: ২৪৫৭)

দুশ্চিন্তামুক্ত জীবনও মানুষের জন্য সবচেয়ে বড় রিজিক।

সদকা: দান-সদকা মানুষের সম্পদে সমৃদ্ধি আনে। পবিত্র কোরআনে মহান আল্লাহ বলেন, ‘বল- আমার প্রতিপালকই তাঁর বান্দাদের মধ্যে যার জন্য ইচ্ছে রিজিক প্রশস্ত করেন, আর যার জন্য ইচ্ছে সীমিত করেন। তোমরা যা কিছু (সত্ কাজে) ব্যয় কর, তিনি তার বিনিময় দেবেন। তিনিই সর্বশ্রেষ্ঠ রিজিকদাতা।’ (সুরা সাবা, আয়াত : ৩৯)

বাস্তবে সদকা বাহ্যিকভাবে কমালেও, বরকতের মাধ্যমে তা বৃদ্ধি পায়, অপচয় কমে, অপ্রত্যাশিত সাহায্য আসে, হুদয়ে প্রশান্তি নেমে আসে।

আত্মীয়তার সম্পর্ক রক্ষা: জীবনে বরকত লাভের বিস্ময়কর উৎস হলো আত্মীয়তার সম্পর্ক বজায় রাখা। রাসুল (সা.) বলেন, ‘যে ব্যক্তি চায় তার রিজিক বৃদ্ধি পাক ও আয়ুতে বরকত হোক, সে যেন আত্মীয়তার সম্পর্ক বজায় রাখে।’ (বুখারি, হাদিস : ৫৯৮৬)

তাকওয়া অবলম্বন : মহান আল্লাহ তাকওয়া অবলম্বনকারীদের অপ্রত্যাশিত রিজিকের নিশ্চয়তা দিয়েছেন। পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘যে আল্লাহকে ভয় করে, তিনি তার জন্য উত্তরণের পথ করে দেন এবং এমন জায়গা থেকে রিজিক দেন, যা সে কল্পনাও করেনি। (সুরা তালাক, আয়াত : ২-৩)

তাই জীবনে বরকত চাইলে, উপার্জনসহ জীবনের সব থেকে ক্ষেত্রে আল্লাহকে ভয় করা, হালাল-হারাম মেনে চলা আবশ্যক।

কোরআনের সাথে সম্পর্ক রাখা : বিশেষ করে সুরা ওয়াকিয়াহ নিয়মিত তিলাওয়াত করার চেষ্টা করা। বহু সালাফে সালেহিন এটিকে নিয়মিত তিলাওয়াতের মাধ্যমে অভাবমুক্তির আমল হিসেবে গ্রহণ করেছেন। মূল বিষয় হলো, কোরআনের সাথে গভীর সম্পর্ক গড়ে তোলা, যা মানুষের দৃষ্টিকে দুনিয়া থেকে আখিরাতের দিকে ফেরায় এবং এতে দুনিয়াতেও বরকত আসে।

মনে রাখতে হবে, রিজিক শুধু টাকার অঙ্কে সীমাবদ্ধ নয়; বরং এতে শান্তি, তৃপ্তি, সুস্থতা ও যে কোনো কাজে আল্লাহর সাহায্য অন্তর্ভুক্ত। চাকরি বা ব্যবসা কেবল মাধ্যম, প্রকৃত দাতা একমাত্র আল্লাহ।

তাই ইস্তিগফার, দরুদ শরীফ, সদকা, আত্মীয়তার সম্পর্ক ও তাকওয়া ইত্যাদিকে জীবনের অংশ বানানো উচিত। হয়তো আয় হঠাৎ বাড়বে না, কিন্তু বরকত এমনভাবে আসবে, যা আগে কল্পনা করাও সম্ভব ছিল না।

আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে হালাল ও বরকতময় রিজিক দান করুন। আমিন।

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

মন্তব্য করুন