

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


রোজা শুধু খাওয়া-পান না করার নাম নয়। এটি হলো নফস ও ইন্দ্রিয় সংযমের ইবাদত।
তাই রোজা অবস্থায় গালি বা অভদ্র ভাষা ব্যবহার করলে রোজার সওয়াব কমে যায় এবং গুনাহ হয়, যদিও রোজা ভাঙে না।
১. হুকুম
রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: “যে ব্যক্তি রোজা রাখছে, তার যেন কেবল মুখ ও জিহ্বা সংযমে থাকে।” (সহিহ বুখারি ও সহিহ মুসলিম)
আরও পড়ুনঃ রোজা রেখে চুল কালার বা ডাই করা যাবে কি?
অন্য হাদিসে এসেছে:
“রোজা শুধু ক্ষুধা ও তৃষ্ণা থেকে বিরত থাকা নয়; গালি-গালাজ ও খারাপ আচরণ থেকেও বিরত থাকা।”
অর্থাৎ গালি দেওয়া রোজার সওয়াব কমিয়ে দেয়, এবং আল্লাহর নৈকট্য অর্জনের মূল উদ্দেশ্য নষ্ট হয়।
২. করণীয় ধাপসমূহ
ক. তওবা করা সঙ্গে সঙ্গে আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাওয়া।
উদাহরণ দোয়া:
“আস্তাগফিরুল্লাহাল-আজীমা মিন কুল্লি জিল্লা ও আতুবু ইলাইহ।” (অর্থ: আমি মহান আল্লাহর কাছে সব ভুলের জন্য ক্ষমা চাইছি এবং তার কাছে তওবা করছি।)
খ. ব্যক্তিকে ক্ষমা চাওয়া ও পুনরায় সঠিক আচরণ
যাকে গালি দেওয়া হয়েছে তার কাছে ক্ষমা চাওয়া উত্তম। রোজার বাকি সময় সংযমী হওয়া।
আরও পড়ুনঃ মুখে বা শরীরে লোশন/ক্রিম মাখলে কি রোজা হয়?
গ. ক্ষতি পূরণ করা
সম্ভব হলে মন্দ কাজের বদলে ভালো কাজ বা সদকা করা উত্তম।
৩. বিশেষ সতর্কতা
রোজা অবস্থায় রাগ বা অভদ্র আচরণ রোজার সওয়াব কমিয়ে দেয়। শাওয়াল, রমজান বা অন্য নফল ইবাদতে বেশি সতর্ক থাকা উত্তম।
সংক্ষিপ্ত সিদ্ধান্ত
গালি বা খারাপ ভাষা ব্যবহার করলে রোজার সওয়াব কমে যায়, তবে রোজা ভাঙে না। সঙ্গে সঙ্গে তওবা ও ক্ষমা চাওয়া জরুরি।
আরও পড়ুনঃ রোজা অবস্থায় মিথ্যা কসম খেলে করণীয় কী?
রোজার বাকি সময় সংযম বজায় রাখা উত্তম।
রোজার প্রকৃত উদ্দেশ্য হলো নফস ও ইন্দ্রিয় সংযমে রাখা। তাই গালি বা খারাপ আচরণ রোজার সওয়াব ক্ষুণ্ণ করে।
রোজা অবস্থায় সংযমী থাকা, ক্ষমা চাওয়া ও ভদ্র আচরণ করা সবচেয়ে উত্তম।
মন্তব্য করুন

