

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


কর্মক্ষেত্রে দীর্ঘদিন ধরে চলা বঞ্চনা, বৈষম্য ও শোষণের শৃঙ্খল ভাঙতে দক্ষিণ কোরিয়ার রাজধানী সিউলে বিশাল বিক্ষোভ ও সমাবেশ পরিচালনা করেছেন অভিবাসী শ্রমিকেরা।
রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) দুপুর ২টায় ‘অভিবাসী শ্রমিক ইউনিয়ন’ (এমটিইউ)-এর আহ্বানে ‘সিউল আঞ্চলিক কর্মসংস্থান ও শ্রম অফিস’-এর সামনে এই ঐতিহাসিক জাতীয় সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আগত হাজারো শ্রমিকের উপস্থিতিতে রাজপথ অধিকার আদায়ের এক উত্তাল মিছিলে রূপ নেয়।
প্রেসিডেন্সিয়াল ভবনের অভিমুখে পদযাত্রা ও উড়ন্ত বিমানের প্রতীকী প্রতিবাদ
সমাবেশ শেষে আন্দোলনকারীরা সিউলের প্রেসিডেন্সিয়াল ভবন অভিমুখে এক প্রতিবাদী পদযাত্রায় অংশ নেন। সেখানে পৌঁছে তারা এক অনন্য ও প্রতীকী প্রতিবাদে মেতে ওঠেন। কর্মস্থল পরিবর্তনের পূর্ণ স্বাধীনতা ও শোষণের শিকল থেকে মুক্তির বার্তা নিয়ে প্রবাসীরা আকাশে উড়িয়ে দেন অসংখ্য কাগজের বিমান।
১০ বারের বৈঠকেও মেলেনি সুনির্দিষ্ট সমাধান
সমাবেশে বক্তারা ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, E-9 ও E-7 ভিসাধারী শ্রমিকদের কর্মস্থল পরিবর্তন ও মেয়াদ বৃদ্ধির প্রতিশ্রুতি দিয়েও কোরীয় সরকার তা কার্যকর করছে না। এই সংকট নিরসনে এমটিইউ সরকারের সাথে ১০ বার আলোচনায় বসলেও এখন পর্যন্ত কোনো সুনির্দিষ্ট সমাধান আসেনি। বক্তারা জোরপূর্বক শ্রম ব্যবস্থার অবসান এবং সকল অভিবাসী শ্রমিকের সমান অধিকার নিশ্চিত করার আহ্বান জানান। তারা বলেন, "প্রবাসীরা করুণার পাত্র নন; মাথার ঘাম পায়ে ফেলে কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে তারা তাদের ন্যায্য মানবাধিকার দাবি করছেন।"
ঐক্যের বার্তা ও সংগঠনের আহ্বান
অনুষ্ঠানের সমাপনী পর্বে অভিবাসী শ্রমিক ইউনিয়ন পরিষদের প্রধান ও সিনিয়র সহ-সভাপতি শেখ আল মামুন, সহ-সভাপতি ফয়েজ আহমেদ পলাশ এবং সদস্য মো. মামুন দূর-দূরান্ত থেকে আসা প্রবাসীদের ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানান। প্রবাসীদের উদ্দেশ্যে তারা বলেন, "নীরব থাকলে অন্যায়ের মাত্রা আরও বাড়বে। অধিকার আদায়ে ঐক্যের বিকল্প নেই।" নিজেদের আইনি সুরক্ষা ও মৌলিক অধিকার প্রতিষ্ঠায় আন্দোলন জোরদার করার লক্ষ্যে তারা সকল অভিবাসী শ্রমিককে এমটিইউর সাথে যুক্ত হওয়ার জোর আহ্বান জানান।

