বৃহস্পতিবার
১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ৭ ফাল্গুন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
বৃহস্পতিবার
১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ৭ ফাল্গুন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সারাদিন সতেজ থাকতে সাহরিতে যেসব খাবার এড়িয়ে চলবেন

এনপিবি ডেস্ক
প্রকাশ : ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৬:১৪ পিএম
ছবি সংগৃহীত
expand
ছবি সংগৃহীত

রমজানে সাহরি হলো রোজাদারের দিনের শক্তির মূল উৎস। সাহরিতে কী খাচ্ছেন, তার ওপর নির্ভর করে সারাদিন শরীর কতটা সতেজ থাকবে।

ভুল খাবার নির্বাচন করলে তৃষ্ণা, দুর্বলতা, মাথাব্যথা, গ্যাস্ট্রিক ও ক্লান্তি দ্রুত এসে যায়। তাই সাহরিতে কিছু খাবার বিশেষভাবে এড়িয়ে চলা জরুরি।

রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন,

“তোমরা সাহরি খাও, কেননা সাহরিতে বরকত আছে।” (সহিহ বুখারি, সহিহ মুসলিম)

আরও পড়ুনঃ সাহরিতে ভাত নাকি রুটি? কোনটি খেলে ক্ষুধা কম লাগবে?

এই হাদিস থেকে বোঝা যায়, সাহরি শুধু খাওয়ার বিষয় নয়, বরং বরকতময় ও স্বাস্থ্যসম্মত খাবার গ্রহণ করাই মূল উদ্দেশ্য।

প্রথমত, অতিরিক্ত লবণযুক্ত খাবার

আচার, লবণাক্ত ভাজা খাবার, চিপস, শুকনো মাছ বা অতিরিক্ত লবণ দেওয়া তরকারি সাহরিতে খাওয়া উচিত নয়। লবণ শরীর থেকে পানি বের করে দেয়

এবং তৃষ্ণা বাড়ায়। ফলে রোজার মাঝামাঝি সময়েই মুখ শুকিয়ে যায় ও দুর্বলতা আসে। চিকিৎসাবিজ্ঞানের মতে, বেশি লবণ খেলে ডিহাইড্রেশন দ্রুত হয়।

দ্বিতীয়ত, ভাজাপোড়া ও তেলযুক্ত খাবার

পুরি, পরোটা, ডিপ ফ্রাই করা খাবার, সমুচা বা অতিরিক্ত তেলে ভাজা ডিম সাহরিতে খেলে হজমে সমস্যা হয়। এসব খাবার পাকস্থলীতে ভারী চাপ সৃষ্টি করে এবং সারাদিন অলসতা ও গ্যাসের সমস্যা তৈরি করে।

রাসূলুল্লাহ (সা.) অতিরিক্ত খাওয়া ও ভারী খাবার পছন্দ করতেন না। তিনি বলেছেন,

“মানুষের জন্য সবচেয়ে খারাপ পাত্র হলো তার পেট।” (তিরমিজি, ইবনে মাজাহ)

আরও পড়ুনঃ খেজুর দিয়ে ইফতার শুরু করার বৈজ্ঞানিক কারণ কী?

তৃতীয়ত, চা ও কফি

সাহরিতে বেশি চা বা কফি পান করলে প্রস্রাবের পরিমাণ বেড়ে যায়, ফলে শরীর দ্রুত পানিশূন্য হয়। এতে মাথাব্যথা, দুর্বলতা ও অস্থিরতা দেখা দিতে পারে।

ক্যাফেইন ঘুমের ওপরও প্রভাব ফেলে, যার কারণে দিনের বেলায় ক্লান্তি বেড়ে যায়।

চতুর্থত, অতিরিক্ত মিষ্টি খাবার

মিষ্টি, কেক, মিষ্টান্ন বা অতিরিক্ত চিনি দেওয়া খাবার সাহরিতে খাওয়া উচিত নয়। এগুলো রক্তে শর্করা দ্রুত বাড়ায় এবং কিছুক্ষণ পর দ্রুত কমে যায়।

ফলে হঠাৎ ক্ষুধা লাগে ও শরীর দুর্বল হয়ে পড়ে। দীর্ঘ সময় শক্তি ধরে রাখার জন্য ফাইবার ও প্রোটিন দরকার, মিষ্টি নয়।

পঞ্চমত, ঝাল ও মসলাযুক্ত খাবার

ঝাল খাবার পাকস্থলীকে উত্তেজিত করে এবং গ্যাস্ট্রিক, বুকজ্বালা ও তৃষ্ণা বাড়ায়। যারা গ্যাস্ট্রিক বা আলসারে ভোগেন,

আরও পড়ুনঃ রমজানে 'কিটো ডায়েট' (Keto Diet) করা কি নিরাপদ?

তাদের জন্য ঝাল খাবার বিশেষভাবে ক্ষতিকর। রোজার সময় এসব সমস্যা আরও তীব্র হতে পারে।

ইসলাম আমাদের পরিমিত ও সহজপাচ্য খাবার গ্রহণের নির্দেশ দেয়। আল্লাহ তায়ালা বলেন,

“তোমরা খাও ও পান কর, কিন্তু অপচয় করো না।” (সূরা আরাফ: ৩১)

এই আয়াত প্রমাণ করে, সাহরিতে অস্বাস্থ্যকর ও অতিরিক্ত খাবার পরিহার করাই উত্তম।

সারাদিন সতেজ থাকতে সাহরিতে লবণাক্ত, ভাজাপোড়া, চা-কফি, অতিরিক্ত মিষ্টি ও ঝাল খাবার এড়িয়ে চলা উচিত। এসব খাবার তৃষ্ণা বাড়ায়, হজমে সমস্যা সৃষ্টি করে এবং দুর্বলতা আনে।

সাহরিতে হালকা, ফাইবার ও প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবার এবং পর্যাপ্ত পানি গ্রহণ করলে শরীর দীর্ঘ সময় শক্তিশালী ও সতেজ থাকে। ইসলামের শিক্ষা অনুযায়ী, সাহরি হবে পরিমিত, সহজপাচ্য ও বরকতময়।

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

মন্তব্য করুন

X