

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


হার্টে রিং (স্টেন্ট) পরানো বা বাইপাস সার্জারি করা রোগীরা রোজা রাখতে পারবেন কি না, এটি সম্পূর্ণ নির্ভর করে রোগীর বর্তমান শারীরিক অবস্থা, ওষুধের ধরন এবং ডাক্তারের পরামর্শের উপর। সব রোগীর জন্য এক নিয়ম প্রযোজ্য নয়।
যেসব রোগী রিং বা বাইপাস করার পর এখন সুস্থ, বুকব্যথা নেই, শ্বাসকষ্ট নেই, রক্তচাপ ও সুগার নিয়ন্ত্রণে আছে এবং নিয়মিত চেকআপে সমস্যা ধরা পড়েনি
তারা সাধারণত রোজা রাখতে পারেন। তবে শর্ত হলো, ওষুধ খাওয়ার সময়সূচি ঠিকভাবে মেনে চলতে হবে এবং শরীর দুর্বল হলে রোজা ভেঙে ফেলতে হবে।
আরও পড়ুনঃ উচ্চ রক্তচাপ (High BP) থাকলে রোজা রাখার নিয়ম ও সতর্কতা।
কিন্তু যেসব রোগীর সাম্প্রতিক সময়ে হার্ট অ্যাটাক হয়েছে, নতুন করে রিং বসানো হয়েছে, বা বাইপাস অপারেশনের পর এখনো সম্পূর্ণ সুস্থ হননি
তাদের জন্য রোজা রাখা ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। কারণ এই সময় শরীরের নিয়মিত ওষুধ, পর্যাপ্ত পানি ও পুষ্টি খুব জরুরি।
দীর্ঘ সময় না খেয়ে থাকলে রক্তচাপ কমে যেতে পারে, বুকব্যথা বাড়তে পারে বা হঠাৎ দুর্বল হয়ে পড়ার আশঙ্কা থাকে।
হার্টের রোগীরা সাধারণত যেসব ওষুধ খান, যেমন ব্লাড থিনার, প্রেসার ও হার্টের ওষুধ, সেগুলো নির্দিষ্ট সময় মেনে খাওয়া প্রয়োজন। যদি দিনে একবার বা দুইবার ওষুধ খাওয়ার মাধ্যমে রোজার সময়ের সঙ্গে মিলিয়ে নেওয়া যায়,
আরও পড়ুনঃ রোজা অবস্থায় ডিহাইড্রেশন বা পানিশূন্যতা বুঝবেন কীভাবে?
তাহলে অনেক ক্ষেত্রে রোজা রাখা সম্ভব হয়। কিন্তু দিনে তিনবার বা চারবার ওষুধ প্রয়োজন হলে রোজা রাখা কঠিন ও ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।
রোজা রাখতে চাইলে কিছু সতর্কতা মানা জরুরি। সেহরিতে খুব ভারী বা লবণযুক্ত খাবার না খাওয়া, পর্যাপ্ত পানি পান করা, ইফতারে হঠাৎ বেশি খেয়ে না ফেলা
এবং তেল-চর্বিযুক্ত খাবার এড়িয়ে চলা উচিত। ধূমপান সম্পূর্ণ পরিহার করতে হবে। পাশাপাশি অতিরিক্ত কাজ বা রোদে চলাফেরা কমাতে হবে।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, নিজের সিদ্ধান্তে রোজা রাখা উচিত নয়। অবশ্যই কার্ডিওলজিস্ট বা চিকিৎসকের সঙ্গে পরামর্শ করে নিতে হবে।
আরও পড়ুনঃ রমজানে ধূমপান ছাড়ার বৈজ্ঞানিক ও সহজ কৌশল।
ডাক্তার রোগীর অবস্থা দেখে বলবেন রোজা রাখা নিরাপদ হবে কি না এবং ওষুধের সময়সূচি কীভাবে ঠিক করতে হবে।
সংক্ষেপে বলা যায়, হার্টে রিং বা বাইপাস করা রোগীরা রোজা রাখতে পারবেন, যদি তারা স্থিতিশীল অবস্থায় থাকেন এবং চিকিৎসক অনুমতি দেন।
কিন্তু অসুস্থতা বাড়লে বা ঝুঁকি থাকলে ইসলাম অনুযায়ী রোজা না রেখে পরে কাজা করা বা ফিদইয়া দেওয়া বৈধ ও নিরাপদ পথ।
মন্তব্য করুন

