বৃহস্পতিবার
১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ৭ ফাল্গুন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
বৃহস্পতিবার
১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ৭ ফাল্গুন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

খেজুর দিয়ে ইফতার শুরু করার বৈজ্ঞানিক কারণ কী

এনপিবি ডেস্ক
প্রকাশ : ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৫:৫৩ পিএম
খেজুর
expand
খেজুর

ইসলামে ইফতার শুরু করার জন্য খেজুরকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এটি শুধু সুন্নাহ নয়, বরং আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞানও প্রমাণ করেছে যে খেজুর দিয়ে ইফতার শুরু করা শরীরের জন্য অত্যন্ত উপকারী।

দীর্ঘ সময় রোজা রাখার পর শরীর যখন দুর্বল, পানিশূন্য ও শক্তিহীন হয়ে পড়ে, তখন খেজুর দ্রুত ও নিরাপদভাবে সেই ঘাটতি পূরণ করে।

রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন,

“তোমাদের কেউ যখন ইফতার করবে, সে যেন খেজুর দিয়ে ইফতার করে। যদি খেজুর না পায়, তবে পানি দিয়ে ইফতার করবে।” (সুনানে আবু দাউদ, তিরমিজি)

আরও পড়ুনঃ ইফতারে চিয়া সিড খাওয়ার ৫টি জাদুকরী উপকারিতা।

এই হাদিস থেকেই বোঝা যায়, খেজুর দিয়ে ইফতার শুরু করা সুন্নাহ এবং এর পেছনে গভীর হিকমত রয়েছে।

প্রথমত, খেজুর দ্রুত শক্তি জোগায়

খেজুরে রয়েছে প্রাকৃতিক গ্লুকোজ, ফ্রুক্টোজ ও সুক্রোজ। রোজার সময় শরীরের রক্তে শর্করার মাত্রা কমে যায়।

খেজুর খেলে খুব দ্রুত রক্তে শর্করার মাত্রা স্বাভাবিক হয় এবং দুর্বলতা কেটে যায়। তাই ইফতারের সঙ্গে সঙ্গে মাথা ঘোরা বা শরীর কাঁপা কমে যায়।

দ্বিতীয়ত, হজমে সহজ ও পাকস্থলীর ওপর চাপ কম

দীর্ঘ সময় খালি থাকার পর পাকস্থলী অত্যন্ত সংবেদনশীল থাকে। ভারী খাবার দিয়ে ইফতার শুরু করলে গ্যাস্ট্রিক, বুকজ্বালা ও বদহজম হয়।

খেজুর খুব সহজে হজম হয় এবং পাকস্থলীকে ধীরে ধীরে খাবারের জন্য প্রস্তুত করে। এতে হঠাৎ করে পেটে চাপ পড়ে না।

আরও পড়ুনঃ রমজানে চা-কফি পানের সঠিক সময় ও পরিমাণ।

তৃতীয়ত, পানিশূন্যতা দূর করতে সাহায্য করে

খেজুরে রয়েছে প্রাকৃতিক মিনারেল যেমন পটাশিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম ও সোডিয়াম। এগুলো শরীরের পানিশূন্যতা দূর করতে সাহায্য করে।

ইফতারের সময় খেজুর ও পানি একসঙ্গে খেলে শরীর দ্রুত হাইড্রেট হয় এবং ক্লান্তি কমে।

চতুর্থত, হৃদযন্ত্র ও রক্তচাপের জন্য উপকারী

খেজুরে থাকা পটাশিয়াম হৃদযন্ত্রের কার্যক্ষমতা ঠিক রাখে এবং রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে। রোজার পর হঠাৎ ভারী খাবার খেলে হার্টের ওপর চাপ পড়ে,

কিন্তু খেজুর দিয়ে ইফতার শুরু করলে ধীরে ধীরে শরীর স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসে।

পঞ্চমত, অতিরিক্ত খাওয়ার প্রবণতা কমায়

খেজুর পেট ভরা অনুভূতি তৈরি করে। ফলে ইফতারের সময় হঠাৎ অতিরিক্ত ভাজাপোড়া বা ভারী খাবার খাওয়ার প্রবণতা কমে যায়।

এতে বদহজম ও ওজন বাড়ার ঝুঁকি কম হয়।

আরও পড়ুনঃ সাহরিতে ভাত নাকি রুটি? কোনটি খেলে ক্ষুধা কম লাগবে?

রাসূলুল্লাহ (সা.) সহজ, প্রাকৃতিক ও উপকারী খাবার পছন্দ করতেন। তিনি বলেছেন,

“মানুষের জন্য সবচেয়ে খারাপ পাত্র হলো পেট।” (তিরমিজি, ইবনে মাজাহ)

এই হাদিস আমাদের শেখায়, ইফতারে পরিমিত ও হালকা খাবার গ্রহণ করা উচিত। খেজুর সেই আদর্শ খাবারের একটি উদাহরণ।

খেজুর দিয়ে ইফতার শুরু করার পেছনে রয়েছে গভীর বৈজ্ঞানিক ও ইসলামী প্রজ্ঞা। এটি দ্রুত শক্তি জোগায়, পাকস্থলীকে প্রস্তুত করে, পানিশূন্যতা দূর করে, হৃদযন্ত্রকে সুরক্ষা দেয় এবং অতিরিক্ত খাওয়া থেকে বিরত রাখে।

তাই খেজুর দিয়ে ইফতার শুরু করা শুধু সুন্নাহ পালন নয়, বরং শরীর সুস্থ রাখার একটি বৈজ্ঞানিক ও স্বাস্থ্যসম্মত উপায়।

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

মন্তব্য করুন

X