

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


রমজানে ইফতার মানেই সারাদিন রোজা রাখার পর শরীরকে পুনরায় শক্তি ও পানিশূন্যতা দূর করা। এই সময় অনেকেই চা, পানি বা শরবত পান করেন,
কিন্তু ডাবের পানি (Coconut Water) ইফতারে রাখলে তা শরীরের জন্য অতিরিক্ত উপকারী। রাসূলুল্লাহ (সা.) খাদ্যে স্বাস্থ্য, সহজপাচ্য ও পরিমিতি প্রাধান্য দিতে বলেছেন।
১. দ্রুত হাইড্রেশন নিশ্চিত করে
ডাবের পানি শরীরে পানি দ্রুত পৌঁছে দেয়। রোজার সময় দীর্ঘ সময় না খেয়ে থাকলে শরীর ডিহাইড্রেশনের শিকার হয়। ডাবের পানি প্রাকৃতিক ইলেক্ট্রোলাইট
আরও পড়ুনঃ খেজুর দিয়ে ইফতার শুরু করার বৈজ্ঞানিক কারণ কী?
যেমন- পটাশিয়াম, সোডিয়াম, ক্যালসিয়াম ও ম্যাগনেসিয়াম সরবরাহ করে। এগুলো শরীরের পানিশূন্যতা দূর করতে সাহায্য করে এবং ক্লান্তি ও মাথা ঘোরা কমায়।
২. শক্তি পুনরায় যোগ করে
ডাবের পানিতে প্রাকৃতিক শর্করা থাকে যা রক্তে দ্রুত শক্তি যোগ করে। তাই রোজার পর দুর্বলতা ও মাথা ঘোরা কমে।
এটি হজমে হালকা এবং পাকস্থলীর ওপর চাপ কমায়। তাই ইফতারের সঙ্গে এক বা দুই গ্লাস ডাবের পানি খেলে শরীর দ্রুত সতেজ হয়।
৩. হজম সহজ ও গ্যাস্ট্রিক প্রতিরোধ
ডাবের পানি হালকা ও সহজপাচ্য। এটি পাকস্থলীকে শান্ত রাখে এবং হজমে সাহায্য করে। গ্যাস, বুকজ্বালা বা কোষ্ঠকাঠিন্য প্রতিরোধে এটি কার্যকর।
রোজার পর ভারী খাবারের আগে ডাবের পানি পান করলে হজমের সমস্যা কম হয়।
৪. হার্ট ও রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সহায়ক
ডাবের পানিতে থাকা পটাশিয়াম হৃদযন্ত্রের জন্য উপকারী। এটি রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখে এবং হার্টের স্বাস্থ্য রক্ষা করে।
আরও পড়ুনঃ রমজানে 'কিটো ডায়েট' (Keto Diet) করা কি নিরাপদ?
যারা উচ্চ রক্তচাপ বা হার্টের সমস্যা নিয়ে ভোগেন, তাদের জন্য ডাবের পানি নিরাপদ এবং উপকারী।
৫. অতিরিক্ত খাওয়ার প্রবণতা কমায়
ডাবের পানি পেট ভরা অনুভূতি দেয়। এতে ইফতারের সময় হঠাৎ ভারী বা অতিরিক্ত খাবার খাওয়ার প্রবণতা কমে।
ফলে বদহজম ও ওজন বাড়ার ঝুঁকি কমে।
৬. শরীরের প্রাকৃতিক ডিটক্সিফায়ার ডাবের পানি প্রাকৃতিকভাবে শরীরের টক্সিন বের করতে সাহায্য করে। এটি লিভার ও কিডনির কার্যক্ষমতা ভালো রাখে এবং ডিহাইড্রেশনজনিত সমস্যার প্রতিরোধ করে।
আরও পড়ুনঃ সারাদিন সতেজ থাকতে সাহরিতে যেসব খাবার এড়িয়ে চলবেন।
রাসূলুল্লাহ (সা.) সুস্থতা ও পরিমিত খাওয়ার প্রতি গুরুত্ব দিয়েছেন। তিনি বলেছেন,
“মানুষের জন্য সবচেয়ে ভালো খাদ্য হলো যা শরীরকে উপকার করে এবং ক্ষতি করে না।” (তিরমিজি, ইবনে মাজাহ)
ডাবের পানি এই নীতির সঙ্গে পুরোপুরি সামঞ্জস্যপূর্ণ। এটি সহজপাচ্য, স্বাস্থ্যকর এবং শরীরকে সতেজ রাখে।
রমজানে ইফতারে ডাবের পানি রাখার কারণে শরীর দ্রুত হাইড্রেট হয়, শক্তি পুনরায় পায়, হজম সহজ হয়, হৃদযন্ত্র ও রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে থাকে এবং অতিরিক্ত খাওয়ার প্রবণতা কমে।
এটি প্রাকৃতিক ও স্বাস্থ্যসম্মত উপায় রোজার কষ্ট কমিয়ে সুস্থ থাকতে। তাই ইফতারের শুরুতে এক বা দুই গ্লাস ডাবের পানি খাওয়া অত্যন্ত উপকারী।
মন্তব্য করুন

