

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


রমজান মাসের পর শাওয়াল মাসে ৬টি নফল রোজা রাখা অত্যন্ত ফজিলতপূর্ণ আমল। রাসূলুল্লাহ (সা.) এ রোজার ব্যাপারে বিশেষ সুসংবাদ দিয়েছেন। এটি ফরজ নয়, তবে সুন্নতে মুয়াক্কাদা নয়; বরং গুরুত্বপূর্ণ নফল ইবাদত।
শাওয়ালের ৬ রোজার ফজিলত
রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন,
“যে ব্যক্তি রমজানের রোজা রাখল, এরপর শাওয়াল মাসে ছয়টি রোজা রাখল, সে যেন পুরো বছর রোজা রাখল।” সহিহ মুসলিম
আরও পড়ুনঃ গান-বাজনা শুনলে কি রোজার সওয়াব কমে যায়?
এর ব্যাখ্যা হলো রমজানের ৩০ রোজা = ৩০ × ১০ = ৩০০ নেকি শাওয়ালের ৬ রোজা = ৬ × ১০ = ৬০ নেকি
মোট = ৩৬০ নেকি যা পুরো বছরের সমান।
অর্থাৎ, এই ৬ রোজার মাধ্যমে এক বছরের রোজার সওয়াব পাওয়া যায়।
শাওয়ালের ৬ রোজা রাখার শর্ত
প্রথমে রমজানের ফরজ রোজা পূর্ণ করতে হবে।
যাদের রমজানের কাজা রোজা আছে (হায়েজ, অসুস্থতা, সফর ইত্যাদির কারণে), তাদের উত্তম হলো আগে কাজা আদায় করা, তারপর শাওয়ালের ৬ রোজা রাখা।
আরও পড়ুনঃ নাটক বা সিনেমা দেখলে কি রোজা ভেঙে যায়?
তবে কিছু আলেম বলেছেন, কাজা থাকলেও শাওয়ালের নফল রোজা রাখা যাবে, কিন্তু পূর্ণ ফজিলত পেতে হলে আগে কাজা আদায় করাই উত্তম।
শাওয়ালের ৬ রোজা রাখার নিয়ম
এই ৬টি রোজা একটানা রাখা বাধ্যতামূলক নয়। চাইলে একটানা ৬ দিন রাখতে পারে
বা শাওয়াল মাসের ভেতরে আলাদা আলাদা দিনে রাখতে পা। যেমন ২, ৪, ৬, ৮, ১০, ১২ তারিখে বা সপ্তাহে দুই দিন করে।
যেভাবেই হোক, শাওয়াল মাসের মধ্যেই ৬টি পূর্ণ করতে হবে। কোন দিনগুলোতে রাখা যাবে না।
শুধু ঈদের দিন (শাওয়াল ১ তারিখ) রোজা রাখা হারাম। ঈদের পর থেকে শাওয়াল মাসের শেষ দিন পর্যন্ত যেকোনো ৬ দিন রোজা রাখা যাবে।
নিয়ত করার নিয়ম
নফল রোজার নিয়ত ফজরের আগে বা সূর্য ঢলার আগ পর্যন্ত করা যায় (যদি কিছু না খেয়ে থাকে)। মনে মনে নিয়ত করলেই যথেষ্ট।
নিয়তের উদাহরণ (মনে মনে): আমি আল্লাহর জন্য শাওয়াল মাসের নফল রোজা রাখার নিয়ত করছি।
আরও পড়ুনঃ ঈদের নামাজের সঠিক নিয়ম ও নিয়ত।
শাওয়ালের রোজার আরও উপকারিতা
রমজানের রোজার ত্রুটি-বিচ্যুতি পূরণ হয় নফসের সংযম বজায় থাকে
সারা বছর ইবাদতের অভ্যাস তৈরি হয় আল্লাহর নৈকট্য লাভ করা যায়
গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতা
এ রোজাকে ফরজ বা বাধ্যতামূলক মনে করা যাবে না। যে রাখতে পারবে না, তার কোনো গুনাহ নেই। কিন্তু যে রাখবে, সে বড় সওয়াবের অধিকারী হবে।
শাওয়ালের ৬ রোজা অত্যন্ত ফজিলতপূর্ণ নফল ইবাদত। এতে এক বছরের রোজার সওয়াব পাওয়া যায়। ঈদের দিন ছাড়া শাওয়াল মাসের যেকোনো ৬ দিন রাখা যায়।
উত্তম হলো আগে কাজা রোজা আদায় করে তারপর এই নফল রোজা রাখা।
রমজানের পরেও ইবাদতের ধারাবাহিকতা বজায় রাখার জন্য শাওয়ালের ৬ রোজা একটি মহান সুযোগ।
মন্তব্য করুন

